ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকেই একটি দরিদ্র দেশ । ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা এই দেশে অসহনীয় ধ্বংসজজ্ঞ চালায় । দেশের কল-কারখানা,স্কুল-কলেজ,মসজিদ-মন্দির, রাস্তা-ঘাট কিছুই তারা অক্ষত রাখেনি। লুট করে নিয়ে গেছে বহু সম্পদ। সেই থেকে এই পর্যন্ত দারিদ্রতা আমাদের পিছু ছাড়েনি।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর তথ্য অনুযায়ি,  ২০০৪ সালে দারিদ্র সীমার নীচে মানুষের বসবাস ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশের উপরে । যা বর্তমানে ৩৩ শতাংশের মত রয়েছে । গত এক দশকে বাংলাদেশে দারিদ্র্য নিরসনের হারে বেশ অগ্রগতি হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের নাম বিশ্বের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাথা পিছু আয়ও বর্তমানে খানিকটা বেরে দাঁড়িয়েছে । তবে তা এখনো আশানরুপ নয় ।
৫৬,৯৭৭ বর্গ মাইলের এই ছোট্ট দেশে ১৬ কোটি লোকের বসবাস । এর মধ্যে বাসস্থানহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১.৫ কোটি। অনেকে পাচ্ছেনা তিন বেলা দু’মুঠো ভাত। রাতদিন অবস্থান করছে ফুটপাথ কিংবা রেলষ্টেশনে। এই সব ছিন্নমূল মানুষের কি বেঁচে থাকার অধিকার নেই? নাকি ওরা জন্ম থেকেই অধিকারহীন?

প্রত্যেক সরকারই হয়তো দেশের এই প্রধান সমস্যা দূরীকরণ করার জন্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেয়। তবে তা সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হয়না দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতার কারনে ।

প্রতি বছর দুর্নীতির কারনে এ দেশের ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া আমাদের দেশে আন্দোলনের নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ডাকা হরতাল-অবরোধেও দেশের কোটি কোটি টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েই যাচ্ছে। মূলত এসব কারনেই দেশের দারিদ্রতা উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ।

দারিদ্রতা এবং বাংলাদেশ দু’টি যেন একে অপরের সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তাই এই দারিদ্রতা নামক অভিশাপটিকে যত দ্রুত সম্ভব সমাজ থেকে উপড়ে ফেলতে হবে । আর এর জন্যে চাই জনসচেতনতা । কেননা, সবার ঐক্যতাই পারে দেশ থেকে দারিদ্রতা চিরতরে দূর করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

Poverty

প্রতিবছর দুর্নীতির কারনে এ দেশের ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা।