ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

শিরোনাম দেখে অবাক হলেন খুব? দুধ আবার বানায় কিভাবে? তার উপর আবার মাত্র ৬২২ টাকায়? সব সম্ভবের এই বাংলাদেশে এই কাজটি করাও সম্ভব। মাত্র ৬২২ টাকায় তৈরী এক মণ দুধ বিক্রী হয় ১৫২০ টাকায়। সেটা নিয়ে যায় দেশব্যাপী নামী-দামী দুগ্ধ সরবরাহকারী কোম্পানীগুলো। অবশেষে নানা হাত ঘুরে আমাদের মত নিরীহ ভোক্তাদের বাসায়। মা পরম মমতায় সেই দুধ তুলে দেন ছেলে-মেয়েদের মুখে। অসুস্থ মানুষকে দুর্বলতা কাটাতে খাওয়ানো হয় সেই দুধ। বাড়ীতে মেহমান এলে বা কোন অনুষ্ঠানে সেই দুধে তৈরী মিষ্টান্ন দেয়া হয় আপ্যায়নে।

ফল-মূলে ফর্মালিন মেশানোর খবর তো পুরোনো, মাছে ফর্মালিন দেয়ার খবর আরো পুরোনো। কার্বাইড দিয়ে কলা পাকানোর ঘটনাও নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগে পত্রিকায় পড়েছিলাম, ফার্মের মুরগীর ডিম কে বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে সাদা হাঁসের ডিম বানানোর গল্প। বিশুদ্ধ বলতে শুধু এই দুধটুকুই ছিলো। কিন্ত আজ জানলাম সেই দুধেও ভেজাল। তাহলে খাবো কি? বাঁচবো কিভাবে? আমাদের দেশের নামী দামী কিছু দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাকি এই ভেজাল দুধের ক্রেতা। তারা তো পয়সা দিয়ে এমন ভেজাল দুধ ফেলে দেয়ার জন্য কেনেন না, তাই না? তাহলে টিভি তে যে খাঁটি দুধের বিজ্ঞাপন দেখি? সেটা তো আমার মনেও প্রশ্ন ভাই। ঐসব বিজ্ঞাপনের সুন্দর মুখগুলোর সুন্দর হাসির আড়ালে কি তবে শুধুই ফাঁকিবাজি? প্রকৃতপক্ষে আমরা ভেজাল দুধ-ই কিনে খাচ্ছি।

আমাদের দেশেরই কিছু উর্বর মষ্তিস্ক থেকে বের হয়েছে এই ভেজাল দুধ তৈরী ফর্মূলা। আর দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্মটি করে আসছে সিরাজগন্জের শাহজাদপুর উপজেলার কিছু দুগ্ধ ব্যবসায়ী। জানি না সারা দেশে এমন আরো কত ভেজাল দুধ তোৈরীর কারখানা আছে! ভ্রাম্যমাণ আদালত এর হাতে ধরা পড়ার সুবাদে আর সেই খবর জাতীয় পত্রিকায় আসায় শুধু এটাই জানতে পারলাম। তবে এটা বলতে পারি আজ ভেজাল দুধ তোৈরীর ফর্মূলাটা বলে দেয়ার পর হয়তো কোন কোন অতি উৎসাহী ব্লগার এটা চেষ্টা করে দেখবেন। কিন্তু সাধু সাবধান! ভেজাল দুধ তোৈরীর ভালো উপকরণ গুলোর মধ্যে একটা উপকরণ কিন্তু খুব-ই বিষাক্ত। কাজেই ভুলেও কম খরচে দুধ পাওয়ার জন্য এটা চেষ্টা করে দেখবেন না যেনো।

বাজারে নানা কারণে গরুর দুধের বেশ চাহিদা ছিলো এবং ক্রমেই সেটা এখন অনেক বেড়েছে। কিন্তু বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে না পেরে বা কিছু বাড়তি লাভ এর আশায় কিছু অসৎ দুধ ব্যবসায়ী শুরু করেছিলো ভেজাল দুধ বানানোর এই কার্যক্রম। আর দুঃখজনক হলেও সত্য দেশের নামকড়া কিছু দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই এই দুধ কিনে সরবরাহ করছিলেন সারা দেশে মানে আমাদেরকে গেলাচ্ছিলেন। আর আমরাও গাঁটের টাকা খরচ করে সেই ভেজাল দুধ কিনে খাচ্ছিলাম এবং খাওয়াচ্ছিলাম।

কিভাবে তৈরী করা হয় তাই ভাবছেন তো? বলে দিচ্ছি, শুনুন। একমণ দুধ তোৈরীতে আপনার ১০লিটার খাঁটি দুধ লাগবে। আরো লাগবে ২ লিটার সয়াবিন তেল, আধা কেজি চিনি আর মাত্র এক টাকার হলুদ রং বা কেমিক্যাল। প্রথমে একটি ব্লেন্ডার মেশিনে ভালো করে চিনি, তেল আর হলুদ মেশাতে হবে। তারপর দুধ আর বাকী ৩০ লিটার পানি মেশাত হবে। আর এভাবেই একমণ দুধ তোৈরীতে খরচ হবে শুধুমাত্র ৬২২টাকা। আর সেটা বিক্রী করা যায় ১৫২০ টাকায়। ১৫২০টাকা পাইকারী সরবরাহ মূল্য। আমাদের সাধারণ ভোক্তাদের কিন্তু তার চেয়ে বেশী দামে বাজার থেকে কিনতে হয় সেটা। সয়াবিন ও চিনি থাকার কারণে তোৈরী করা ভেজাল দুধে চর্বির ঘনত্ব এতো বেশী থাকে যে বাইরে থেকে বোঝার কোন উপায় থাকে না যে এগুলো ভেজাল দুধ।

আজকের “দৈনিক প্রথম আলো” পত্রিকার “সারা দেশ” পাতায় প্রকাশিত “সয়াবিন, চিনি, রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল দুধ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ থেকেই জানলাম এতো কিছু।
দুঃখ এখানেই যে, আমার দেশের উর্বর মষ্তিস্ক গুলো থেকে কি ভালো কিছু বের হতে পারে না? তারা কি তাদের মষ্তিস্কের কিছু অংশ ও ভালো কাজে ব্যয় করতে পারে না? ক্যান্সার, এইডস এর মতো রোগ গুলোতে মানুষ মরে। আমাদের মষ্তিস্ক গুলো কেন এরকম ঘাতক ব্যাধি থেকে মুক্তির ওষুধ আবিষ্কার করতে পারে না? কেন পারে না যানজট নিরসনের উপায় খুঁজে বের করতে? কেন পারে না দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সহ নানা চলমান সমস্যা নিরসনের উপায় বের করতে? কেনো?