ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 
Suranjit-Sen-Gupta_290514_0026

সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে একটি প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্নটি হলো  ‘অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাস্তবে কি সেভাবে চলছে? শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রাখার কথা বলে ব্যবসা করলে কেন ভ্যাট দিবেন না?’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকদের কাছে সে প্রশ্নও করেছেন তিনি। প্রশ্নটি ভয়াবহ গুরুত্বপূর্ণ। ভায়বহ এ কারণে বলছি যে, তিনি অতীব গুরুতর সত্য কথা বলেছেন। কারণ তিনি ‘সত্যবাদী’। কিন্তু আমার প্রশ্নটি হলো, তার এ প্রশ্নের জবাব কি শুধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরাই দিবে? মাননীয় সাংসদ কি নিজেকে কিংবা নিজের দলকে বাঁচাতে চাইছেন? নাকি ঘটনা অন্যদিকে ঘোরাতে চাইছেন?

 

সম্মাননীয় সাংসদ,

আপনি আরো বলেছেন, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতো অলাভজনক হওয়ার কথা ছিল। আসলে কি এগুলো অলাভজনক?” কিন্তু প্রশ্ন হলো এগুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নয় কেনো? এই দায় কার? শুধু অসাধু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের; আপনার/আপনাদের নয়।? সাধু, অসাধু দেখার দায়িত্ব কাদের? তাদের কাজ কি? এগুলো কি বিরোধীদলের নেতারা দেখেন? দেশকে বিপথগামীরা ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র করলে সরকারের দায়িত্ব কি আঙুল চোষা? নাকি সেগুলো আরো খারাপের দিকে ঠেলে দেওয়া?

হাঁ, মেনে নিলাম এগুলো অসাধু মালিকরা করছে, শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। নাকের ডগায় বসে ক্রমাগত হিসু করা সত্ত্বেও তারা শক্তিশালী হওয়ায় তাদের কে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কতো শক্তিশালী? দেশের আইনের চেয়েও? যদি তাই হয়, তাহলে আপনারা কী করছেন? এসব কথা শুনলে লজ্জা হয়! পারলে এসব বন্ধ করুন। আর না পারলে, দয়া করে আপনারা মুখ বন্ধ করুন।

 

সম্মাননীয় সাংসদ,

আপনি আরো বলেছেন, “সিলেট-চট্টগ্রামেও বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। পাস করলে আমার কাছে আসে চাকরির লাইগা। কিন্তু ইন্টারভিউ নিলে, লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা নিলে কিছুই পারে না। ইউজিসির এ বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজরদারি করা উচিত।” আমার প্রশ্ন হলো এই নজরদারিটা করবে কে? কোনো চরমপন্থী জঙ্গীদলের নেতা? এটা আপনার সরকারকেই করতে হবে। আপনার কথায় অস্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে এগুলোর সঙ্গে আপনার দলের লোক জড়িত! কিন্তু নিজের ঘরের লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। যাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন এগুলো দেগভাল করার, তারাও আপনাদের দলের। কে কার বিরুদ্ধে কথা বলছেন? শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়; কিন্তু মাছ দিয়ে শাক ঢাকা যায় না।

 

সম্মাননীয় সাংসদ,

শান্তির কাজ না করে শুধু কথা বলে  শান্তিতে ওবামা নোবেল পেতে পারেন। কারণ তাকে কেউই বিশ্বাস করে না। শান্তির কথা বলেছে এটাই ঢের। কিন্তু আপনাকে এখনো অনেকে বিশ্বাস করে, আপনার মতো নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। আত্ম সমালোচনা করতে শিখুন, এই সাধুদের আপনারাই  অসাধু করছেন এটা স্বীকার করুন। সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত মুখটা বন্ধ রাখুন। তা না হলে এটা শুধু আপনার দৈতসত্তারই জানান দেয়। শুধু নেতা হলে চলে না; যাদের দয়ায় নেতা হয়েছেন তাদের কল্যাণে কিছু অন্তত করুন।

 

লেখক ও সাংবাদিক