ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

ছবি: সিএনএন

 

কোন জনপ্রিয় নেতাকে বা কোন জননন্দিত দল বা আদর্শকে জুলুম করে কারাগারে রেখে দিলেই যে তারা শেষ হয়ে যায় না সে প্রমাণ বিশ্বের বহু দেশে বহুবার আমরা দেখেছি। আমরা নেলসন ম্যান্ডেলাকে দেখেছি, বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি, মার্টিন লুথার কিং কে দেখেছি, এমন উদাহরণ দিলে শেষ করা যাবে না। সর্বশেষ দেখলাম আনোয়ার ইব্রাহিমকে।

আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার, ‘গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার’ মাহাথির মোহাম্মদের এক সময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্যারিশমাটিক লিডার আনোয়ার ইব্রাহিম। মালয়েশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় এ মানুষটিকে মাহাথির মোহাম্মদ শুধুমাত্র নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে গিয়ে সমকামীতার মত জঘন্য হীন অভিযোগে কারাগারে নিক্ষেপ করলো, দুর্নীতির দায়ে সাজা দিলো। এখনো সে মানুষটি ঐ সাজা ভোগ করছেন এবং যার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। অথচ সেই মানুষটির গড়া দল আর জোটের করুণা নিয়েই মাহাথিরকে নির্বাচন করতে হলো! এটাই ইতিহাস, এটাই বাস্তবতা।

তিন-চার মাস আগে যখন আনোয়ার ইব্রাহীমের জোট ‘পাকাতান হারাপানের’ (অ্যালায়েন্স অব হোপ) থেকে মাহাথিরকে জোটের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেয়া হয় তখন লজ্জায় এবং নিজের পিছনের কর্মকাণ্ডের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন মাহাথির মোহাম্মদ। আবেগঘন ঐ হলরুমে মাহাথির ঘোষণা দেন, নির্বাচিত হলে তার প্রথম কাজ হবে আনোয়ারকে জেল থেকে মুক্ত করা এবং তার হাতে প্রধানমন্ত্রীর আসন দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেয়া।

সময় বলে দিবে মাহাথির তার কথা কতটা রাখেন। বাংলাদেশের রক্ত যেহেতু তার শরীরে বহমান (পূর্বপুরুষের আবাস চট্টগ্রামে ছিলো), আচরণগুলোও যদি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের মতো হয়, তাহলে হয়তো এর উল্টোটাও দেখবে বিশ্ব। মাহাথির যার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জিতলেন সেই নাজিব রাজাকও তার হাতেই গড়া মানুষ।

অভিনন্দন মাহাথির মোহাম্মদকে, বিশ্বের সবচেয়ে ‘বৃদ্ধ’ (৯২বছর) বয়সে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে যাওয়ায়। আপনাকে বৃদ্ধ বললে ভুল হবে, কারণ কবি নজরুলের ভাষায়, বৃদ্ধ তারাই যাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কাল মূর্তি। কিন্তু আপনি সেটা নন।

আশা করি বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা শিক্ষা নিবেন মালয়েশিয়া থেকে। আজকে যাদেরকে জেলে বন্দী রেখে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার আশা করছেন, তাদের পরিণতিও যদি একদিন মাহাথিরের মতো হয় সেটা হবে নিজের জন্য লজ্জার।