ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

মীর কাশেম আলী ওরফে খান সাহেব ফাঁসির দন্ড পেয়েও কেন ‘ভি’ চিহ্ন দেখালেন? এই ‘ভি’ চিহ্ন দেখানোর কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। প্রথম কারণটি হতে পারে, এতোগুলো প্রাণের হত্যার বিপরীতে তার একটি প্রাণ এবং পরাজিত হওয়ার পরও বাংলাদেশের আলোবাতাসে চুয়াল্লিশটি বছর বেশি বেঁচে থাকা। দ্বিতীয় কারণটি হতে পারে, মীরজাফরের মতো কাজ করেও ক্ষুদিরামের চরিত্রে অভিনয় করা, অর্থাৎ হাসতে হাসতে ফাঁসিরর মঞ্চে যাওয়া- এমন টি বুঝানো। তৃতীয় যে কারণটি হতে পারে তা হলো, বাংলাদেশের সমস্ত ধোলাইকৃত মগজ সম্পন্ন তরুণদের স্টিপিউলেট করা। এই ধরনের ইমোশন বিজনেসে জামায়াত খুবই পারঙ্গম।

‘প্রিয়তমা স্ত্রী কে লিখা কাদের মোল্লা ভাইয়ের শষ চিঠি’, ‘গোলাম মাওলা রনি কে লিখা কাদের মোল্লারর চিরকুট’ এবং ‘কারাগারে আল্লামা সাঈদী দিনরাত নফল এবাদতে ব্যস্ত’ ইত্যাদি আষাঢ়ে গল্প রচনা তাদের ইমোশন বিজনেসেরই অংশ। পরের দুটো কারণ তার রাজনৈতিক কূট কৌশল হিসেবে ধরে নিলাম। এগুলো আমার আলোচ্য বিষয় নয়। আমার আলোচ্য বিষয় হলো মীর কাশেম আলীদের চুয়াল্লিশটি বছর বেশি বেঁচে থাকা।

সত্যিই মীর কাশেমরা ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতেই পারে। এর চেয়ে বড় বিজয় তাদের আর কি হতে পারে! যাদের সহায়তায় আর অংশগ্রহণে ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হলো, প্রায় আড়াই লাখ মা বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়া হলো, এবং যারা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকে জন্মের সময় গলাটিপে হত্যা করতে চেয়েছিলো আর তারাই রাষ্ট্রের জন্মের চুয়াল্লিশ বছর পরও এ ভূখণ্ডে বেঁচে আছে মহা তবিয়তে। তাদের কেউ একজন নাকি প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিল। কেউ হয়েছে মন্ত্রী, কেউ এমপি আবার কেউ বা সিআইপি।

আচ্ছা, মন্ত্রীর গাড়িতে বসে ভুলক্রমে নিজামীর চোখ যখন জাতীয় পতাকার দিকে পরতো, তখন সে কি ভাবতো? কতটুকু স্থায়ী হতো তার বিদ্রূপাত্মক হাসিটি? তখনই বা কি সে ভাবতো যখন মন্ত্রী হিসেবে সংসদে দাড়িয়ে ভাষন দিত? কি ভাবতো ঐ যুদ্ধাহত কৃষক মুক্তিযোদ্ধা যে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী নিজামীর হাত থেকে বিনামূল্যে সার নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াত? তারা কি ভাবতো আমার জানা নেই। আমি শুধুই এটাই জানতাম, আবারো ধর্ষিত হচ্ছে আমার দেশমাতৃকা, লুন্ঠিত হচ্ছে রক্তার্জিত স্বাধীনতা। রাজাকার শিরোমণি, বাংলাদেশের জন্মের ও জন্মোত্তর আমৃত্যু বিরোধিতাকারী গোলাম আজম স্বাধীনতার পর ৩৫টি বছর বসবাস করেছে বাংলাদেশে, আর মৃত্যুর পর এই নরপিশাচের লাশটি শুয়িয়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র রাজধানী ঢাকায়। আহারে বাংলাদেশ!!!

আমাদের কারণে এই মীর কাশেম আলীরা চুয়াল্লিশটি বছর বেশি বাঁচার সুযোগ পেয়েছে। পয়দা করে গেছে লক্ষ লক্ষ অনুসারী, যারা স্বাধীন দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ ঘোষনা করছে। এটা আমাদের লজ্জা, আমাদের ব্যর্থতা। মীর কাশেমরা ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতেই পারে; একটি বার নয়, শতবার ফাঁসির রায় হলেও। কেননা ধর্ষিতার সন্তানেরা তাদের মতো ধর্ষকদের দুধ-কলা দিয়ে পোষে যাচ্ছে চুয়াল্লিশ বছর ধরে।