ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

ভাল কে ভাল এবং মন্দ কে মন্দ বলা সবার নীতি হওয়া উচিত । আমারও হওয়া উচিত। কেউ খারাপ করলে যেমন তাকে ভুল ধরিয়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য তেমন কেউ ভাল কাজ করলে তাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারকে নিয়ে যত সমালোচনা লেখা লেখি না কেন তারা যদি জনগনের কল্যানে কাজ করে তাহলে তাদেরকে ধন্যবাদ না দিলে ছোট করা হয়।

আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ । তাই সিরাজগঞ্জে যখন একটি উন্নয়ন হয় তখন আমর ভাল লাগে। প্রায় ৫ লক্ষাধিক লোকের শহর সিরাজগঞ্জ। কবি বলেছিলেন ততদিন রবে শেখ মুজিবুর রহমান যতদিন থাকবে পদ্ম মেঘনা যমুনা বহমান। সেই যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত আমাদের সিরাজগঞ্জে ১৯৬০ সালে শহরের দক্ষিণ অংশে রায়পুরে ৭৫ একর জমির ওপর নর্দান পিপলস্ জুট মিল নামে একটি পাটকল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এই পাটকলটি নামকরণ করা হয় কওমী জুট মিল। এই পাটকলটিতে কাজ করে অনেক ব্যাক্তি তাদের সংসার চালাতে আর এর ফলে শহরের দোকানগুলোতে থাকতো কেনাকাটার ধুম। শহরও তখন জমজমাট হতো । সোমবার ও বৃহস্পতিবার কওমী জুট মিল গেটে হাট লাগতো কারন বৃহস্পতিবার মিলের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরী দেওয়া হতো আর এর ফলে সবার ঘরে থাকতো খুশি আর আনন্দ। কিন্ত ৬২ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের ভারে ২০০৭ সালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে পাটকলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর এর ফলে বেকার হয়ে পড়ে বহু পরিবার। সিরাজগঞ্জে অথনীতি হয়ে পড়ে দুবল। যেখানে বিশ্ব একসময় বাংলাদেশের পাট রপ্তানি করে আয় করতো বৈদেশিক মুদ্রা। আর তাই পাটকে বলা হতো সোনালী আঁশ । সেখানে বাংলাদেশে একের পর বন্ধ করে দেওয়া হয় একের পর এক পাটকলগুলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই পাটের গৌরব ফিরেয়ে আনতে মনে হয় কাজ করে যাচ্ছেন । আর তারই ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জের বন্ধ হওয়া কওমী জুট মিলটি চালু করলেন তিনি । যার নাম দিয়েছেন জাতীয় জুটমিল। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। সাথে সাথে সেখানে ৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে এতে করে সিরাজগঞ্জ মানুষের বেকার সমস্যা অনেক কমবে এবং সিরাজগঞ্জ এর অর্থনীতির চাকা জোরদার হবে। তবে সবারই মনে রাখতে হবে জাতীয় জুট মিলটি যাতে আর লোকসান না হয়, দুর্নীতি না হয়, কাজ না করে কেউ বেতন না নেন. রাজনীতি করন না করা হয় । সবাই মিলে মিশে সিরাজগঞ্জ জাতীয় জুট মিলটি চালু রাখবে এবং লাভের মুখ দেখাবে এ কামনা আজ আমার!