ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

আটাশির বন্যা দেখিনি, ২০১৭ তে এসে দেখলাম। বন্যা যে আসলে জনজীবনকে কতটা বিপর্যস্ত করে তোলে তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না।

বাংলাদেশের জেলাগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম অবহেলিত একটি জেলা। অন্যান্য জেলার তুলনায় যেকোন সুযোগ সুবিধা থেকে অনেকটা বঞ্চিত। সরকারি অনুদান অতি সামান্য। বাস্তবতার আলোকে বিচার করলে কুড়িগ্রামকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা। কিন্তু হয় তার উল্টো।

বন্যা যেন এই এলাকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। বন্যার পানিতে ভাসা অনেকটা অভ্যাস হয়ে গেছে। বর্ষামৌসুম মানেই বন্যা। প্রতিবছর অন্ততপক্ষে একবার খবরের শিরোনাম হয় বন্যার কারণেই। আর এটাকে কেন্দ্র করে টিকে আছে এ অঞ্চলের রাজনীতি। বন্যা যেন নিজেকে প্রচার করার মাধ্যম। বন্যার সময় হাটুপানিতে নেমে একটা সেলফি, অতঃপর মিডিয়া কভারেজ। ব্যস! হয়ে গেলো দুখী মানুষের নেতা। ভুক্তভোগীর কপালে জুটলো একঠোঙ্গা সাদামুড়ি আর নেতার পকেট ভারি। দারিদ্র্যতা ও বন্যাকে ফেরি করে এ অঞ্চলের বড় বড় মহাজনেরা।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো আসলে কেউই দেখেনা, যেন দেখার কেউ নেই। কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি এবার চরম আকার ধারন করছে। পূর্বের সকল রেকর্ডকে ভেঙ্গে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে, পুরো জেলাকে গ্রাস করবে বলে। জেলার ৯টি উপজেলাই বন্যার কবলে। ধরলা ও তিস্তার বাঁধ ভেঙ্গে পানি মুহুর্তেই ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে, কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষজন যখন রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে, সেখানেও গণেশ গেছে উল্টো। ভুরুঙ্গামারি টু কুড়িগ্রাম এবং কুড়িগ্রাম টু রংপুর/ঢাকা মহাসড়কেও হাটুপানি। গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত। আঙ্গিনায় পানি, ঘরের ভেতর পানি, যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, ক্ষেতের ফসল সব শেষ। পুকুরের মাছ রাতারাতি উধাও। হাট-বাজার,রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব পানির নিচে। ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রায় ৮ লক্ষ মানুষ পানিবন্দী। সবমিলিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন চরম বিপন্ন।

শুকনো মৌসুমে পানি পানি করে হাহাকার করলেও ওপারের দাদাবৌদিরা পানি দিতে নারাজ, অথচ এখন তাদেরই নেমে আসা ঢলে ভাসছি আমরা। দাদাবৌদিদের দয়া বুঝি এবার হলো! যা হোক, বন্যার্ত মানুষের জন্য সহযোগীতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রনে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছি।