ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

সূর্য্য তখন পশ্চিমাকাশে। কিচির-মিচির শব্দে পাখির নীড়ে ফেরার প্রস্তুতি। ক্যাম্পাসে হাঁটছিলাম। অনিন্দ্য প্রাকৃতিক পরিবেশ। জাহাঙ্গীরনগরের নিবিড় আন্তরিকতায় মাঝে ম াঝে নিজেকে ভাগ্যবান বলেই মনে হয়। হাঁটছি। শহীদ মিনার পার হয়ে পরিবহন চত্ত্বর। লেকের ধার বেয়ে। ক্রিংক্রিং শব্দে মোবাইল ফোনটা বেজে ওঠলো। দেখি আম্মুর ফোন। রিসিভি করতেই উৎকন্ঠিত কন্ঠ, ‘এই তোর ক্যাম্পাসে কি হয়েছে?’
-কই আম্মু, জানি না তো। ভালই তো আছি।
-এই যে টেলিভিশনে দেখাচ্ছে। তোর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নাকি মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। র‌্যাব ধরেছে।
-আম্মু আমি তো জানি না। দেখছি। খোঁজ নিতে পারি কিনা?

লাইন কাটতেই সাংবাদিক সহকর্মীর ফোন। একই কথা। স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। পা যেন অবশ। মাটির সঙ্গে যেন তার হাজার বছরের বন্ধুত্ব। ছাড়তেই চায় না। কোনমতে রুমে গিয়ে ইন্টারনেটে ঢুঁ। দেখি সত্যিই তো। বিডিনিউজ (যঃঃঢ়://িি.িনফহবংি২৪.পড়স/নধহমষধ/ফবঃধরষং.ঢ়যঢ়?পরফ=২্রফ=১৭২৫২৫) এ স্যারের ছবিসহ নিউজটা দেখাচ্ছে।

নিজেকে একটু অসহায়ই মনে হলো। এর আগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে দূর্র্নীতি, মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনেকগুলো অনিয়মের খবর জেনেছিলাম। তারপরও বিশ্বাস ছিলো, এখনও কিছু ভালো মানুষ আছেন। তার মধ্যে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের তরুণ এ শিক্ষকের প্রতিচ্ছবি বারবার ভেসে আসতো চোখের সামনে। অত্যন্ত প্রতিভাবান আর কঠোর পরিশ্রমী। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন ঝামেলায় আগে ছুটে যান। সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনে অগ্রগামী। সর্বমহলে ক্লিন ইমেজের অধিকারী প্রাণচঞ্চল এ শিক্ষক। ক্লাসেও ভালো পড়ান। শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে নিসন্দেহে। অথচ এই স্যারকেই দেখতো হলো মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের জালিয়াতের ঘটনায় সম্পৃক্ত হিসাবে। বিশ্ববিদ্যালয়! দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই আগামী দিনের খুনি ডাক্তার, হাতুড়ে অস্ত্রবাজ সরবরাহের কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন! স্বার্থপর সরকার, সুযোগের অভাবে সৎ বিরোধী দল, কলুষিত রাজনৈতিক দল, অস্বচ্ছ ্আর অপবিত্র ছাত্র রাজনীতি!!! কারো কাছেই তো গঠনমূলক আর ক্রিয়েটিভ কিছুই আশা করা যায় না। শেষ ভরসা শিক্ষকরাও আস্থার জায়গা হারালেন! কোথায় যাবো! কোথায় মিলবে মুক্তি! কিভাবে হবে দেশের উন্নতি! অবশ্য এখনও আশা করছি, আমাদের প্রিয় স্যার ষড়যন্ত্রের শিকার! তিনি হয়তো প্রতারিত! তিনি হয়তো এ কলঙ্কজনক আর নীচু কাজের সঙ্গে জড়িত নয়। কখনোই জড়িত হতে পারেন না। তিনি যে আমাদের শিক্ষক! আমাদের পথ প্রদর্শক!! তিনি যে আমাদের ন্যায়ের পথ দেখাবেন!!! সত্য পথের সন্ধান দেবেন!!!