ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

১ নম্বর প্যাঁচালঃ মাত্র দুদিন আগে আমরা কত আড়ম্বরপূর্ণ ভালোবাসা দিবস উদযাপন করলাম! হ্যাঁ, আমি ১৪ই ফেব্রুয়ারীর কথাই বলছি।

কিন্তু ১৬ই ফেব্রুয়ারি দিনটাও যে কত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন সেদিকে আমাদের কারো খেয়াল নেই। আমরা অনেকেই জানি না, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানীর ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। যার নামটাই আজ আমরা ভুলতে বসেছি প্রায়, তার জন্ম-মৃত্যু মনে রাখার এতো সময় কই আমাদের? আমাদের স্মৃতি তো ঠাসা ভালোবাসা দিবস, বন্ধু দিবসের মত অনেক আরোপিত দিবসে। এই ভুলতে বসা মানুষদের মধ্যে আমিও একজন। দুর্ভাগ্যক্রমে এক পত্রিকার ছেঁড়া অংশ যদি হাতে না আসতো তাহলে আমারও মনে পড়তো না ক্ষণজন্মা এই বীর সেনানীর জন্ম ১৯১৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর। ওসমানীর জন্মস্থান সিলেটে বেশ কিছু সংগঠন তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছে হয়তো। কিন্তু জাতীয়ভাবে তার মৃত্যু ও জন্মবার্ষিকী পালনের উদ্যোগ তো আমার অন্তত চোখে পড়েনি। বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের খবরও তো দেখলাম এবং শুনলাম, কিন্তু কোন চ্যানেলেই এই ব্যাপারে কোন কিছু বলতে শুনলাম না।

২ নম্বর প্যাঁচালঃ একটু আগে একটা সিগারেট খেতে খেতে বিবিসি বাংলায় একটা নিউজ পড়লাম। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন বড়াত দিয়ে তারা বলছে, বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার কারণে প্রায় বিভিন্ন দেশের ২৫ কোটি পরিবার তাদের শিশুদের দেয়া খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, পেরু ও নাইজেরিয়ার মতো কিছু উন্নয়নশীল দেশের পরিবারের উপর চালানো গবেষণায় এই তথ্য পেয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটির মতে, আগামি ১৫ বছরে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫০ কোটি শিশুর খাদ্যের অভাবের কারণে শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে এবং তাদের ওজনের তুলনায় উচ্চতা কমে যাবে।

অথচ নিউজটা পড়তে পড়তেই আমি একটা বেনসন সিগারেট শেষ করলাম। আর বিশেষ কাগজে মোড়ানো এই তামাকটুকু কিনতে আমার ৭টা টাকা খরচ হয়েছে। এই ৭টা টাকা আমি পুড়িয়ে শেষ করলাম। এরকম ২টা সিগারেট এর টাকা দিয়ে এখনো আমাদের দেশে একটা পাউরুটি কিনতে পাওয়া যায় যা দিয়ে পুরোপুরি পেট না ভরলেও খিদে তো মেটে। আমি চেইন স্মোকার না। আমার কিছু বন্ধু আছে যারা খুব গর্ব করে বলে, আমার তো সারাদিনে ১০টা/১২টা সিগারেট না হলে পেটে ভাত হজমই হয়না। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার কারণে নাকি পৃথিবীজুড়ে প্রায় ২৫ কোটি পরিবার তাদের শিশুদের দেয়া খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

আমি আমার কথাও বলছি, যখন রাস্তায় কেউ ভিক্ষা চায়, তখন পকেট হাতড়ে ২ টাকার কোন নোট আছে কি না খুঁজে দেখি। যদি না থাকে, অবলীলায় বলে দেই মাফ করো। আর বাসায় এসে ৭ টাকা দামের তামাকে মোড়ানো কাগজ পুড়িয়ে যাই মনের সুখে। তখন একটুও মনে পড়েনা, রাস্তার ঐ ভিখারীটার কথা। এই আমাদের বিবেক…