ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

আর কত কান্না ,আর কত সম্পদ হারালে সরকার সড়ক দুর্ঘটনার শাস্থি মৃত্যুদন্ড করবে ?

এম. নাজমুল ইসলাম, চট্টগ্রাম, ২০ আগষ্ট ১১: একদিন দুদিন করে দেখতে দেখতে ৪০ দিন কেটে গেলো। মনে হয়, এইতো সেদিন জুয়েল, জিলস্নুর ও মোবারকের মা-বাবারা সনত্মানদের বিদ্যালয়ে পাঠালেন। তাদের সন্তানরা বিদ্যালয় থেকে চলে গেলেন বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা দেখতে মিরসরাই স্টেডিয়ামে। সকালে মা-বাবারা যে সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠালেন সুস্থ দেহে দুপুরে তারা লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো। আজ সে সন্তানদের চেহলাম অনুষ্ঠান করতে হচ্ছে। তারা ভাবতেই পারছেন না ইতিমধ্যে ৪০ দিন কেটে গেছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মর্মানিত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩১ জনের বাড়িতে আজ চেহলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অলোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে। মিরসরাইয়ের স্থানীয় ভাষায় চেহলামকে চল্লিশা বলে। অর্থাৎ ৪০ দিন পর ধর্মীয় এ অনুষ্ঠান করা হয় বলে একে চল্লিশা বলা হয়। একসঙ্গে এতো বাড়িতে চেহলাম আয়োজন করায় আবারো শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে এ এলাকায়। রোজার দিন বলে প্রায় সবাই এ অনুষ্ঠান রাতে করছেন। আবার অনেকে অল্প আয়োজনে চেহলাম পালন করেছেন। তবে রোজার পর বড় আয়োজন করবেন বলেও জানা গেছে। আবু তোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ রাহাত ওই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। তার বাবা অটোরিকশা চালক কবির আহাম্মদ জানান, চেহলাম উপলক্ষে আজ রাতে তিনি ৫ এতিম শিশুকে দাওয়াত দিয়েছেন। সঙ্গে মসজিদের হুজুরকেও দাওয়াত দিয়েছেন মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করার জন্য। তিনি আরো জানান, তার ইচ্ছে ছিল আরো ২-১ জন হুজুরকে দাওয়াত দেয়ার। কিন্তু একসঙ্গে নিহতদের সবার বাড়িতে চেহলামের অনুষ্ঠান হচ্ছে তাই তারা মৌলভী সংকটে পড়েছেন। একই কথা জানান নিহত তারেক হোসেনের বাবা জয়নাল আবেদীন, শামছুদ্দীনের বাবা মোঃ নূরম্নল আমিন। তারাও জানান, রাতে ছোট করে চেহলাম অনুষ্ঠান পালন করা হবে। মৌলভী দাওয়াত দেবেন মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করার জন্য। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর আরেক ছাত্র আল মোবারকের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্না চেপে রাখা দায় হয়ে পড়ে। মোবারকের মা মনোয়ারা বেগম জানান, তার বিয়ের প্রায় ১১ বছর পরে জন্ম নেয় আল মোবারক। ছেলেকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। মোবারকের বাবা হুমায়ূন কবির প্রবাসে থাকেন। ছেলের মৃত্যুর সংবাদে মোবারকের বাবা এখন কাজকর্ম করতে পারছেন না। কান্নার জন্য কথা বলতে পারছিলেন না মোবারকের মা মনোয়ারা বেগম। ধীরে ধীরে তিনি বলেন, মৌলভী দাওয়াত দেবেন মিলাদ ও দোয়া করার জন্য। তিনি বলেন, গত ঈদে মোবারক অনেক বায়না ধরেছিল। টাকার অভাবে সে সব বায়না পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আজ মোবারক সব বায়নার ঊর্ধ্বে একথা বলেই তিনি আবার কাঁদতে থাকেন। তার কান্না আর থামে না। মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কবির নিজামী জানান, তার ইউনিয়নের ২৪ জন ওই দুর্ঘটনায় নিহত হয়। তিনি বলেন, ২৪ জনকে একসঙ্গে হারিয়ে আমি মনকে কিছুতেই বোঝাতে পারছি না। বুঝতে পারছি না কিভাবে এ শূন্যতা পূরণ হবে। তিনি আরো বলেন, একসঙ্গে এতো বাড়িতে চেহলাম অনুষ্ঠান নজিরবিহীন ঘটনা। উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক উল্টে ৩৯ জন ছাত্রসহ ৪১ জন মারা যায়। এর মধ্যে ১ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে মারা যায়। নিহতদের মদ্যে ৯ জন ধর্মের সনাতন ধর্মের ছিল। এদের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান আগেই সম্পন্ন হয়।

###
রিপোর্ট : এম. নাজমুল ইসলাম, চট্টগ্রাম, ২০ আগষ্ট ১১
01673270919