ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

এসব হচ্ছে কী? প্রশ্নফাঁসের লজ্জা থেকে বাঁচবার জন্য থেকে থেকে আজগুবি সিদ্ধান্ত চলে আসছে। যেমন এইচএসসিতে ২৫ মিনিট আগে ঠিক হবে প্রশ্নের সেট, ২৯ মার্চ থেকে এইচএসসির কোচিংগুলো বন্ধ ইত্যাদি । এসব কার্যক্রমে আসলে কোনো লাভ হবে না। কারণ কী? একটু পেছনে তাকাতে হবে।

মানুষের ভেতরে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ক্রয় করবার খায়েশ জন্মেছে কেন? কেন জিপিএ-৫ পাবার নেশায় ছাত্র-ছাত্রী আর তাদের বাবা মায়েরা? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে কতগুলো অনৈতিক নীতিমালাই তাদেরকে সে উৎসাহ যুগিয়েছে।

১০০ নম্বরের ভেতরে যিনি ৩৩ পান, তাকেও কিন্তু সম্মানজনকভাবে উত্তীর্ণ ঘোষণা করে পরবর্তী উচ্চতর শিক্ষায় প্রবেশের স্বীকৃতি বা অনুমোদন প্রদান করা হয় । তাহলে কেন তার ললাটে পরবর্তী উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক ভর্তির আবেদনের অযোগ্য তকমা লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে?

এই অনৈতিক অধিকার ঐ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন দেয়া হলো? কেন ভর্তি পরীক্ষার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না? কী করে উনারা বুঝলেন, যিনি ৮০% নম্বর পেয়েছেন, কেবল তিনিই ডাক্তার -ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবেন আর যিনি ৩৩-৪০ পেয়েছেন তিনি পারবেন না? এই পরিমাপক মানদণ্ড কিসের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে? কেউ একজন টুকিয়ে বা নানা কৌশলে পেছন দরজা দিয়ে ৮০% যোগাড় করেছেন, আবার কেউ অনেক পরিশ্রম করে মাথা খাটিয়ে ৩৩ যোগাড় করেছেন। কার মেধা বেশি তা কী দিয়ে যাচাই করবেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো এক বিষয়ে মাত্র দুই জন পাশ নম্বর পেয়েছিল সে কথা কি মনে আছে? তাহলে এতো জিপিএ-৫ এর দলের মেধা কি দিয়ে যাচাই করলেন? সুতরাং এই ভুল পলিসির কারণে বর্তমান সময়ে সন্তানদেরকে শিক্ষিত, মেধাবী করে গড়ে তোলার পরিবর্তে কেবলমাত্র ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করবার যোগ্যতা অর্জনের কাগজ যোগাড় করবার জন্য এই “ফাঁস”!
শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে এই অনৈতিক জিনিষটি থাকবার কারণে গোটা জাতি আজ ধ্বংস হতে চলেছে। অতএব উচ্চ শিক্ষায় ভর্তির আবেদন করার অধিকার সবার জন্যই উন্মুক্ত করে দিন। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, প্রশ্নফাঁস বা যেনতেনভাবে জিপিএ-৫ যোগাড় করবার নেশা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। কেউ এই বাজে চিন্তা করবে না।