ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ইদানিং পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে নানা রকম খবর গোটা জাতিকে লজ্জাজনক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকগণ হতাশ হয়ে পড়েছেন। এসব নিয়ে বিভিন্ন টকশো, নানা রকম গবেষণার বহর দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই অবস্থাটা কেন সৃষ্টি হয়েছে? আর এ থেকে উত্তরণের পথটাই বা কি সে বিষয়ে আসলেই কি কোনো সুষ্ঠু সমাধানের পথ দেখা যাচ্ছে?

যাদের সন্তানরা মেধা খাটিয়ে লেখাপড়া শিখে নিজেদেরকে তৈরি করতে চান, তারা অনেকেই হতাশ। না, কোনো সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। কেন? এই  উত্তর জানার জন্য প্রথমে জাফর ইকবাল স্যারের ফেসবুকে ২৮ আগষ্ট, ২০১৪ তারিখে লেখা “একটা দুঃখের গল্প” পড়ে দেখতে সবিনয়ে অনুরোধ করছি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার মূলে কী কারণ জড়িত, তা বুঝতে আশা করি ঐ একটা গল্পই যথেষ্ট। কিন্তু তাই বলে আমরা থমকে যাব? আমাদের কি কিছুই করণীয় নাই?

যেসব অভিভাবকগন সন্তানদের জন্য ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কিনতে ছুটে বেড়ান, তাদের মনে কি একবারও উপলব্ধি জাগে না যে তারা নিজ হাতে  প্রিয় সন্তানটির অমঙ্গল করছেন! যদি বলি আজকে এইসব অভিভাবকদের এমন প্রবণতার কারণে এই মেরুদণ্ড বিধ্বংসী শিক্ষা ব্যবস্থা চেপে বসেছে, তাহলে কি ভুল বলা হবে? আমরা কোনো কোনো সময় দেখেছি, নকল করতে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে খুন হতে হয়েছে। আর এই নকল প্রবণতাকে প্রশ্রয়ও দিয়েছেন কতিপয় সন্তানের বাবা-মায়েরাই। পরীক্ষা নামক বিষয়টাই হয়ে গিয়েছে উপহাসের বস্ত।

জাতির বিবেককে এসব চিন্তা করতে বলছি । যে কালচার চালু করা হয়েছে  এখান থেকে উত্তরণের জন্য সন্তানদের অভিভাবকদের সচেতন হওয়া ছাড়া উপায় নেই। আপনার সন্তানকে কুঁড়ি থেকে তৈরী করুন। তাকে নৈতিক শিক্ষায় বড় করে তুলুন। শৈশব-কৈশোরেই তাকে উপলব্ধি করতে শেখান,  লেখাপড়া করা ছাড়া, পরিশ্রম ছাড়া জীবনে কোনো সফলতা অর্জন হবে না, সেটা আগে তার মাথায় বপন করুন। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রকে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তনের জন্য সুপারিশ করছি।

(১) অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না। প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিতে পাঠদান, প্রতি সপ্তাহে সাপ্তাহিক মূল্যায়ন, প্রতি মাসে মাসিক মূল্যায়ন এবং ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। ৪টা ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন এর গড় করে চুড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে এবং পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হবে।

(২) এসএসসি হবে প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। যেখানে আগের নিয়মেই অর্থ্যাৎ ৩য় বিভাগের নম্বর ৩৩-৪৪, ২য় বিভাগের নম্বর ৪৫-৫৯  এবং ১ম বিভাগের নম্বর ৬০-১০০ হবে ফলাফল নির্ধারণের মান। প্রথম বিভাগের ভেতরে ৮০-১০০ নম্বরে স্টার এবং ৯০-১০০ নম্বরে স্কলার।  মনে রাখা দরকার ৩৩ যিনি পান, তারও কিন্তু সনদপত্র পাবার সম্মানজনক অধিকার সৃষ্টি হয় । সুতরাং উচ্চতর শিক্ষার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য কোনো নম্বর বা পয়েন্ট সীমা নির্ধারণ করা যাবে না । সবার জন্যই উন্মুক্ত করে দিতে হবে ।

প্রশ্নফাঁস কালচার বলেন, আর চাতুরতাপূর্ণ ফলাফল প্রদানের কারিশমাই বলেন, এসব কালচারের উদয় হয়েছে মাত্র একটা কারণে। আর তা হচ্ছে, উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য সুনির্দিষ্ট নম্বর বা গ্রেড-পয়েন্ট সীমা নির্ধারন করে অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের হতাশার জালে সীমাবদ্ধ করে ফেলা ।

এ ব্যবস্থার প্রবর্তন হলে আর আমাদের অভিভাবকগণ সচেতন হলে আশা করা যায়, গোটা জাতি যে অন্ধকার অতলে তলিয়ে যেতে বসেছে, সেখান থেকে জেগে ওঠা সম্ভব হবে।