ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

চট্টগ্রাম স্টেশনে রেলওয়ের অগ্রিম টিকিট এখন ভিক্ষুক, বাদাম ও পান বিক্রেতাদের নিকট পাওয়া যায়। রেলের টিকিট বিক্রির শুরুতেই কালোবাজারিরা নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে সংশ্লিস্টদের কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছে । ফলে ঈদে বাড়ি ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অসহায় রেল যাত্রীরা। গত সোমবার সোমবার অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে বিক্রি শুরুর দেড় ঘণ্টার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার টিকিট হাওয়া হয়ে যায়। কাউন্টার হয়ে পড়ে টিকিট শূন্য। যাত্রীদের মধ্যে টিকিটের হাহাকার দেখা দেয়। গতকাল মঙ্গলবারও দেখা যায় একই হাল।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতি ২০-৩০ টাকা দিয়ে কাউন্টারের সামনের লাইনে দাঁড় করানো হয় প্রচুর ভিক্ষুক ও ভবঘুরে লোকজনকে। তাদের মাধ্যমে কালোবাজারিরা বেশিরভাগ টিকিট হাতিয়ে নেয়। এভাবে গত তিন দিনে অগ্রিম টিকিটের ৮০ ভাগই চলে যায় কালোবাজারিদের হাতে। এতে সাধারণ যাত্রীদের কাছে বরাবরের মতো ঈদের অগ্রিম টিকিট পরিণত হয় সোনার হরিণে। এবার সাড়ে ১৭ হাজার অগ্রিম টিকিটের মধ্যে প্রায় ১০ হাজারই কালোবাজারিরা হাতিয়ে নেয়ার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কালোবাজারিতে জড়িয়ে পড়েছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) দুর্নীতিবাজ কিছু সদস্য ও কাউন্টারে কর্মরত বুকিং ক্লার্ক। এদের তৎপরতা কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। তাদের যোগসাজশে বিক্রির শুরু থেকেই টিকিট ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন। তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, স্বচ্ছভাবে টিকিট বিক্রি করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যাত্রীদের বাইরে কেউ অগ্রিম টিকিট নিতে পারেনি বলে তারা জানান।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন চট্টগ্রাম রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বহু যাত্রী অগ্রিম টিকিটের জন্য এদিক-ওদিক ঘুরছেন। টিকিট মিলছে না। অনেকে আরএনবি’র সদস্যদের সঙ্গে আড়ালে গিয়ে অগ্রিম টিকিট খুঁজছেন। তবে দ্বিগুণ মূল্য দিলে টিকিট পাওয়া যায় ভিক্ষুক, রেল স্টেশনের পানও বাদাম বিক্রেতাদের নিকট। এর পাশাপাশি রয়েছে কিছু ভদ্রবেশী কালোবাজারী। যাত্রীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগেভাগে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাননি।

###
রিপোর্ট: এম. নাজমুল ইসলাম, চট্টগ্রাম, ২৩ আগষ্ট ১১
০১৬৭৩২৭০৯১৯