ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

“সখি তুমি কার” নামে ত্রিভুজ প্রেমের একটা সিনেমা ছিল। নায়ক দু’জন কিন্তু নায়িকা একজন, এক নায়িকাকে নিয়ে দুজনের টানাটানি। এরকম ত্রিভুজ প্রেমের আরো অনেক সিনেমা আছে, যেখানে এক নায়িকাকে নিয়ে দুজনের টানাপড়েন। ঠিক সেরকই অবস্থা বর্তমান রাজনীতিতে। এখানে নায়িকার চরিত্রে আছে গণতন্ত্র অার নায়কের চরিত্রে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি জোট-মহাজোট।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি নিয়ে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে এবং দেশে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি সফল হতে পারেনি। ফলে তারা এদিনটাকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগ সংবিধানের দোহাই দিয়ে তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে নির্বাচন করে। কিন্তু সে নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। মানুষ ভয়ের কারণেই হোক কিংবা অন্যকোন কারণে হোক, সেদিন ভোট দিতে যায়নি, একান্তই আওয়ামী ঘরানার ভোটার ছাড়া। এমনকি ১৫৩ টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় এমপি নির্বাচিত হয়।

সেসময় গ্রামের এক ভোটার আক্ষেপ করে বলেছিলেন “ভোটের একটা বিড়িও খাইতে পারলাম না আর তাজুল মিয়া এমপি হইলো।” কাজেই দেশের ইতিহাসে এটি একটি কলঙ্কজনক নির্বাচন হিসেবে প্রতীয়মান হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলেও নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তারপরও ক্ষমতাসীন দল এটাকে পরিচ্ছন্ন নির্বাচন হিসেবে দাবি করে আসছে। ৫ই জানুয়ারিকে তারা গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

ভোটার বিহীন একটা নির্বাচন এবং ১৫৩ টি আসনে রেডিমেড এমপি কি করে গণতন্ত্রকে লালন করে তা বোধগম্য নয়। বিএনপির মানুষ মারার আন্দোলনও যে কি করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হয় সেটাও বোঝা মুশকিল।

মানুষ মেরে যদি গণতন্ত্র রক্ষা করা হয় তবে সে গণতন্ত্রের কি প্রয়োজন? আর তাই যদি হয় তাহলে আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটি ভুল বলে প্রমাণিত হবে। গণতন্ত্রকে নিয়ে দু’দলের যে টানাটানি, গণতন্ত্র যদি কোন প্রাণী বা বস্তু হতো তাহলে মাঝ বরাবর চিঁড়ে দু’ভাগ হয়ে যেত।

আজ বারবার এ প্রশ্নটি মনের দরজায় উকি মারছে- “গণতন্ত্র তুমি কার, আওয়ামী লীগ না বিএনপির? নাকি এদেশের সহজ-সরল কোটি বাঙালির?”