ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 

১৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এক রায়ে ভারতের তিনটি চলচ্চিত্র বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে । চলচ্চিত্র তিনটি হলো সংগ্রাম, বদলা, এবং জোর। কথা হচ্ছে ভারতীয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশের হল গুলোতে দেখালে আমাদের কতটুকু ক্ষতি না লাভ হবে?

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ । ৯ নয় যুদ্বের বিনিময়ে লাখে শহীদের অজিত এক সবুজ শ্যামল শান্তিময় বাংলাদেশ। যেখানে রয়েছে নিজের এক ভিন্ন সংস্কৃতি। নিজস্ব ছবি নির্মাণ করার ক্ষমতা। পরিচালক তৈরির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে সারা দেশে অনেক ছবির প্রদর্শিত হল । আছে ছবি নির্মাণ করার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান । কারিগরী সহায়তা দেওয়া মত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আছে সরকারি প্রতিষ্ঠান এফডিসি। ছবি ভাল কিংবা মন্দ তা দেখার জন্য রয়েছে বাংলাদেশের নিজস্ব সেন্সর বোর্ড। আর পুরো ছবি নির্মাণ এর সাথে জড়িত আছে লাখে লোক যাদের সংসার চলে এরই মাধ্যমে।

আমি লেখাটি লিখছি একটি দৈনিকে প্রকাশিত রিপোট দেখে – রিপোটটির শিরোনাম ছিল “হাইকোটের রায়ের বিপক্ষে সেন্সর বোড” অথাৎ ভারতের তিনটি চলচ্চিত্র বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সেন্সর বোর্ড আপিল করবে আর তার জন্য তারা আইন মন্ত্রণালয়ে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে।

আমি আগেই বলেছি ছবির ভাল মন্দ দেখার দায়িত্ব যেহেতু সেন্সর বোর্ডের সেখানে সেন্সর বোর্ডই চাচ্ছে না ভারতীয় ছবি বাংলাদেশের হলে প্রদর্শিত হোক সেখানে হাইকোর্টের বায় দেওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত। নাকি হাইকোর্টকে কেউ ব্যবহার করে আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধংস করার পাঁয়তারা করছে।

আমরা বর্তমানে আকাশ সংস্কৃতির মাধ্যমে বাইরের দেশের সংস্কৃতির এর সাথে যখন পেরে উঠতে পারছিনা কথায় কথায় আমাদের মেয়েরা সানজি , আন্দার আও, পেয়ার বলে এবং রিমোট নিয়ে বসে থাকে কখন শুরু হবে হিন্দি সিরিয়াল তখন বড় পর্দায় আমাদের দেশে ভারতীয় ছবি প্রদর্শন করা মানে প্রবাদের সেই ব্যকের মত “এমনি নাচতে বুড়ি তার উপর ঢোলের বারি”

ভারতীয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশে দেখালে প্রিয় দর্শক আমরা কোথায় যাবে! কোথায় যাবে আমাদের সংস্কৃতি! এবং কোথায় যাবে রক্ত কেনা আমাদের বাংলাভাষা। একটু ভেবে দেখবে কি হাইকোর্ট?

প্রিয় দর্শক এবার আপনারাই বলেন ভারতীয় ছবি বাংলাদেশের হলগুলোতে দেখালে আমাদের কতটুকু ক্ষতি বা লাভ হবে?