ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

সোমালি জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার ৫ মাস পর দেশে ফিরেছে বহুল আলোচিত বাংলাদেশী জাহাজ এমভি জাহান মনি। ১০০ দিন জিম্মি থাকা ওই জাহাজটি এখন দেশের মুক্ত জলে ভাসছে। ব্রাজিল থেকে দেশীয় একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ লাখ মেট্রিকটন চিনি নিয়ে শনিবার রাত ৯টায় জাহাজটির বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে পৌঁছে জাহান মনি। পরে গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর ফেলে। জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান ব্রেভ রয়েল শিপ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নির্বাহী কর্মকতা ক্যাপ্টেন গোলাম মোসতফা জাহাজটির চট্টগ্রাম বন্দরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বছর ৩৮ হাজার টন আকরিক খনিজ নিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর জাহাজটি ছিনতাই করে সোমালি জলদস্যুরা। এরপর জলদস্যুরা অস্ত্রের মুখে জাহাজের নাবিকদের জিম্মি করে সেটিকে জলদস্যুদের মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত সোমালিয়ার গারাকাদ নামক অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। এরপর শুরম্ন হয় জলদস্যুদের সঙ্গে জাহাজ মালিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুক্তিপণ নিয়ে দেন দরবার। নির্দিষ্ট অংকের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছিনতাইয়ের ১০০ দিন পর গত ১৪ মার্চ জাহাজটি ছেড়ে দেয় জলদস্যুরা। তবে জাহাজ মালিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরাবর মুক্তিপণ দেয়ার বিষয়টি নাকচ করা হয়েছে। এদিকে সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুক্তির দুদিন পর সোমালিয়া থেকে জাহাজটি আকরিক নিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেয়। ১৭ এপ্রিল গ্রিসের ক্রিসানোনোখি বন্দরে পৌঁছার পর আকরিকগুলো খালাস করা হয়। এরপর জাহাজটির সরাসরি দেশে আসার কথা থাকলেও এর মধ্যে জাহাজটিকে চিনি আমদানির জন্য বুকিং দেয় দেশীয় একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। চিনি বোঝাইয়ের জন্য এমভি জাহান মনি মে মাসের শেষ দিকে ব্রাজিলের তারানাগুয়া বন্দরে পৌঁছে। চিনি বোঝাই করে গত ২৮ জুন জাহাজটি ব্রাজিল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। জাহাজটির মালিক কবির স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান বলেন, খুব ভালো লাগছে। জাহাজটি শুধু আমার ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, এটি দেশের সম্পদ। জাহাজটি দেশে আসায় দেশের সম্পদ দেশে ফিরে এসেছে। ব্রেভ রয়েলের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন গোলাম মোসতফা জানান, এমভি জাহান মনি ফিরে আসায় কবির স্টিল এবং ব্রেভ রয়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে এখন প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার সকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় সবাই বন্দরে গিয়ে জাহাজটি ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। জাহাজটি আপাতত দেশে থাকবে বলে জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন গোলাম মোসতাফা।

উল্লেখ্য, ছিনতাইয়ের সময় জাহাজটিতে ২৫ নাবিক এবং এক নাবিকের স্ত্রীসহ মোট ২৬ জন ছিলেন। জাহাজটি মুক্ত হওয়ার পর পর গত ২১ মার্চ তারা দেশে ফিরে আসেন। ।

###
01673270919