ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

বিসিএস লিখিত এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স পরীক্ষা একই সময়ে হওয়ায় বিপাকে শত শত শিক্ষার্থী। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সম্ভবত বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্ভাগা শিক্ষার্থী।  দেশে পর্যাপ্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয়বাহুল্য- এই দুই কারনেই হাজার হাজার মেধাবি শিক্ষার্থীকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শরণাপন্ন হতে হয়। আর এই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ই হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবনচাকা আটকে দিচ্ছে অথবা বিপরীত দিকে ঠেলে দিচ্ছে।  ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষে যারা অনার্সে ভর্তি হয়েছিল তাদের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০১৫ সালের শেষে। পাঁচ বছরের এই কোর্সটি করেতে তাদের সময় দিতে হলো আট বছর। অকারণেই তাদের জীবন থেকে কেরে নেওয়া হলো তিন বছর। অনেক শিক্ষার্থীই আছেন যাদের পড়াশোনা শেষ করতে করতেই ২৮-২৯ বছর পেরিয়ে যায়। অথচ এই দেশে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা মাত্র ৩০ বছর। অবশেষে তারা ‘শিক্ষিত বেকার’ হিসেবেই পরিচিতি পায়।

আবারো রাষ্ট্র কর্তৃক সৃষ্ট দুর্ভাগ্যের শিকার হতে যাচ্ছে এই হতভাগা শিক্ষার্থীরা। মাস্টার্স পড়ুয়া যেসব শিক্ষার্থী তীব্র প্রতিযোগিতা করে ৩৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার সময় বিপিএসসি (বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন)  ৩৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করেছে। মাস্টার্স পরীক্ষা চলবে ২৪ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর।

যদিও এ সময় বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই মাস্টার্স পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ হতে পারে, সবকিছু বিবেচনায় আনা বিপিএসসির পক্ষে সম্ভবপর হবে না। কিন্তু পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের সুবিধা বিবেচনা করে বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা বা মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচীর ভিত্তিতেই তাদের বিভাগীয় পরীক্ষার সময়সূচী নির্ধারণ করে বা নির্ধারিত সময়সূচী পরিবর্তন করে। যা বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। সুতরাং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়ে বিসিএস পরীক্ষার্থীদের এই বিশাল অংশটির কথা বিবেচনা করে বিপিএসসি লিখিত পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। অন্যথায় তাদের দুর্ভাগ্যের পাল্লা আরো ভারি হবে, আক্রান্ত হবে ব্যর্থতার গ্লানিতে।