ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আপনি চাকুরীজিবী বা ব্যবসায়ী, বা কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর বড় পদের কোন কর্মকর্তা। বা হতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কোন ছাত্র বা ভবঘুরে কিংবা বাউন্ডুলে যাকে বলা যায়। প্রতিদিনের মতই আপনার জীবনে আজও একটা নতুন সকাল এলো। অন্যসব দিনের মত আজও ঘুম থেকে উঠে যথারীতি দাঁত ব্রাশ, হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হওয়া। নাস্তার টেবিল পর্যন্ত সব ঠিক-ঠাক। অন্যান্য দিনের মতই নাস্তা সারলেন।

পত্রিকা পড়তে গিয়ে একটা ধাক্কা খেলেন। শিরোনামে দেখলেন না কোন রাজনৈতিক সহিংসতার খবর, বরঞ্চ শোভা পাচ্ছে দুই নেত্রী পাশাপাশি বসে হাসিমুখে চা খেতে খেতে গল্প করছে এমন একটি ছবি। দেশের সরকারী ও বিরোধী দল একত্রে দেশের উন্নয়নে কাজ করছে। সারা পত্রিকা খুঁজে শুধু উন্নয়নের কথা ব্যতিরেকে খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতির মত কোন খবর পেলেন না।

যথারীতি বাসার বাইরে বের হলেন। কেমন যেনো একটা পরিবর্তন মনে হচ্ছে চারিদিকে, কিন্তু মাথায় আসছে না। চারিদিক খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। সামনে এগুচ্ছেন আর হঠাৎ একটা পরিবর্তন ধরতে পারলেন। কেউ যেখানে সেখানে থুতু বা ময়লা ফেলছেনা। একটু কষ্ট হলেও কিছুদূর হেঁটে গিয়ে ডাস্টবিনে ফেলছে। কেউ এলোমেলো রাস্তা পার হচ্ছে না। কিছুদূর হেঁটে হলেও ওভারব্রীজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করছে। রাস্তায় কনিষ্ঠ পথচারীরা আপনাকে বা বয়স্ক কোন পথচারী দেখলেই হাসিমুখে সালাম/নমস্কার(যার যার ধর্ম অনুযায়ী) দিচ্ছে।

তৃষ্ণা পেয়ে গেলে রাস্তার পাশের চা-এর দোকানে ঢুকলেন। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ করলেন, গতকালকেও যে নোংড়া পরিবেশ দেখেছেন আজ আর তা নেই। চা-এর দোকানে কেউ আর সিগারেট খাচ্ছে না, রাজনীতি নিয়ে আলাপ করছে না, আলাপ করছে বইমেলায় প্রকাশিত নতুন কোন বই বা কোন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে যেটা সম্প্রতি বাজারে এসেছে।

আবার বেরুলেন রাস্তায়। রাস্তার পাশের দেয়াল গুলো দেখলেন একদম পরিষ্কার এবং রং করা। কোন দেয়াল লিখন বা পোস্টার নেই। এক আত্মীয়র অসুস্থতার খবর পেয়ে গেলেন হাসপাতালে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার, কোন ডাক্তার বা নার্স গোমড়া মুখে নেই। ডাক্তার-নার্সরা সবাই হাসিমুখে কথা বলছে, রোগী দেখছে। আগে রোগীর সাথে দেখা করতে যেতে চাইলে গেটম্যানকে বাম হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে না দিলে ওয়ার্ডে ঢোকা যেতো না। কিন্তু আজ গেটম্যান কে কিছু দিতে হলো না, হাসিমুখেই গেট খুলে দিলো।

রোগীর সাথে দেখা করে রাস্তায় আবার বেরুলেন। দেখলেন, রাস্তায় পুলিশ খালি হাতে ঘুরছে কোন অস্ত্র ছাড়াই। মানুষকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করছে পুলিশ, কাউকে ঠিকানা খুঁজে বের করতে সহযোগীতা করছে। কৌতুহলবশে একজন পুলিশকে অস্ত্র ছাড়া ঘোরার কারণ জিজ্ঞেষ করতেই জানা গেলো, চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারী থাকলে না অস্ত্র লাগে কিন্তু দেশে তো কোন চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারী বা সন্ত্রাসী নেই।
কাল-ও রাস্তার ধারে বস্তি দেখেছিলেন, ভিক্ষুক দেখেছিলেন ভিক্ষা করতে। কিন্তু আজ তেমন কিছু চোখে পড়ছে না, বরঞ্চ কাঁচাবাজারের দিকে গিয়ে সবাইকে দেখলেন ব্যাগভর্তি করে বাজার করে নিয়ে যাচ্ছে। শুনলেন, দেশে নাকি শায়েস্তা খানের আমলের চেয়েও সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বিদেশী পর্যটক রাস্তায় ঘুরছে, ছবি তুলছে, আমাদের দেশ দেখতে এসেছে তারা।

আবাক হচ্ছেন? কেউবা ভাবছেন, এরকম গাঁজাখুরি গল্প কেনো বলছি? শিরোনামেই তো বলেছি, “এমন যদি হতো”। একটু ভেবে দেখুন তো, বাংলাদেশ যদি এমন হতো স্বর্গ বললে কি ভুল হত? আমরা সবাই মিলে কি পারিনা দেশটা কে এমন ভাবে সাজাতে? আমরা যার যার অবস্থানে থেকে যতটুকু পারা যায়, চেষ্টা কি করে দেখতে পারিনা?