ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

তখন ইন্টার পরীক্ষার্থী। এক দশকেরও বেশি সময় আগের কথা। ছাত্রবাসে মোবাইল নিষিদ্ধ। লুকিয়ে লুকিয়ে কয়েকজন ব্যবহার করেন। যতটা মনে পড়ে ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের খবর রটে যায় পুরো ক্যাম্পাসে। রাত তখন নয়টার কিছু বেশি। পড়ার টেবিল থেকে সবাই ছুটছে প্রশ্ন ফাঁসের সন্ধ্যানে। হাতে গোনা যে কয়জন মোবাইল ব্যবহার করতো তাদের রুমের সামনে লাইন পড়ে গেল। একটু একটু করে তাদের মোবাইলে ওহি নাজিলের মত প্রশ্ন আসছে ইথারে ইথারে….। সেখান থেকে লুফে নিচ্ছে যে যার যার মতন।
.
জুনিয়র সিনিয়র সবার ঘুম হারাম। প্রত্যেকে প্রত্যেকের আত্মীয় স্বজনের কাছে মহান পূণ্যের কাজ মনে করে সাপ্লাই দিচ্ছেন। রাত শেষ হয়ে যায় আর একটু একটু একটু করে আসে প্রশ্ন। সবাই ব্যস্ত, কি পরীক্ষার্থী কি সাধারণ ছাত্র! পড়ার টেবিলে নেই কেউ। সারা দেশে রটে যায় ঘটনা। প্রশ্নও মোটামুটি চলে যায় ছাত্রদের হাতে হাতে। যারা পরীক্ষা দিবেন তাদের অনেকেই ছিল ওই রাতে নির্ঘুম! পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখা গেল আগের চারটি পরীক্ষা যে সেটে ছিল ইংরেজি প্রশ্নের সেটের সাথে মিল নেই। আগের রাতের ফাঁস হওয়া প্রশ্নও নেই।
.
তার মানে হল কর্তৃপক্ষ জেনে গেছেন এবং তারা বুঝতে পারছেন, যার জন্য যে সেট ফাঁস হয়েছে সে সেট না দিয়ে অন্য সেটে পরীক্ষা নিলেন।
এর পরের অনেক প্রশ্নের ফাঁস হওয়ার খবর আসলেও তাতে কান পাতেন নি অনেকেই।
.
কিন্তু এখন কি আর সেই যুগ আছে? এখন প্রশ্ন ফাঁস হয় সব সেট। একদিন আগে পত্রিকার পাতায় প্রশ্ন ফাঁসের ছবি আসলেও সেই প্রশ্ন দিয়েই পরীক্ষা হয়। প্রশ্ন ফাঁস হয় রাতে-বিরাতে, সকালে সন্ধ্যায়। পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগে প্রশ্ন ফাঁস হলেও ইন্টারনেটের কল্যাণে মুহুর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে মেধাবী ছাত্রদের হাতে হাতে।
 .
শিক্ষামন্ত্রীর সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ। সব শেষে বেচারা ইন্টারনেটের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফেসবুক সহ সোসাল মিডিয়াকে কচ্ছপ গতি দিয়ে থামানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতে কি শেষ রক্ষা হবে?
 .
মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ঘুষ খাওয়া বন্ধ না করতে পেরে এটা  নিয়ে একটা সড়ল মন্তব্য করেছিলেন যাতে ঘুষ খেলেও সহনীয় মাত্রায় খায়। প্রশ্ন ফাঁস নিয়েও এখন জনমনের মন্তব্য এমনই- ‘… হোক তবে সহনীয় মাত্রায়’!
 .
এক দশক আগের উদাহরণ শুরুতে দেয়ার কারণ হল তখন কিন্তু ইন্টারনেট ছিল না। সোসাল মিডিয়ার দৌড়াত্মও ছিলো না। তাতে কিন্তু ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ছাত্রদের হাতে হাতে পৌঁছাতে বিকল্প তখন কার পদ্ধতি এখনা যে চালু হবে না তার নিশ্চয়তা কে দিবে?
 .
বরং আমাদের নৈতিক অধঃপতন এত নিচে নেমেছে যে ইন্টারনেট বন্ধ হলে মোবাইলে প্রশ্ন ছড়াবে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে তারা প্রয়োজনে যানবাহনে গিয়ে পায়ে হেঁটে মহান (!) এ কাজ সমাপ্ত করবেন। যে সমাজে শিক্ষক অভিভাবকের নৈতিক অধঃপতন হয় সে সমাজের আমুল পরিবর্তনের উদ্যোগ না নিলে দেবালয় রক্ষা হবে না শেষে।