ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

FB_IMG_1514835401039

সন্ধ্যা ৬টা। বাংলামোটরে তখন প্রচণ্ড জ্যাম। গোপালগঞ্জ থেকে নতুন ঢাকায় আসা সহজ-সরল মানুষটি (গলায় মাফলার প্যাঁচানো) প্রিয়জনের সাথে কথা বলছিলেন মুঠোফোনে। আর তখনই রাস্তায় ওঁৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারী ছোঁ মেরে দৌড়!! মোবাইল খোয়ানো লোকটির চিৎকার শুনে পথচারী মেহেদি হাসান (কালো ব্লেজার পরা সর্বাধিক লম্বা হ্যান্ডসাম, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার) পিছু নিলেন, তার সাথে যোগ হলেন আরো একজন মুরুব্বী, ঘটনা আঁচ করতে পেরে পিছু নিলাম অামিও। হাতে নাতে ধরেও ফেললাম। অবাক করার বিষয় হল চোরের সহজ স্বীকারোক্তি “অামি হিরোঞ্চি, অামাকে মাইরেন না”। কেউ তাকে কিছু বললোও না!

ভাবখানা এমন যে এটা তো ওর পেশা, অাপনার অসতর্কতার জন্য সে (মাদকাসক্ত ছিনতাইকারী) সাজা পাবে কেন? কেউ পুলিশে দেয়ারও অাগ্রহ প্রকাশ করল না, যেন বিষয়টা সহনীয় পর্যায় চলে গেছে! ছিনতাইকারীর তো কিছু হবেই না, বরং পুলিশের সাত প্যাঁচে পড়ে উটকো ঝামেলায় কে জড়ায়! মাদকাসক্ত ছিনতাইকারী রাজার মতই তার পরবর্তী টার্গেট মিশনে চলে গেল।

কিন্তু অামরা উদ্ধারকারীরা পড়লাম বিপদে। যার মোবাইল খোয়া গেছে তিনি নেই, কারণ ছিনতাই হওয়ার মুহূর্তেই তার গাড়ি ছেড়ে দেয়ায় নামার সুযোগ পাননি। গাড়ির হেলপার, ড্রাইভার অার সহযাত্রীরাও পরামর্শ দিচ্ছিল ওটা অার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, নেমে অার কী হবে?

অামাদের শহুরে মানুষদের মত তো তিনি না, তার অাত্মবিশ্বাস ছিল যে মাহাদি হাসানদের মত তরুণরা অাছে, যারা অাগামীর দিনগুলোকে বাংলাদেশকে দেখতে চায় অাত্মনির্ভরশীল সাহসী বাংলাদেশ। অামরা অপেক্ষা করছিলাম একটা ফোনের জন্য, এমটিবি টাওয়ারের সামনে। কাঙ্খিত লোকটিই ফোন করলেন, অভয় দেয়ার পরেও সাহস পাচ্ছিল না ফোনটি নিতে অাসার, ছিনতাই হওয়া ফোন অানতে গিয়ে না অাবার হাইজ্যাকের শিকার হন! কি অাজব শহর অামার!

অতপর তিনি নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে বরং অামাদেরকেই ডাকলেন, সত্যিই যদি ফোনটা দিতে চান তা হলে এমটিবি টাওয়ারের অপজিটে অাসেন! অামরা দল বেধে গেলাম, ফোনটা হাতে নিয়েও যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না, সত্যিই এমন তারুণ্য অাছে যারা নিজের জীবন এবং মূল্যবান সময়কে বিলিয়ে দেয় অন্যের জন্য!

সেলুট মেহেদি হাসান, সেলুট তারুণ্য।