ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

genius

অনেকদিন থেকেই কিছু একটা লিখবো বলে ভাবছিলাম, কিন্তু সময় ও যুতসই কোন বিষয় না পাওয়ায় কোন কিছু আর লিখা হয়নি। আজ হঠাৎ আমার কিছু প্রাণ-প্রিয় বন্ধু জিনিয়াস-জিনিয়াস বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতাছে। নিজেদেরকে জিনিয়াস দাবি করে নিজের ঢোল নিজেই পিটাইতাছে। তাদের মুখে জিনিয়াস কথাটার ডেফিনিশন জানতে চেয়েও আবার জিহ্বা থেকে প্রশ্নটা সোজা পেটের ভিতর ফেরত নিলাম। কারণ গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফেসবুকের একটি গ্রুপে তাদের “Genius” বানানটা “Genious” এইভাবে আছে। যারা জিনিয়াস স্পেলিং ই জানেনা, তাদের কাছে জিনিয়াস এর ডেফিনিশন জানার প্রশ্ন করাটাই বোকামী।

যাইহোক জিনিয়াস এর ডেফিনিশন আমি যতটুকু জানি তার বাইরেও আরও কিছু আছে কিনা কৌতুহলবশত সেটা জানার জন্য সার্বজনীন গুরু গুগল এ সার্চ দিলাম। সার্চ দিতেই দেখি ‘জিনিয়াস’ এর ভিতরে আরও অনেক ‘জিনিয়াস’ লুকিয়ে আছে যার কিঞ্চিতও আমার ভিতরে আছে বলে দাবি করার সাহস পেলাম না।

দুঃখ একটাই, চারিদিকে সবাই ‘জিনিয়াস’ হয়ে গেলো, আর আমি ‘জিনিয়াস’ এর ঠিক উল্টোটা অর্থাৎ স্টুপিড-ই রয়ে গেলাম!

আসলে জ্ঞান বা বিদ্যার শুরু আছে বলে জানি কিন্তু শেষপ্রান্ত কোথায় আমার তা জানা নেই। কেউ জিনিয়াস কিনা এটা যদি পপুলার বা ল্যাব এইডে পরীক্ষা করা যেতো তাহলে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে জিনিয়াস এর সংখ্যা হতো কমপক্ষে ১০/১২ কোটি। বুঝেনইতো বাংলাদেশ বলে কথা! যেই দেশের মানুষ পিএইচডি ডিগ্রী খরিদ করে, সেই দেশের মানুষের জন্য জিনিয়াস রিপোর্ট হাসিল করাতো কোন ব্যাপারই না।

আমার কেন জানি বার বার এই কবিতাটা মনে পড়ছে-

“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”

আসলে সত্যি কথা বলতে কি যদি কারো ভিতরে ‘জিনিয়াস’ থেকে থাকে সেটা এমনিতেই প্রকাশ পায়। যাকে বলে ছাঁই চাপা আগুন। মানুষের মেধা একদিন না একদিন প্রকাশ পাবেই।

আসুন আমরা সবাই নিজেকে জিনিয়াস দাবি না করে সত্যিকারের জিনিয়াস হওয়ার তালিম নেই। জিনিয়াস এর ডেফিনিশন গুলো নিজের মধ্যে লালন করি। ঢোল পিটানো জিনিয়াস নয়, নিজেকে প্রকৃত জিনিয়াস রূপে গড়ে তুলি।