ক্যাটেগরিঃ বিবিধ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক জ্যোতিষ বলেছেন ২০১১ সালের ২১ মে পৃথিবী ধ্বংস হবে। ৮৯ বছর বয়সী সাবেক প্রকৌশলী হ্যারোল্ড কামপিং বলেন, ২১ মে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে পৃথিবী ধ্বংস হতে পারে।এই পৃথিবীর ধ্বংস হয়ে যাওয়া কি সত্যিই আর হাতেগোনা দিনের অপেক্ষা? কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন সেই ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী কি এবার সত্যিই ফলতে চলেছে? একবিংশ শতকের কোলে বসে শিক্ষিত বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ এসব গাঁজাখোরি বলে উড়িয়ে দিলেও বিশ্বজুড়ে গোঁড়া ধর্মবিশ্বাসী পণ্ডিতদের ধারণা কিন্তু তা-ই।

স্বাভাবিকভাবে তাই বিজ্ঞান ও অন্ধবিশ্বাসের লড়াই, সর্বত্র বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের রেশ ধরেই এখন খবরের শিরোনামে পৃথিবীর তথাকথিত শেষদিন বা ধ্বংসদিন। কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন মায়া সভ্যতার জ্যোতির্বিদদের বানানো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০১২ সালের ২১ ডিসেম্বর নাকি ধ্বংস হয়ে যাবে এই পৃথিবী। অর্থাৎ আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বলা যায়, আর মাত্র ২১ মাস অস্তিত্ব থাকবে পৃথিবী ও তার প্রাণিকুলের।
কী হতে পারে ওইদিন, যার পরিণতিতে যাবতীয় প্রাণীসহ মায়াময় এই গ্রহ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে? ওই প্রাচীন মায়া সভ্যতার ক্যালেন্ডারে পৃথিবী ধ্বংসের উল্লিখিত কারণেরও ভিন্নমত রয়েছে। কখনও বলা হচ্ছে, আকাশ থেকে আগুন ছিটকে পুড়ে খাক হয়ে যাবে পৃথিবী। আবার কোথাও বলা হচ্ছে, সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠে বিশ্বচরাচরকে গ্রাস করে ফেলবে। তার কথায়, ওই ধ্বংসলীলার শেষে বিশ্বের ২ শতাংশ মানুষের ঠাঁই হবে স্বর্গে। আর বাকিরা অন্যত্র জায়গা পাবে।তিনি একটি ধর্মীয় কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে তার ভবিষ্যত বাণী সারা বিশ্বে পৌঁছে দিচ্ছেন । কিন্তু কোন যুক্তিতে তিনি প্রাচীন মায়া সভ্যতার ক্যালেন্ডার-নির্দিষ্ট ‘ধ্বংস দিন’-কে উড়িয়ে দিয়ে একটানে ১৯ মাস এগিয়ে এনে আজ থেকে দু’মাস সামনে এনে ফেললেন? এর পেছনে ক্যাম্পিংয়ের ব্যাখ্যা, ৭০ বছর ধরে তিনি বাইবেল নিয়ে গভীর পড়াশোনা করেছেন এবং বাইবেলে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যায় তিনি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম গাণিতিক হিসাব কষে তবেই এ সিদ্ধান্তে এসেছেন। এর পরই তার সরল হিসাব ২১ মে পৃথিবী ধ্বংস হবে।
সাম্প্রতিককালের অস্ট্রেলিয়ার বন্যা, নিউজিল্যান্ড, হাইতি, জাপান ও মিয়ানমারের ভূমিকম্প তার-ই ইঙ্গিত বলে তিনি দাবি করেছেন।