ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

বাংলাদেশে প্রায় ২২ লক্ষ সরকারি চাকরিজীবী রয়েছে। যারা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরিরত রয়েছে। এ বছর সরকার সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করে নতুন বোনাস প্রচলন করেছেন যার নাম বৈশাখী বোনাস।

এরই মধ্যে সরকারি কর্মচারীরা বৈশাখী বোনাস পেয়ে গেছেন। সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী-এমপিদেরও বেতন বোনাস বৃদ্ধি পেয়েছে কারণ উনারা জনগণের সেবা দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেছে আর সরকার জনগণের টাকার সঠিক ব্যবহার করছে তার প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জন্য যেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা পুরো বাংলাদেশ। অথচ সরকারের ধারণা হচ্ছে বেতন বোনাস বৃদ্ধি করলে সরকারি কর্মচারীরা অবৈধ আয়ের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করবে। যা “তেলের মাথায় ঢালো তেল শুকনো মাথায় ভাঙ্গো বেল”- এ প্রবাদে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

টিআইবি’র রিপোর্ট অনুসারে দুর্নীতির লিস্টে এখনও বাংলাদেশের নাম আছে যদিও পূর্ববর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ একটি বিশেষ স্থান দখল করেছিল এবং সেই স্থানটি বেশ কয়েক বছর বাংলাদেশ দখল করেছিল। এখন হয়তো স্থানচ্যুত হয়েছে কিন্তু তালিকায় নামতো রয়ে গেছে। সরকারের বিশেষ বিশেষ প্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীরা যা মাসিক বেতন পায় তাহার ৩ হইতে ৪ গুণ আয় করে থাকে অবৈধ পথে। তাদের যে বেতন দিচ্ছে তা সম্পূর্ণ জনগণের ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকা আর জনগণের ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকার সদ্ব্যবহার হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের লোকের জন্য।

কিছুদিন পর আসছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ সাল ১লা বৈশাখে সরকারি কর্মচারীরা ইলিশ খাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামবে অন্যদিকে বেসরকারি কর্মচারীরা তেলাপিয়া মাছ খেয়ে কৈ মাছের স্বাদ গ্রহণ করবে এই হচ্ছে একই দেশে দু’ধরনের নীতি। সরকার যখন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে তার পরের দিন বাজারে জিনিসপত্রের দামের উর্ধ্বগতি আর দায়ভার বহন করছে সাধারণ মানুষ।

বেসরকারি কর্মচারীরাই সরকারকে অধিক পরিমাণ ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে থাকে কারণ তারা সংখ্যায় অনেক। কিন্তু সরকার বেসরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকে। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারীদের মতো বেতন বৃদ্ধির জন্য রাস্তায় নামতে পারে না, রাস্তায় নামলে চাকুরি হারাবার ভয় থাকে।

প্রায় ১৬ কোটি জনগণের মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, যাদের ভোটাধিকারে সরকার গঠিত হয়। সরকারি চাকরিজীবিদের আনুসাঙ্গিক সুবিধা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবিরা যেন পেতে পারে তার ব্যবস্থা যদি সরকার করে তাহলে দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে। সরকারের এ দু’নীতি মনোভাব ত্যাগ না করলে সরকার যে মধ্য আয়ের স্বপ্ন দেখছে সেই কথাটি একমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।