ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

এবারের গন্তব্য থানচি উপজেলা। রুট: থানচি-রেমাক্রি-নাফাখুম-থুইছাপাড়া-দেবতাপাহাড়-পদ্মমুখ। বান্দরবান হচ্ছে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ আধার। পাহাড়-জঙ্গল এবং ঝরনা উপত্যকায় ভরপুর। ঢাকা থেকে বান্দরবানের দূরত্ব ৩৭৮ কিলোমিটার।

শুধুমাত্র সড়ক পথেই বান্দরবান যাওয়া যায়। গাবতলি, কলাবাগান, আরামবাগ, সায়েদাবাদ সহ ঢাকার সবকটি বাসস্ট্যান্ড থেকেই বান্দরবানের বাস পাওয়া যায়। ভাড়া কমবেশি ৭০০ টাকা। যেতে সময় লাগে ৮-১০ ঘন্টা। আমরা রওনা হয়েছিলাম কমলাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে।

যখন আমরা বান্দরবান সদরে পৌঁছে গেলাম তখন প্রায় সকাল ৮টা। বান্দরবান জিরো পয়েন্ট থেকে বাঁ-দিকেই ৩ নাম্বার বাস কাউন্টার। সেখানে গিয়ে আমরা সকালের নাস্তা করলাম এবং থানচি যাবার বাসের টিকিট করলাম। বাস ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা, টিমে লোকজন বেশি থাকলে চান্দের গাড়ি ভাড়া করা যেতো, তবে সেটা ব্যয়বহুল। আমরা তিনজন মাত্র ৬০০ টাকায় পৌঁছে গেলাম থানচি বাজারে, যেখানে চান্দের গাড়ি নিলে ভাড়া আসতো তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা।

যাইহোক, যখন আমারা থানছি পৌঁছে গেলাম তখন প্রায় ২টা বা ৩টা বাজে। আমারা খুব দ্রুত নাস্তা সেরে নিলাম, কারণ সময় নষ্ট করার মতো কোন সময় ছিলো না। আমাদেরকে এখন ভাড়া করে থানচি থানা থেকে অনুমতি নিতে হবে। দুপুরের খাবার শেষে আমরা একজন গাইড ভাড়া করলাম তিন দিনের জন্য এবং তাকে দিতে হবে দুই হাজার টাকা। আর ট্রলার ভাড়া ৪০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা। আমরা ৪০০০ টাকা দিয়ে ট্রলার ভাড়া করেছিলাম। এখানে তাদের একটি সিন্ডেকেট আছে। যেমন- ট্রলার ভাড়া ও গাইড সহ লাগে ৭০০০ টাকা। যদি ট্রলার ভাড়া ৪৫০০ টাকা হয় তাহলে গাইডকে দিতে হয় ২৫০০ টাকা। এটা তাদের ব্যাপার, মোট কথা হলো গাইড এবং ট্রলার ভাড়া মিলিয়ে যাওয়া-আসা ৭০০০ টাকা।

তারপর আমরা থানচি থানা থেকে অনুমতি নিলাম, থানায় আমাদের একটি গ্রুপ ছবি তুলে রাখলো। কিন্তু অনুমতি শুধু থানা থেকেই নয়, বিজিবির কাছ থেকেও অনুমতি নিতে হবে। তারপর আমরা ৩৩ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন এর কাছ থেকে অনুমতি নিলাম। এইসব কিছু করতে গাইড আমাদের সাহায্য করলো। এই লম্বা সফের পথ চলাটা সহজ হলো। সব ফর্মালিটিজ সেরে আমাদের রওনা দিতে ৪.৩০ বেজে গেলো। এবার রওনা হওয়া যাক।

থানচি থেকে আমরা রওনা হলাম রেমাক্রির উদ্দেশ্যে সাঙ্গু নদী ধরে। এলাকায় একে সঙ্গ নদী বলে ডাকা হয়। সাঙ্গু নদী বান্দরবান জেলার দক্ষিণ-পূর্ব সীমানায় আরাকান এর পাহাড়ে জন্ম নিয়ে উত্তর দিকে বান্দরবান শহর দিয়ে রুমা-থানচি হয়ে ১৬০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বঙ্গপোসাগরে পড়েছে। সাঙ্গুর সাথে ৭টি নদী যোগ হয়ে এর জলধারাকে আরো গতিশীল করেছে। এই নদীতে বর্ষায় প্রবল পাহাড়ি ঢল হয়। সমতলে বসবাসরত অনেকেই এই উপজেলায় বেড়াতে আসাতো দূরের কথা থানচির নামটিও জানেনা। এই উপজেলায় দারুণ দারুণ দর্শনীয় প্রকৃতিক পরিবেশ রয়েছে। থানচি উপজেলার আয়তন ২৬১০.১০ বর্গ কিলোমিটার। মারমা শব্দ থানচি অর্থ ‘বিশ্রামাগার’। ধারণা করা হয় ১৯৫০ সালে বা তার পূর্বে নৌ-পথে চলাচলকালে এখানে যাত্রীগণ বিশ্রামের জন্য নামতেন বলে একে থানচি নামকরণ করা হয়েছিল।

 

 

নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে করেতে আমরা থানচি থেকে রেমাক্রি যাচ্ছি। সঙ্গে আছে আমার আরো তিন বন্ধু রুবেল, শামিম, এবং সুমিত ভাই। রুবেলের সাথে থানচি এসেই পরিচয়। আর আমাদের সঙ্গে আছেন গাইড শফিকুল। সাঙ্গু নদী হয়ে রেমাক্রি যাবার পথে দেখা মিলল বড় পাথরের এবং রাজা ও রাণী পাথরের। এই পাথর দেখতেও অনেকেই এখানে এসে থাকেন। প্রায় ২ ঘন্টা পর আমরা পৌঁছে গেলাম রেমাক্রি, বাকিটা পায়ে হেঁটে যাবার রাস্তা। তবে রাস্তাটি ঝিড়ি পথ, যেখানে চলতে হলে আপনাকে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পায়ে দিতে হবে। আমরা সবাই থানচি বাজার থেকেই স্যান্ডেল কিনে এনেছিলাম। হাঁটু পানি দিয়ে আমরা হেঁটে হেঁটে চলছি নাফাকুম গেস্ট হাউজের দিকে, সময় লাগলো ১৫ মিনিট।

নাফাখুম গেস্ট হাউজে পৌঁছে যাবার পর তখন প্রায় শেষ বিকেল। রুম ভাড়া জন প্রতি ১৫০ টাকা এবং খাবার প্রতি মিল ১২০ টাকা।
আজ রাতে এই গেস্ট হাউজে থাকার পর কাল সকালে আমরা রওনা হবো নাফাকুম জলপ্রপাত দেখতে। তিন দিনের এই সফরে আজ প্রথম দিন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্ব দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে এখানেই বিদায় নিচ্ছি আমি জাহিদ সুমন।

ভিডিওটি কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

আমাদের আরো নতুন-পুরাতন ভ্রমণ কাহিনী দেখতে এক্ষুনি ঘুরে আসতে পারেন আমার ইউটিউব চ্যানেলে।  সেই সাথে চ্যানেলটিতে সাবস্ক্রাইব করে আমাকে আরো উৎসাহ দিতে পারেন।

পরিশেষে সবাইকে আবরো ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি।