ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

মাত্র একটি মোবাইল সেটের জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে সোহাগী আক্তার মুক্তাকে। ঘাতকরা তাকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সী বিচ এলাকায় নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার চার মাস পর ঘটনায় জড়িত তিন কিশোরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ ।

সিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ১লা বৈশাখ সন্ধ্যা ৭ টায় পতেঙ্গা থানাধীন সী-বিচ এর পূর্ব পাশে নির্জন পুকুর পাড় সংলগ্ন পুরাতন টয়লেট এর পাশে সোহাগী আক্তার মুক্তাকে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মুক্তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানার মামলা নং-০৬, তারিখ-১৫-০৪-২০১১ইং, ধারা-৩০২/৩৪ দঃবিঃ রুজু করে। মামলা পর রহস্য উদঘাটন ও অজ্ঞাতনামা খুনীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কমিশনার নির্দেশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি-বন্দর) মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এর নেতৃত্বে ডিবি বন্দর ডিভিশনের এসআই মোহাম্মদ আজিজ আহমেদ, এসআই মোঃ আরিফ হোছাইন ও মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা পতেঙ্গা থানার এসআই আক্‌তার হোসেন এর সমন্বয়ে গঠিত টিম মামলাটির রহস্য উদঘাটনের জন্য তৎপরতা শুরু করে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী ১) মামুনুর রশিদ মামুন (১৯) কে ইপিজেড এলাকা হতে গ্রেফতার করে তার নিকট হতে ভিকটিম মুক্তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি উদ্ধার করে। তার তথ্য অনুযায়ী অত্র মামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামী ২) মোঃ জাকির হোসেন(২০) কে কলসী দিঘীর পাড়স্থ তার বাসা হতে মুক্তার ব্যবহৃত মোবাইলের সিম কার্ড ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছোরাসহ গ্রেফতার করে । গ্রেফতারকৃত আসামীদের তথ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডে অংশ গ্রহণকারী অপর আসামী ৩) মোঃ আব্দুল করিম (২০) কে বন্দর থানাধীন ধুমপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, তারা পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে সী-বিচ এলাকায় ঘুরতে যায়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর তারা সোহাগী আক্তার মুক্তাকে সী-বিচ এলাকায় মোবাইল সেট হাতে ভ্রাম্যমান পতিতা হিসাবে পেয়ে মোবাইল সেটটি ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে ৩০০/- টাকার বিনিময়ে যৌনকার্যের জন্য ভাড়া করে নিয়ে পতেঙ্গা সী-বিচের পূর্ব পার্শ্বে নির্জন পুকুর পাড়ে পুরাতন টয়লেটের পাশে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে মুক্তা তাদের থেকে আগেই ৩০০/- টাকা অগ্রীম চাইলে তারা অগ্রীম টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করে এবং তার হাতে থাকা মোবাইল সেটটি তাদেরকে দিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। ঐ সময় মুক্তা মোবাইল সেটটি না দিয়ে চিৎকার করলে আসামী মামুনুর রশিদ মুক্তার পা চেপে ধরে, করিম হাত ও গলা চেপে ধরে এবং জাকির হোসেন তার প্যান্টের পকেট হতে ছোরা বের করে মুক্তার গলায় ধারালো ছোরা দিয়ে জবাই করে মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে আসে। ভিকটিমকে জবাই করার সময় আসামী জাকিরের ছোরার আঘাতে অপর আসামী করিম ডানহাতে সামান্য আঘাত পায়। হত্যাকান্ডের বিষয়ে তাদের বড় ভাই আসামী মোঃ মোসাদ্দেক আনোয়ার (৩২) কে অবহিত করলে মোসাদ্দেক স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে আসামী করিমকে চিকিৎসা প্রদানসহ অন্যান্য আসামিদেরকে আশ্রয় প্রদান করে।

***
রিপোর্ট: এম. নাজমুল ইসলাম, চট্টগ্রাম, ১৬ আগষ্ট ১১
০১৬৭৩২৭০৯১৯