ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ক্যারিয়ারের শুরুতেই হোঁচট। কলেজে পড়াকালীন নিজের অনিচ্ছায় বাবা-মায়ের জোরাজুরিতে খালাত ভাইকে বিয়ে। বিয়েতে মত ছিল না ছেলেটিরও। কয়েক মাস দাম্পত্য জীবনের পরই ঘটে বিচ্ছেদ। ইচ্ছে ছিল প্রতিষ্ঠিত হওয়া। ধাক্কা সামলে নিজেকে গুছানোর চেষ্টা। উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ২০০৫-০৬ সেশনে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে। অতীতকে ভুলে পড়াশোনায় মনোনিবেশ। অনার্সে প্রথম স্থান লাভ। মাস্টার্সেও প্রত্যাশা একই। পরের ইচ্ছেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া। পছন্দের আরেক জন শিক্ষককে বিয়ে করে স্বপ্নের সংসার গড়া। কিন্তু সে সংসার আর গড়া হলো না সুমীর। পছন্দের শিক্ষক বিয়েতে অস্বীকার করায় নিজে কাঁদলেন। পরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করলেন। কাঁদালেন সবাইকে।

শিক্ষকের প্রেম প্রতারণায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী ছাত্রী মার্জিয়া জান্নাত সুমী গত ৯ আগস্ট মঙ্গলবার নিজ কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সুমী জাহানারা ইমাম হলের আবাসিক ছাত্রী। সে হলের ৩২৩/এ নং কক্ষে থাকত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে সুমীর কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ থাকতে দেখে বাইরে থেকে তার বান্ধবীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করে। কোনো উত্তর না পেয়ে বাইরে থেকে ভেন্টিলেটর দিয়ে উঁকি দিয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে সুমীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে হলের সুপার ঘটনাস্থলে আসেন। তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা ওড়না কেটে সুমীকে নিচে নামান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সুমীকে মৃত ঘোষণা করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. তানিম হোসেন রাসেল বলেন, সুমীকে মৃত অবস্থায়ই হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ওইদিন সকালে ঘটনার কিছুক্ষণ আগেও সুমীকে কান্নাকাটি করতে দেখেন সুমীর বান্ধবীরা। তার কিছুক্ষণ পরেই সুমীকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তারা।

সুমীর গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার উত্তর কাচারীপাড়ায়। তার বাবার নাম আবদুস সামাদ। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে বড়। মেজ ভাই ৬ষ্ঠ ও ছোট ভাই ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ে। জামালপুরের সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর সে ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয় গত ২ আগস্ট।

পেছনের কথা
প্রেমঘটিত কারণে হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করেন মেধাবী ছাত্রী সুমী। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ও ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী মনিরুজ্জামান শিকদার তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম করেন। পরে তাদের মধ্যে কথা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় প্রতারণার শিকার হন সুমী। এ হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করেন তিনি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত ১১ আগস্ট বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সুমীর সহপাঠীরা। এ সময় লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, সুমীর মাস্টার্স পরীক্ষা চলাকালীন নিজের মত পাল্টান সুমন। এর কারণ হিসেবে তিনি সুমীর ডিভোর্সকে উল্লেখ করেন। হতাশ হয়ে পড়ে সুমী। তার বান্ধবীরা জানান, আত্মহত্যার দিন সকালেও সে সুমনের সঙ্গে কথা বলেছে। হতাশা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যাকে বেছে নেন তিনি।

সুমী তৃতীয় বর্ষে ভালো ফলাফল অর্জন করার পর বিশ^বিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান শিকদার সুমনের সঙ্গে সুমীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর মধ্যে সুমনের মা ছেলের বউ হিসেবে পছন্দ করার জন্য একবার এসে সুমীকে দেখে যান। অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারলে মনিরুজ্জামান শিকদার সুমন তাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এক্ষেত্রে ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক লুৎফুল হাই জামী তাদের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য ওই শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরই মধ্যে সুমীর অনার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। সে ৩.৫৬ পয়েন্ট পেয়ে বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে। ফলে সুমন সুমীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর করে গড়ে তোলে। মাস্টার্স পরীক্ষার পর তারা বিয়ে করবে বলে ঠিক করে।

গত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে সুমী বাড়িতে না গিয়ে হলে অবস্থান করছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ছুটির ঠিক মাঝামাঝি সময়ে সুমন সুমীকে নিয়ে ঢাকায় রাত্রিযাপন করে। গত ২ আগস্ট মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হবার পর সুমী সুমনকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। সুমন এসময় তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। সুমী এর মধ্যে অন্তঃসত্ত্বাও হতে পারে বলে দাবি তার সহপাঠীদের। এ সময় সুমী মানসিকভাবে মারাত্মক ব্যথিত হয়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে যে কোনো মূল্যে সুমনের সঙ্গে বিয়ের আয়োজন করার অনুরোধ করে কান্নাকাটি করে। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষক দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া এবং ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শ দান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. আবুল খায়েরের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সুমীর অনুরোধে কেউ কর্ণপাত করেনি। ফলে একজন ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে মানসিকভাবে গ্রহণ করার পর প্রত্যাখ্যাত হওয়া, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হবার পর সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হবার ভয় এবং শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবার স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সুমী আত্মহত্যা করেছে ।

প্রশাসনের লুকোচুরি
সুমীর রুমের দরজা ও জানালা বন্ধ দেখে তার বান্ধবীরা ভেন্টিলেটর দিয়ে চোখ রাখেন রুমের ভেতরে। দেখতে পান গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে ঝুলছে সুমী। তারা চিৎকার দেন। হলের সুপার মমতাজ সুলতানা উপস্থিত হন। ঘটনা পুলিশ কেস বলে দায় এড়িয়ে যান তিনি। এসময় হলের দু‘জন গার্ড উপস্থিত থাকলেও কেউ দরজা ভাঙার দিকে এগিয়ে যাননি। এভাবে পার হয়ে যায় ১০ মিনিট। অবশেষে ছাত্রীরা নিজ উদ্যোগে দরজা ভেঙে রুমে ঢোকেন। ওড়না কেটে নিচে নামান সুমীকে। হাসপাতালে নেয়ার পর পোস্টমর্টেমে বিপত্তি বাধে প্রশাসনের। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান প্রশাসনের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার মনিরুজ্জামান শিকদার সুমনের দোষ প্রমাণিত হতে পারে। বেরিয়ে আসতে পারে রহস্যময় তথ্য। এ কারণে আশুলিয়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলামকে প্রভাবিত করে পোস্টমর্টেম ছাড়াই মৃতদেহ ক্যাম্পাসে আনা হয়। এরপর পাঠানো হয় নিহতের নিজ বাড়িতে। এদিকে আত্মহত্যার পরই সুমীর রুমে যান হলের প্রভোস্ট সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী শিক্ষকবৃন্দ। রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায় রুম থেকে মৃত্যুর সময় লিখে রাখা দুটি চিরকুট ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও। ধারণা করা হচ্ছে, এ চিরকুট আর মোবাইলের কললিস্ট দেখেই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব। দোষীকে বাঁচানোর জন্যই এগুলো উধাও করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ১১ আগস্ট ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিচার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের সঙ্গে দেখা করেন সুমীর সহপাঠীরা। তারা মৌখিকভাবে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানান। এসময় পেশাগত কাজে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক যুগান্তর, আমার দেশ ও দিনকাল পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি গোলাম মুজতবা ধ্রুব, হারুন অর রশিদ ও মামুনুর রশিদ সৈকতকে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থী অজুহাতে রুম থেকে বের করে দেন উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির। ঘটনার সময় উপস্থিত থেকে যথাযথ বিচারের আশ্বাস দেন তিনি। অথচ ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করে প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের মৌখিক দাবি, সংবাদ সম্মেলন, ছাত্র ইউনিয়নের পোস্টারিং ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি দেখে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আরজু মিয়া বলেন, ‘১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বদিয়ার রহমানকে প্রধান করে একটি সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অধ্যাপক এসএম বদিয়ার রহমান বলেন, ‘কমিটি কাজ শুরু করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সুষ্ঠু রিপোর্ট দেয়া হবে।’

১১ আগস্ট ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় সভায় কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক সুমীর মৃত্যুর ঘটনাকে আলোচ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক লুৎফুল হাই জামি দাবি না মানলে তারা সভা থেকে ওয়াকআউট করেন। পরে ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এটিএম আতিকুর রহমান। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সদস্যরা ও ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতাকর্মীরা।

ডায়েরির পাতা থেকে
মার্জিয়ার মামা অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হাকিম জানান, পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া মার্জিয়ার ডায়েরিতে বিভিন্ন দিনের লেখায় ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এছাড়া ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন সম্পর্কের পর মার্জিয়াকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি করায় মার্জিয়া আত্মহত্যা করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছি। আমরা ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। সুমীর বাবা আ. সামাদ বলেন, ‘আমার বুকের টুকরো হারিয়েছি। এর পেছনে যে দায়ী, তার কঠোর শাস্তি চাই।’

২৭ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে মার্জিয়া লিখেছেন ‘সুমন অধ্যায়ের যাত্রা শুরু : আজ রাত ১২ টা ৩০ মিনিটে সুমন নিজ থেকে আমাকে ফোন করে। প্রথমত আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি তার সঙ্গে আমার রিলেশনটা আসলে কি। সে বলে কমপ্লেক্স। আমি ইজি করতে বলি। প্রায় রাত ২টা থেকে ২টা ৩০ এর মধ্যে আমি তাকে চাপিয়ে ধরি। আমি ঘুমোতে পারি না, আমার ভাল লাগে না সব বলি তাকে। কথার এক পর্যায়ে সে আমাকে লাভ করে এবং আল্লাহ চাইলে সব হবে বলেন। শেষ পর্যায়ে সে অফিসিয়ালি আমার সঙ্গে থাকার চেষ্টা করবে বলে। আল্লাহ আমাকে রহমত কর। আমার আশা পূরণ কর’। একই বছরের ২৬ নভেম্বর লিখেছেন, ‘আমি খুব ভাল আছি। সুমন গত ২৪ তারিখে ফাইনাল বলেছে আমাকে সে বিয়ে করবে’। ডিসেম্বরের ৪ তারিখে তার পূর্বে বিবাহ-বিচ্ছেদ সম্পর্কে লিখেছেন ‘গতকাল রাতে সুমন ভাইকে বললাম তার আমার ঝামেলা কাঁধে নিতে হবে না। আমি তার পরিবারকে ম্যানেজ করবো। এক্ষেত্রে তার কোন আপত্তি আছে কিনা। সে বলল তার কোন আপত্তি নেই।’ এ বছরের ২২ এপ্রিল লিখেছেন, ‘গত রাতে আমি সুমনকে জিজ্ঞাসা করলাম আমি কি আপনার মেন্টাল সাপোর্ট না পিছুটান। হেসে উত্তর দেয় সামনে টান। লোকটা এত হেঁয়ালি করতে পারে। অনেক অনেকবার জিজ্ঞাসা করার পর বলে তুমি আমার সব।’ একই বছরের ২১ জুন লিখেছেন, ‘আল্লাহ আমি সুমনকে অনেক ভালোবাসি তাকে কেড়ে নিও না সুমনকে আমাকে ভিক্ষা দাও।’ ৮ জুলাই লেখেন, ‘গত কয়েকদিনের ঘটনা সুমন গত ৪ তারিখ থেকে আমার সঙ্গে ভালভাবে কথা বলে না।’

সর্বশেষ মৃত্যুর আগের দিন ৮ আগস্ট তিনি লিখেছেন, ‘আমার উপর রাগ রাখবেন না। কথা ও সময় ফুরিয়ে আসছে তবে আমি আপনাকে খুব খুব ভালোবাসতাম। আপনি ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার। সুমীকে হয়তো এমনি কখনো মনে রাখতেন না। আশা করি এখন মনে থাকবে।’

অভিযুক্ত শিক্ষক বললেন…
উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ওই শিক্ষক বলেন, মার্জিয়ার বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার সঙ্গে আমর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার পূর্বে বিবাহ-বিচ্ছেদের বিষয়টি জানার পর আমি তাকে বিয়ে করতে অসম্মতি জানিয়েছি। ডিসেম্বরে বিবাহ-বিচ্ছেদের বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি তখনই তাকে সম্পর্ক সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলাম। তবে সে যাতে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারে সে জন্য ধীরে ধীরে বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টা করেছি।

আন্দোলনমুখী ক্যাম্পাস
সুমীর মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবিতে ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, শোক র‌্যালি, কুশপুত্তলিকাদাহ, স্মারকলিপি পেশ, বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষক মহল, ছাত্র, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ বিভিন্ন সংগঠন এর তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি নিয়ে দুই একদিনের মধ্যে আন্দোলনে যাবে বলে জানিয়েছে। সুমীর সহপাঠীরা সংবাদ সম্মেলনের পর গত শনিবার ১৩ আগস্ট শোক র‌্যালী ও শোকসভার আয়োজন করে। পরবর্তী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি পেশ, গণস্বাক্ষর গ্রহণ ও মানববন্ধন। এ সময়ের মধ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তার সহপাঠী ও ক্যাম্পাসের প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহ। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ও সহমর্মিতা ঘোষণা এবং পৃথকভাবে বিচারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়ন, জামালপুর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবি। তিনি কালবিলম্ব ও পক্ষপাতিত্ব ত্যাগ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মাহি মাহফুজ বলেন, ‘আমরা কলঙ্কিত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সৌমিত চন্দ জয়দ্বীপ বলেন, ‘স্পর্শকাতর এ বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।’