ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

১৬ই ডিসেম্বর ২০১৬ মহান বিজয় দিবস। স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ ও লক্ষ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। ভাষা ও দেশ মাতৃকার জন্য এমন আত্মত্যাগ পৃথিবীর আর কোন দেশে ঘটে নাই।

কিন্তু আমরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতাকে কতটুকু রক্ষা করতে পেরেছি? ক্ষমতালোভী রাজনীতিকদের হিংসাত্মক থাবায় বারবার স্বাধীনতা ভুলন্ঠিত হয়েছে। জীবনানন্দের রূপসী বাংলা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে রূপ হারাচ্ছে। পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা বিজয় পেয়েছি, কিন্তু তাদের কিছু বীজ আজও আমাদের দেশে রয়ে গেছে।

১৯৫২ সালের ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ আরও অনেকে। আজ আমরা নিজেদের প্রাণের ভাষা বাংলায় কথা বলছি কিন্তু সেই প্রাণের ভাষা বাংলাও আঘাত প্রাপ্ত হচ্ছে কথিত কিছু শিক্ষিত সমাজ দ্বারা। তারা তাদের সন্তানদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষ করে তুলছে শিশু বয়সেই। তাদেরকে ভবিষ্যতের চাকুরির জন্য উপযুক্ত করে তুলছে যার ফলে ঐ শিশুরা বাংলায় কথা বলতে পারছেনা। আর যারা বলছে তারা বাংলা ইংরেজির মিশ্রণে কথা বলছে।

এর জন্যই কি ভাষা শহীদেরা তাদের প্রাণ দেশের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন? ১৯৭১ সালের যুদ্ধে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যেখানে কারও কোন রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না সবাই দেশ মাতৃকা ও জন্মভূমির টানে যুদ্ধ করেছে কিন্তু আজ দেশের মধ্যে হাজার হাজার রাজনৈতিক দল তারা ভিন্ন ভিন্ন মর্তাদশে বিশ্বাসী কিন্তু কারও মধ্যেই দেশ মাতৃকার টান নেই। সবাই স্ব স্ব দলের উন্নতিতে ব্যস্ত। এর জন্যই কি লক্ষ শহীদের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে? স্বাধীনতা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, ইহা সবার। আসুন আমরা সকল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে গিয়ে এই ১৬ই ডিসেম্বর ২০১৬-তে এই শপথ করি দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও দেশের উন্নয়নের জন্য সবাই এক কাতারে দাঁড়াই। কারণ একটি দেশের উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে সে দেশের জনগণের উন্নতি। জনগণের উন্নতি ছাড়া কখনও দেশের উন্নয়ন হয় না।