ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

আমাদের শিক্ষকদের মনে কি একবারও প্রশ্ন জাগেনা, কেন একভাগ শিক্ষার্থীও তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না?

আগেই বলে রাখি ব্যতিক্রম বিচারের মাপকাঠি হতে পারে না।ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মোতাহের হোসেন চৌধুরী, ড. এ আর মল্লিক,ড. জামাল নজরুল ইসলাম, ড. মুহম্মদ ইউনুছ, ড. আনিসুজ্জামান, ড. রেহমান সোবহান, ড. জাফর ইকবাল, ড. মইনুল ইসলামসহ অন্যান্য পণ্ডিতগণ আমার এই আলোচনার বাইরে থকবে। কারণ তাদের পদমর্যাদা দেয়ার বা নেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। তাঁরা জাতির আইকন, তাঁরা নিজেরাই ইতিহাস।

বলছিলাম যার ক্লাসটিচারদের কথা। চুয়েটের একজন শিক্ষক তার ব্লগে লিখেছিলেন যে কোন কোন শিক্ষক একই ধরনের ক্লাস লেকচার আর সিট দিয়ে বিশ বছরও কাটিয়ে দেন। মূলত এটাই সংখ্যাগরিষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষকদের পড়ানোর প্রক্রিয়া। হ্যা, অত্যন্ত বাস্তব কথা এটি। এজন্যইতো আমরা বছরের বছরের পর বছর বড় ভাইদের নোট দিয়েই চালিয়ে দেই। একটুও অসুবিধা হয়না, একদম মিলে যায়।

একজন ছাত্র হিসেবে শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে কথা বলাটা বেমানান, অন্যায়। কিন্তু দেশমাতৃকার শিক্ষাঙ্গন আজ জিম্মি। তাই বলতে হচ্ছে।

আরেকটি তেতো সত্য কথা বলতে চাই, গত ১৫-২০ বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তারা অনেকেই যোগ্য হয়েছেন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক আর সম্পর্কের বিবেচনায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি নাকি নিজের পুত্রকে শিক্ষক বানাতে একটি ইন্সটিটিউটও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এবার আসি মহান পেশায় নিয়োজিত শিক্ষকদের নৈতিকতার বিষয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছের পাতা বিক্রি থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ, কি প্রক্রিয়ায়, কতটুকু স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হচ্ছে তা কারো অজানা নয়। ভাগবাটোয়ার মহাজজ্ঞ চলছে প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আমি হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের এমবিএর ছাত্র। ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি আমার ওরিয়েন্টেশন ক্লাস হয়। আসছে ১৫ তারিখে আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ৭ বছর পূর্ণ হবে। এ সাত বছরে আমি পড়া শেষ করিছি চার বছরের। ন্যূনতম আড়াই বছরের সেশন জ্যামে পড়েছি। আমিসহ আরো ১২০ শিক্ষার্থীর মোট ৩০০ বছর কেড়ে নেয়া হলো একদম বিনা অপরাধে। কে ফেরত দেবে আমার এ আড়াইটি বছর??? যে শিক্ষকটি আমাদের ক্লাস নিয়মিত করাননা । সেই শিক্ষকটিই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মিতভাবেও ক্লাস নেয়ায় অনিয়ম করেন না ।
হে মহান শিক্ষক, I will demand getting back of two and half years of my life on the day of last judgement.

এবার চাকরির স্বাধীনতা আর সুযোগসুবিধা নিয়ে কিছু বলবো। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য সংসদের কাছে জবাবদিহিতা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ কে কারো কাছে জবাবদিহিতা করতে হয়না। স্বাধীনতার সর্বোচ্চ পর্যায়টি তাদের দখলে। মন চাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় যাচ্ছে, মন চাচ্ছেনা তো যাচ্ছেনা। মন চাইলে ক্লাস নিবে, না চাইলে নিবেনা। মন চাইলে পরীক্ষা হবে, না চাইলে এক বছরেও হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সংসদ অধিবেশনে যোগদান আর অফিস করায় এতোটা স্বাধীনতা ভোগ করেন না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন, রাজনীতি করছেন, টকশোতে যাচ্ছেন, পত্রিকায় কলাম লিখছেন, সরকারে বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারছেন, এনজিওর পরামর্শক হিসেবে চাকরি করছেন, আরো কত্ত কি!! আর কি চাই আপনাদের?

জাতির পিতা নিজেই বলেছিলেন, তার একটি দুর্বলতা হলো মানুষকে বেশি বিশ্বাস করা।জাতির জনক ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন কালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটু বেশিই বিশ্বাস করেছিলেন। যার খেসারত জাতিকে দিতে হচ্ছে।

ছোটবেলায় শিখেছিলাম শ্রদ্ধা, ক্ষমা, ভালোবাসা ইত্যাদি জোর করে পাওয়া যায়না। বড়বেলায় এসে শিক্ষকদের কাছ থেকে শিখছি, এগুলোও জোর করে পাওয়া যায়। শুধু আন্দোলন প্রয়োজন, প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া।

শেষমেশ একটি কথাই বলবো, শিক্ষকদের অবনমনে যদি শিক্ষার্থীদের মনে কোনরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয় তবে বুঝতে হবে শিক্ষকগণ পরিপূর্ণ শিক্ষক হতে ব্যর্থ নতুবা শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষার্থী হতে।।

আমাদের শিক্ষকদের মনে কি একবারও প্রশ্ন জাগেনা, কেন একভাগ শিক্ষার্থীও তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না?? প্লীজ, নিজেরা নিজেদের প্রশ্ন করুন, তবেই কেটে যাবে শিক্ষার এই অচলাবস্থা।।