ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

চার পাঁচ বছর আগেও আত্মঘাতী শব্দটির মর্মার্থ তেমন একটা অনুভব করতে পারতাম না । এক রাত্রে, আমার এক মিশরীয় বন্ধুর সাথে বসে এ্যারাবিক মুভি দেখতে ছিলাম । আসলে শুরুতে দেখতে ছিলাম ইংলিশ মুভি । বিজ্ঞাপন শুরু হওয়ায় মিশরীয় রিমোটের বটন টিপে চ্যানেল বদল করেই চেঁচিয়ে বলল, সুন্দর মুভি চলছে ।

ছবিটি এ্যারাবিক । না বুঝলেও বন্ধুর আগ্রহ দেখে নিরুপায়ের মতন কিছুক্ষণ দেখলাম সেই মুভি । তিনজন ছেলেকে নিয়ে মুভির মূল কাহিনী । ছবির কোনো জায়গায় দেখলাম সেই তিন তরুণ গিয়ে পৌছল এক চেক পয়েন্টের কাছে । সেখানে যেতেই দুই তরুণ চেক পয়েন্টের কাছেই আত্মগোপন করল আর বাকীজন ধীরে ধীরে চেক পয়েন্টে অবস্থানরত সেনাদের কাছে গেল । আলাপনের এক ফাঁকে ঐ তরুণ বম ব্লাস্ট করল এবং চেক পয়েন্টের সেনাদের সাথে নিজেও মরে গেল । ছবিটি এই পর্যায়ে আমার মনোযোগ কাড়ল ।

ছবি শেষ হবার পর আমি আমার সেই মিশরীয় বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলাম, ছবির কাহিনী কী? ছেলেটি কেনই বা এভাবে মারা গেল? মিশরীয় জানাল, এটা ছিল আত্মঘাতী হামলা । ওরা ইসরাইল যাবে যুদ্ধ করতে এটাই ছিল ছবির মূল কাহিনী ।

তারপর খবর, পত্রিকাতে যখনি কোনো আত্মঘাতী হামলার কথা শুনতাম ক্ষনিকের জন্যে হলেও আমি থমকে যেতাম । বিশেষ করে যখন শুনতাম শুক্রবারে জুমা-র নামাজের সময় পাকিস্তানের কোনো মসজিদে আত্মঘাতী হামলা হয়েছে । তখন শুধু একান্তে ভাবতাম, যারা আত্মঘাতী হামলা করে নিজের জীবন দিয়ে দেয় তাদেরকে এমন কী বলা হয় বা এমন কী বুঝানো হয় যার দরুন নিজ জীবনের উপর থেকে মায়া মমতা উঠে যায় ? পরে এই বিষয়ে কয়েকজন পাকিস্তানির সাথে আলাপও হযেছে, কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারে নি । কেউ বলেছে, এটা আমেরিকানদের চক্রান্ত । কেউ বলেছে, এটা ভারতের ষড়যন্ত্র। কিন্তু জবাব শোনে আমার মন ভরেনি ।

আজ 3রা মার্চ 2013 গ্রামের আমার এক বন্ধুকে ফোন করেছি । কম্পিত স্বরে বন্ধুটি জানাল, দেশের অবস্থা তো খুবই খারাপ দোস্ত !
আমি বললাম, কী হয়েছে?
বলল, চারিদিকে অশান্তি, হরতাল, মারামারি, মানুষ মরছে !
উড়িয়ে দেবার ছলে আমি বললাম, আরে কী বলছিস, মানুষের জীবন কী এতই সস্তা যে সাঈদীর জন্য জান দিয়ে দিবে ?
বন্ধু বলল, আগে আমিও এ রকম ভেবে ছিলাম । কিন্তু ঠিক তার উল্টো দেখছি । সাঈদীর জন্য মানুষ জীবন দিচ্ছে !

পাঁচ বছর আগে দেখা সেই এ্যারাবিয়ান ছবিটির মত বন্ধুর এই বাক্যটিও আমার মনোযোগ কাড়ল । সামান্য গম্ভীর স্বরে বললাম, কেন দিচ্ছে ? তারপর বন্ধুর কাছে যা জানতে পারলাম তার মর্মার্থ হচ্ছে এই, গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় প্রতি রাত্রে কিছু কিছু লোক বাড়ি বাড়ি (বিশেষ করে যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অসচ্ছল) যাচ্ছে যাদের বেশভূষা দেখ মনে হবে ঈমানদার, পরহেজগার ও আল্লাহওয়ালা । এই সকল ঈমানদারদের সাথে থাকে সাঈদী সাহেবের স্ব-হস্তে লেখা পত্র আর টাকার ব্যাগ । ঐ পত্রের মাধ্যমে সাঈদী দ্বীনের কাজে অর্থাত্ ইসলাম রক্ষার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে সকলের কাছে উদাত্ত আহবান । সাঈদী গেরান্টি দিয়ে বলেছে, আপনারা যারা জামাতে ইসলামির বর্তমানের কর্মসূচীতে যোগদান করে মৃত্যু বরণ করবেন তারা শহীদের দরজা পাবেন । বিনা হিসেবে জান্নাতে-ই ফোরদৌস বা আদম (শ্রেষ্ট)পাবে এবং আল্লাহতালার কাছে আল্লাহমা সাঈদী (ভন্ড) সেই জান্নাতের জন্য সুপারিশ করবে । আর শহীদের বাবা মা জামাতের পক্ষ থেকে পাচ্ছে নগদ চল্লিশ থেকে ষাট হাজার টাকা ।(রাতে যদি কারও বাড়িতে এসব নামধারী ভন্ডদেরকে দেখুন, হয় ঝাড়ু মেরে বিদায় করুন, না হয় পুলিশে খবর দিন ।

এতক্ষণ তো গম্ভীরগম্ভীর কথা বললাম, এখন একটু রসিকতা করছি । জামাত নেতা, মীর কাশেম কিংবা জামাতে আরও যারা টাকাওয়ালা আছে, তারা যদি টাকা দিয়ে জান্নাতে-ই ফেরদৌস ও আদম বুকড করতে পারে । বর্তমান সরকারের অর্থাত্ আমাদের আবুলেরা তো কম টাকা কামায় নি । তারা কি জান্নাতে দুই একটা কামরাও বুকড করতে পারল না ?