ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

শিক্ষকদের বহিষ্কার দাবিতে আন্দোলনমুখী হয়ে উঠছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রেম প্রতারণায় ছাত্রীর আত্মহত্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনভিপ্রেত মন্তব্য করায় ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির এক শিক্ষকের বহিষ্কার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ-মিছিল, কুশপুত্তলিকাদাহ, স্মারকলিপি প্রদান ও মামলা দায়েরসহ নানা কর্মসূচী অব্যাহত রয়েছে ।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী ছাত্রী মার্জিয়া জান্নাত সুমির আত্মহত্যায় প্রচারণাকারী উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান শিকদার সুমনের বহিষ্কার দাবিতে আন্দোলন করছে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনই তারা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশসহ নানা কর্মসূচী পালন করছে। তাদের আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন শিক্ষকরাও। একই দাবিতে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে মানবন্ধন ও সমাবেশ করেছে জামালপুর জেলা ছাত্রকল্যান সমিতির সদস্যরা। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ও সহমর্মিতা ঘোষনা এবং পৃথকভাবে বিচারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে অনভিপ্রেত মন্তব্য করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র প্রভাষক মুহাম্মদ রুহুল আমিন খন্দকারের বহিষ্কারের দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ওই শিক্ষকের বহিষ্কারের দাবিতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ওই শিক্ষক গত শনিবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে অনভিপ্রেত মন্তব্য করে নিজের একাউন্টের ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দেন ।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের আওয়ামীলীগ ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রচার করছে বিশেষ একটি মহল। ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এ ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন ক্যাম্পাসের সচেতন মহল। মার্জিয়া জান্নাত সুমির ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচাতে মরিয়া আওয়ামী শিক্ষকদের একাংশ। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রচার করা হচ্ছে। দুটি ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নূরুল আলম অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষকারী শিক্ষক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় উল্লেখ করে বুধবার বিবৃতি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্যরা। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি জানান তিনি।

পৃথক ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সুমির আত্মহত্যার প্ররোচণার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এসএম বদিয়ার রহমানকে প্রধান করে সাত বিশিষ্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করার ঘটনায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. ফরহাদ হোসেন কে প্রধান করে ৫সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আরজু মিয়া বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে কমিটির রিপোর্টের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।’