ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

freedom+fighter

‘মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যার থেত্রে শর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর ।’ এই লাইনটি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতেই দেখা যায়। ৩৬তম বিসিএসের ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে আজও তাই দেখতে হল । লক্ষ্য করুন, সর্বপ্রথমেই মুক্তিযোদ্ধার কথা বলা হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা! বোধ করি ৩২এর কম বয়সী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান খুঁজে পাওয় যাবে অনায়াসেই। কিন্তু স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পর ৩২ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা কোথায় পাবে বাংলাদেশ? কোনো পাঁচ বছর বয়সী শিশুও যদি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকে, স্বাধীনতার ২৭তম বছরের অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের পরে আর কোন ৩২ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা থাকার সুযোগ নেই। ২০১৫ সালেও রাষ্ট্র যখন ৩২ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধার খুঁজে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেয়, তখন তা রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের অজ্ঞতা আর সংস্কারহীনতার মনোভাবকেই নির্দেশ করে। বছরের পর বছর একটি লাইন দিয়েই চালিয়ে দেয়া হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাকরি অর্থাৎ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিও। বিপিএসসি মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তিতে এ লেখাটি অত্যন্ত বেমানান এবং বেদনাদায়ক।

শুধুই কি তাই! বিজ্ঞপ্তি আরো বলা হয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কথা। তাদের ক্ষেত্রেও চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ধরা হয়েছে ৩২ বছর। যে মানুষটি আজ থেকে ৪৪ বছর আগে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হলো, তার ৩২ বছর বয়সী সন্তান কোত্থেকে আসবে??

এই প্রেক্ষিতে একটি ঘটনা না বললেই নয়। কী একটা প্রসঙ্গে যেন; ঠিক মনে নেই। খুব ছোট বেলায় কোন এক মহিলা সম্পর্কে আমার দাদী আমায় বলেছিল, ‘স্বামী মারা গিয়েছিল, সেজন্য আর ছেলে মেয়ে হয় নাই’। সেদিন আমি অনেক চেষ্টা করেও কথাটির অর্থ বুঝিনি।

এই কথা লিখতে একটু বিব্রত বোধ করছি। কারণ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা সব কথার খোলামেলা প্রকাশ সমর্থন করে না।

সেদিন না বুঝলেও কিছুদিন পরই দাদীর কথার অর্থ বুঝে ছিলাম। বোধ করি, আজ যে ছেলেটার বয়স আট বছর, সেও জানে, স্বামী (পুরুষ) ছাড়া কোন নারীর পক্ষেই সন্তান জন্ম দেয়া সম্ভব নয়।

কি অদ্ভুত! আমাদের রাষ্ট্র জানেনা, চুয়াল্লিশ বছর আগে শহীদ হওয়া মানুষটির ৩২ বছর বয়সী সন্তান থাকা সম্ভব নয় । তবে এ কেমন রাষ্ট্র আমাদের ? আরো জানেনা রাষ্টের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ ‘বিপিএসসি’ অর্থাৎ Bangladesh Public Service Commission।

২০১৫ সালে এসে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ৩২ বছর বয়সী সন্তান খোঁজা সেই মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী ছোট করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

যে বিষয়টি অনুধাবন করেতে ন্যূনতম জ্ঞ্যানের প্রয়োজন, সে বিষয়টি যদি আমাদের কর্তাব্যক্তিরা অনুধাবন করতে না পারে তখন আমরা বলতেই পারি ”উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ”।