ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

এ লড়াই কার বিরুদ্ধে ? যুদ্ধ কার বিরুদ্ধে ? প্রশ্নটা জামাতি শিবিরদেরকে করছি । জানি উত্তর পাব না তবুও প্রশ্ন, আপনাদের লড়াই কাদের বিরুদ্ধে ? সহিংসতা ছড়িয়ে কী প্রমাণ করতে চান ? সাঈদী, কাদের মোল্লা, মুজাহিদ, নিজামী ও গোলাম আজম আইনের উর্ধ্বে এটা ? দেশের চেয়ে ব্যক্তি বড় ? আপনারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, এটা ? নাকি আপনারা আপনাদের সরূপে আবর্তিত হয়েছেন ফের ? আপনারা দেশের স্বাধীনতা কখনো মেনে নিতে পারেন নি, নাকি সেটা ?

একাত্তরে রাজাকার বাহিনী, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর কমান্ডার গোলাম আজম, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, সাঈদীসহ সবাই পাকিস্তানের স্বৈরশাসক কিংবা তাবেদার সরকারের কাছ থেকে ঢের সারা সুবিধা পেত । আপনারা কার কাছ থেকে পাচ্ছেন ? আর কী পাচ্ছেন ? তার মূল্য কি দেশ মাতার চেয়েও অনেক বেশি ? কে আপনাদের মাথায় এই ধ্বংসাত্বের ভূত ঢোকিয়ে দিলো ? যারাই দিয়ে থাকুক না কেন, আপনারা বুঝতেন পারেন না তারা এই দেশটাকে অর্থাত্ আপনার আমার মাতৃভূমিকে ভালোবাসে না ? এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব চায় না, এটা কি বলার অপেক্ষা রাখে ? মনে রাখবেন, তিন প্রকার জিহাদের মধ্যে একটি হচ্ছে, জিহাদে অতন অর্থাত্ নিজের দেশ কিংবা মাতৃভূমির পক্ষে লড়াই করা । আর আপনারা যা করছেন সেটা কোনোভাবেই ইসলামের মধ্যে পড়ে না বরং ইসলাম বিরোধী । আর যারা ইসলামের বিপক্ষে অবস্থান নেয়, আল্লাহতালাহ তাদেরকে ধিক্কার দেন এবং জাহান্নামে নিক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । বিশ্বাস হচ্ছে না ? সহি্ হাদিস ও কুরআনের তর্যমা (অনুবাদ)পড়ে দেখুন ।

একাত্তরে আপনারা যে সব অপকর্ম করেছিলেন নাকি দ্বিতীয়বার তার-ই পুনঃর্থান করতে চাচ্ছেন । একটা কথা মনে রাখবেন, এদেশে পাকিস্তানের ঘাতকরা অর্থাত্ আপনারা কিছুটা সুসংগঠিত হয়েছেন ও অপশক্তি সঞ্চয় করেছেন । স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি একেবারেই কমে গেছে এটা ভাবার মত অবকাশ নেই মোটেও । শাহবাগের দিকে তাকিয়েও তা বুঝতে পারছেন না ? আর পারার কথাও না । আপনারা যেমন একাত্তরে বুঝতে পারেন নি, এখনো পারবেন না ।

আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় কখনোই হবে না । কারণ শয়তান কখনো শুধরায় না । শয়তানের কাছে সুপথের আহবান অন্ধকারের মত ঠেকে । কিংবা সে কসমই খেয়েছে মানুষকে বিপথের দিকে আবাহন করার । আপনারা একাত্তরে ভেবে ছিলেন বাঙালিদের কী এমন শক্তি আছে যা দিয়ে তারা পাকিস্তানের শক্তিধর সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়বে ? এখানকার কোটি কোটি বাঙালিদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে হাত মিলালেন পাকিস্তানিদের সাথে । এদেশের লাখ লাখ মুক্তিকামী নীরহ মানুষকে হত্যা করলেন । হাজার হাজার মা বোনের সম্ভ্রম লোট করলেন । ভেবে ছিলেন এসব করে বাঙালিদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবেন । কিন্তু পারেন নি । বাঙালিদের মূল হাতিয়ার ছিল মনোবল, একগুচ্ছ স্বপ্ন এবং অপশক্তি ও জুলুমবাজদের হটানোর দৃঢ় প্রত্যয় । দুঃখের বিষয় পরাজিত হবার পরও তা আপানদের নজরে পড়ে নি কিংবা মগজে ঢোকে নি । মানুষ যখন পানিতে ডোবতে থাকে তখন বাচার জন্য হাতের কাছে খড় কোটা যা পায় তাই আকড়ে ধরে । স্বাধীন দেশে বাচার জন্য, নিজেদের কৃতকর্ম ঢাকার জন্য আপনারা মুমিনের বেশ ধরলেন । ধর্মকে নিলেন ঢাল হিসেবে । “শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না”বাংলা ভাষার এই সহজ প্রবাদটিও বুঝতে পারেন নি বা বুঝতে চেষ্টা করে নি । অন্যায় করলে শাস্তি পেতে হয় । আবার সেটা যদি হয় হত্যা ধর্ষণের মত জঘন্য অন্যায় তাহলে তো কোনো কথাই নেই । কিন্তু আপনারা এই চরম সত্যটিও ভুলে গেলেন । এবং এই দেশে বাস করে এই দেশের বিরুদ্ধেই একের পর এক ষড়যন্ত্র করতে শুরু করলেন । ফলাফল, ফাঁসির দড়ি । ঝুলতে হবেই, এর চেয়ে বড় সত্য নেই । যারা এখনো বুঝতে পারেন নি, বুঝবার চেষ্টা করুন । শান্তির পথ বেছে নিন । মুষ্টিমেয় কয়েকজন ঘাতকের জন্য আমরা কোন এই সোনার দেশটাকে, আপনারা মাতৃভূমি, আশ্রয়স্থলকে কেন অস্থিতিশীল করে তুলছেন ? আপনারা কি এই দেশে বাস করতে চান না ? সাধারণ জনগণ যদি আপনাদের পাছায় লাথি মারা শুরু করে কোথায যাবেন ? পাকিস্তান আপনাদেরকে আর আশ্রয় দিবে ? দিবে না । অতএব, ভালো হয়ে যান। মানুষকে মানুষ ভাবুন আর আপরাধিকে অপরাধি । অপরাধি, অপরাধিই, হোক না সে আপনার আমার জন্মদাতা কিংবা কোনো নিকটাত্মীয় । সে সবার কাছেই ঘৃণ্য এটাই চরম ও পরম সত্য ।