ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

ইংল্যান্ডের পাশের ছোট্ট দ্বীপদেশ আয়ারল্যান্ড। এখানে সাকুল্যে ৬/৭ হাজার বাঙালীর বসবাস। ৬/৭ হাজার বাংলাদেশী বসবাসকারী এই দ্বীপদেশে বাংলাদেশীরা যে আছেন তাই বোধহয় অনেকে জানেন না।

এই আয়ার‌ল্যান্ডে গত সপ্তাহটি বাংলাদেশীদের জন্য ছিল বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের দুই-দুইজন মন্ত্রীর পা পড়েছিল এখানে। বাংলাদেশের যেকোন পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের এটাই প্রথম আয়ারল্যান্ডে আসা। গত ক‘মাস হল আয়ারল্যান্ডে বিএনপি আওয়ামী লীগ রাজনীতির চর্চা শুরু হয়েছে। এই নিয়ে অবশ্য নানা গ্রপিং ও আছে। ৬ হাজার বাঙালীর এই দেশে এই দুদলের কর্মীর সংখ্যা হয়ত ৫০ জনও না তবে গ্রুপের সংখ্যা দুই অংক ছুতে আর বেশী দিন বাকী নেই।

তো গত ৩ তারিখ ছিল আয়ারল্যান্ড বিএনপির প্রথম সম্মেলন। তাতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং জাসাসের সাবেক সেক্রেটারী বাবুল আহমেদ। এই দুজনই আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করেছিলেন অবৈধভাবে। তারা এসেছিলেন লন্ডনে। লন্ডন থেকে আয়ারল্যান্ডে আসতে ভিসা লাগে ননইউরোপিয়ানদের। কিন্তু বেলফাষ্ট হয়ে সড়কপথে চলে এলে কোন চেকপোস্ট নেই। দুলু আর বাবুল সেই পথ ধরেই কোন ভিসা ছাড়া অবৈধ ভাবে আয়ারল্যান্ডে ঢুকে পড়েন। চিন্তা করা যায়? বাংলাদেশের সাবেক একজন মন্ত্রী একটা দেশে ইলিগ্যালি ঢুকে পড়েছেন। আসতেই যদি চান তাহলে কি লন্ডনে আইরিশ এমব্যাসিতে ভিসার জন্য এপ্লাই করা যেত না? এই যদি হয় সাবেক মন্ত্রীর নৈতিকতা তাহলে দেশের সম্মানটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?

সবচেয়ে চমকপ্রদ এবং লজ্জার বিষয় হল আইরিশ পুলিশেরা এই দুজনের অবৈধ ভাবে আ্য়ারল্যান্ডে ঢোকার খবর পেয়ে তাদের গ্রেফতার করতে অনুষ্ঠান স্থলে আসে। কী কেলেংকারী! পুলিশকে খবরটি সরবরাহ করে বলাই বাহুল্য বিএনপিরই আরেকটি গ্রুপ, যারা এই সম্মেলনে হাইপ্রোফাইল দেশীয় নেতাদের আগমনে কমিটি হাত থেকে ছুটে যাওয়ায় ঈর্ষান্বিত। বিশ জনের একটা দল তাতে আবার কয়েকটা গ্রুপ!

তো যাই হোক। পুলিশ গ্রেফতার করতে আসলে পুলিশকে অনুরোধ করে সবকিছু বলা হয় যে তারা বেলফাস্ট হয়ে এসেছেন, তারা জানতেন না যে এভাবে আসা ইলিগ্যাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইরিশ একজন লোকাল পলিটিশিয়ান। তার অনুরোধে পুলিশ শান্ত হয়। দুই অবৈধ প্রবেশকারীকে দুই ঘন্টা সময় বেধে দেয় তারা দেশ ছেড়ে যাবার জন্যে। পরে দুই ঘন্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে সীমান্ত পার হোন সাবেক মন্ত্রী দুলু আর বাবুল আহমেদ।

এতো গেল বিএনপির কথা। আগের দিন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। তিনি অবশ্য বৈধভাবেই এসেছেন। তার তো ভিসার সমস্যা নেই। এই প্রথম আয়ারল্যান্ডে এমন কোন ভিআইপি বাংলাদেশীর প্রবেশ। তিনি আয়ারল্যান্ডে বেড়াতে এসেছেন কেননা আয়ারল্যান্ডে তার আপন ছেলে থাকে। কিন্তু লজ্জার বিষয় হল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ছেলে রনি এদেশে ইলিগ্যাল ইমিগ্র্যান্ট। এদেশে থাকার তার কোন বৈধতা নেই। অবৈধভাবে কয়েকবছর ধরে এদেশে আছে সে। বাবা মন্ত্রী হবার আগে কেউ জানত না তার বাপ এমন ভিআইপি। এমনকি মন্ত্রী হবার পরেও অনেকে চিনত না। ইদানিং সবাই তাকে চিনেছে। এখন তার দিকে বাঙালী হেলে পড়ে একটু সুদৃষ্টির প্রত্যাশায়। লজ্জার ব্যাপার মন্ত্রীর নিজের ছেলে অবৈধভাবে আরেকটা দেশে পড়ে আছে। ভাগ্য ভাল আলীগে তেমন গ্রুপিং এখনও নাই, তা না হলে যদি কেউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আয়ারল্যান্ডে থাকা অবস্থায় পুলিশে খরব দিয়ে তার ছেলেকে ধরিয়ে দিত তাহলে সেটা আরেকটা জাতীয় লজ্জার ব্যাপার হয়ে দাঁড়াত।