ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দোষ আমাদেরই | আমরাই তো ঘুরেফিরে হাসিনা অথবা খালেদাকে ক্ষমতায় বসাচ্ছি |

তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা না হয় জীবিকার তাগিদে নিজেদের বিকিয়ে দেয়; আমরা, সাধারণ জনসাধারণ, কেন দুর্নীতিবাজ নেতা-নেত্রীদের সুযোগ দিচ্ছি আমাদের নিয়ে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে খেলার ? আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির এই রশি টানাটানিতে সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম হারাম; অথচ এই সাধারণ মানুষের দেয়া ক্ষমতা বলেই কিন্তু তারা জনসাধারণদের রশিতে বেঁধে টানাটানি করতে পারছে | এই রশি টানাটানির লড়াইয়ে একদিন যদি নিজামী-আমিনীরা রশি ছিনিয়ে নেয় তাহলে আমাদের আর সুদিনের স্বপ্ন দেখতে হবে না – আমাদের বরং দুঃস্বপ্নের তাড়া খেয়ে বেড়াতে হবে |

এই জোটের কিংবা ওই জোটের অযোগ্যদের ভোট না দিয়ে যদি কাউকেই ভোট না দেয়ার অধিকার থাকতো এবং জনগণ সেই অধিকার প্রয়োগ করতো – তাহলেই কেবল সুযোগ্যরা এগিয়ে আসতে পারতো এবং সুশাসন আশা করা যেতো | ভোট দেয়ার অধিকার থাকলে “না” ভোট দেয়ার অধিকারও তো থাকা উচিত | কাউকেই যদি আমি যোগ্য মনে না করি তাহলেও কি আমাকে ভোট দিতে হবে ? কেন আমি একজন অযোগ্য মানুষকে ভোট দিতে বাধ্য ? ভোট দেয়া নাগরিক অধিকার; কিন্তু এই অধিকার আমি কিভাবে প্রয়োগ করবো যদি প্রয়োগ করার মতো একজনও যোগ্য প্রার্থী না থাকে ? যতদিন পর্যন্ত এই আওয়ামী জোট কিংবা বিএনপি-জামাত জোটকে মানুষ ভোট দিতে বাধ্য হবে, ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে সুশাসন অসম্ভব |
জনসাধারণ অসাধারণ | জনসাধারণই পারে জনসাধারণকে মুক্তি দিতে – যদি জনসাধারণ অসাধারণ কিছু একটা করতে পারে | জনসাধারণ পারে “না” ভোটের দাবি তুলতে | এই ইন্টারনেটের যুগে জনসাধারণ পারে জনসাধারণকে একত্রিত করতে | “না” ভোটের অধিকার থাকলে একজন ভোটার, তার চোখে একজনও যোগ্য প্রার্থী না থাকলেও, স্বাচ্ছন্দে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে | “না” ভোটের জয় হলে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য হবে সুযোগ্য প্রার্থী খুঁজতে | অযোগ্য প্রার্থীরা পরাজিত হতে থাকলে ভালো মানুষদের রাজনীতিতে আসার সুযোগ হবে, আগ্রহ জন্মাবে | আমরা সুযোগ্য মানুষের নেতৃত্বে সুশাসন আশা করতে পারবো |

অতীতে জনসাধারণ একবার “না” ভোটের সুযোগ পেয়েছিল | সে সুযোগ তখন কাজে লাগানো যায়নি | আমাদের অসুস্থ রাজনীতিবিদেরাও জনসাধারণের হাতে “না” ভোটের মতো একটা অস্ত্র থাকুক তা চায়নি | “না” ভোট দেয়ার অধিকার না থাকলে না থাকুক | জনসাধারণ যদি একাট্টা হয়ে মাত্র একবার এই দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের ভোট দিতে অস্বীকার করে, তাহলে জনসাধারণের পরিবর্তে রাজনীতিবিদদেরই রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে |

জনসাধারণ – আসুন, আমরা নিজেরাই নিজেদের অধিকার আদায় করে নেই |