ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

বাহারী রঙ নিয়ে উড়ে বেড়ায় প্রকৃতির নান্দনিক অনুষঙ্গ প্রজাপতি

মশারি দিয়ে ঘেরা প্রদর্শনী স্টল। ফুলের উপর সাত রঙের প্রজাপতিরা উড়ে উড়ে খেলা করছে। বাইরে থেকে প্রজাপতির রঙ আর খেলা মুগ্ধ হয়ে দেখছে শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষ। প্রজাপতির পাখার রঙ ক্যামেরায় বন্দির খেলায় ব্যস্ত কেউ কেউ ।

গতকাল শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রজাপতি মেলায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। ‘আকাশে উড়লে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করে। মেলা উপলক্ষে সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয় পুরো ক্যাম্পাস।

সকাল সাড়ে ১০টায় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রচেষ্টায় কৃত্রিমভাবে প্রজননকৃত প্রজাপতি ও বেলুন আকাশে উড়িয়ে প্রজাপতি মেলা ২০১১ এর উদ্বোধন করেন প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মুনিররুজ্জামান। এসময় উপ¯ি’ত ছিলেন প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. ফরহাদ হোসেন, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক আবদুল জব্বার হাওলাদার, শিল্পী ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিনী, চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন, ¯’পতি রবিউল হুসাইন এসময় উপ¯ি’ত ছিলেন। এতে প্রজাপতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাহমুদুল আমীনকে মরণোত্তর ‘আজীবন সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। এসময় প্রজাপতি বিষয়ক ‘বাটারফ্লাই অব বাংলাদেশ: এ পিকচোরিয়াল হ্যান্ডবুক’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের করিডোরে শিশুদের জন্য ‘প্রকৃতি ও প্রজাপতি’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। পাশাপাশি শহীদ মিনার সংলগ্ন বাগানে আয়োজন করা হয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেনর তোলা প্রজাপতির ছবি প্রদর্শনী। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রজাপতি আকৃতির প্রদর্শনী ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় প্রজাপতি বিষয়ক বারোয়ারী বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

মশারি টাঙিয়ে তার ভেতর কৃত্রিম বাগান তৈরী করে বোটনিক্যাল গার্ডেনে ব্যব¯’া করা হয় সরাসরি প্রজাপতি প্রদর্শনীর। আগত দর্শনার্থী শিশু, কিশোর, বয়স্ক সকলেই ঘুরে ঘুরে মেলায় প্রজাপতির সৌন্দর্য
উপভোগ করে।

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্ট্যান্ডার্ড ফাইভের শিক্ষার্থী সাদনান মাহবুব বলেন, ‘আব্বু-আম্মুর সাথে প্রজাপতি দেখার জন্য এসছি। এতগুলো প্রজাপতি আমি কখনোই একসাথে দেখিনি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে প্রজাতি নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘প্রজাপতি’ দেখানো হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিকাল ৫টায় দিনব্যাপী এ মেলার সমাপ্তি ঘটে।

এদিকে মেলা উপলক্ষ্যে সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয় পুরো ক্যাম্পাস। মেলা দেখতে আসা দেশে ও দেশের বাইরে অব¯’ানকারী এই ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থীরা মেলা প্রাঙ্গন, ক্যাফেটেরিয়া চত্বর, পরিবহণ চত্বর ও বিভিন্ন বিভাগে হারানো দিনের মতো আড্ডায় মিলিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম ব্যাচের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহেদ উজ জামান বলেন, এ ধরনের আয়োজন পরিবেশের জন্য অনেকটা সহায়ক। প্রজাপতি নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী এ মেলা উপলক্ষে আমরা আমাদের অনেক বন্ধুরা এক জায়গায় মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি।

মেলার আহবায়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রকৃতি ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলকে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জীব-বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পরিবেশ রক্ষায় প্রজাপতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ জন্য লুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রজাপতি রক্ষা ও প্রজননের বিষয়ে গবেষণা বৃদ্ধি করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।