ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

একটি বিমূর্ত একটি বিষয়। সঠিকভাবে সঠিক অর্থে যাকে সজ্ঞায়িত করা বেশ শক্ত। শান্তি কারো কাছে সহজলভ্য হয়। আবার কারো নিকট তা অধরাই রয়ে যায়। এর মতো দূর্লভ বস্তুর পিছু পিছু কেউ সারা জীবন ব্যয় করে অন্যদিকে কেউ চায় তা থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে। কারণ, ঐ তথাকথিত শান্তি জীবনকে বিষিয়ে তুলতে পারে। এর সংজ্ঞা তাই স্থান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন। আমি যদি একটি নির্মল জীবনের আনন্দ উপোভোগ করতে চাই তবে হয়তো কথিত শান্তি আমার নিকট ধরা দেবে না। আর একে স্পর্শ করতে চাইলে জীবনের সরলতা চিরতরে দূরীভূত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

একটি মধ্যবিত্ত জীবনের কথাই ধরা যাক যাকে সকলে আমরা অশান্তির জীবন বলে জ্ঞান করি কোন ব্যক্তির কাছে তা পরম পাওয়া হতে পারে। পক্ষান্তরে উচ্চবিত্ত জীবনের বিলাসিতা । যার মোহে আমরা বিমোহিত হয়ে পড়ি কখনো কখনো তা মানুষের জীবনে অশান্তির উৎকৃষ্ট উদাহরন হয়। আমি যখন প্রতিদিনের গুরুত্বপুর্ণ কাজে রাস্তায় বের হই তখন অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, অসহনীয় যানযট, নোংরা পরিবেশ, যানবাহনের কালো ধোয়া, বুড়িগঙ্গার কালো জল আমাকে অশান্তির ভাগাড়ে নিক্ষেপ করে।

এতকিছুর পরও দিনের কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করে গন্তব্যে ফিরি তখন এক অনাবিল সুখ বা শান্তি খুঁজে পাই। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের প্রতিটি পাঠদান আমার নিকট শান্তির লালিত বাণী বৈ কিছুই নয়। ভাললাগা খুঁজে পাই পথে-প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানো সর্বহারা অবুঝ শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে। আমাদের ভাষায় জীবন সংগ্রামে ব্যর্থ যে কুলি মজুর আর রিক্সাওয়ালা তাদের একফালি সরল হাসি আমার কাছে প্রকৃত শান্তি । গল্পের সেই সুখি মানুষটি যার আনন্দের কোন অভাব ছিলনা মাঝে মাঝে নিজেকে তার সঙ্গে তুলনা করে পুলকিত হই। লালিত সাম্যের বাণী বারবার ব্যর্থ হয়ে যায় দেখে নিজেই বোকা বনে যাই। পাচঁশ টাকার জন্য যে ছিনত্ইাকারী নির্মম আঘাতে সম্ভাবনাময় একজন সাংবাদিককে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল সেও তো প্রাচুর্যই অনুসন্ধান করেছিল!

অস্তিত্বের জন্যই আমরা সংকটের সম্মুখিন হই আবার শান্তির জন্যই তাকে উৎড়ে যাওয়ার সাহস করি। হয়তো আমরা সফলও হই বটে। তবে তার স্থায়িত্বকাল নিয়ে প্রশ্ন আসে। এটা আমাদের অজানা নয় যে নৈতিকতার মধ্যে দিয়ে যে শান্তি অর্জিত হয় তার অনেক বেশি স্থায়ী হয়।