ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

কবুতরের এই বিশেষ প্রজাতির উড়াউড়িতে মুখরিত শাহজালাল (রঃ) এর মাজার। সারাদিন যেখানে যে বাড়িতেই উড়াউড়ি করুক না কেন, সন্ধ্যাকালে ফিরে আসে মাজারে। এই কবুতর যেন আধ্যাত্মিকা এবং প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে একাকার। কয়েকশ কবুতর যখন হঠাৎ করেই ডানা ঝাপটে আকাশে উড়ে বেড়ানো শুরু করে সে এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করে। আমি মোবাইল ক্যামেরায় সেই দৃশ্যপট ধারণ করতে পারেছিলাম একবার।


জালালি কবুতরের মাথা-পিঠ-বুক ঘন-ধূসর, ঘাড়-গলা ধাতব সবুজ, তার ওপরে গোলাপি রঙের আভা। ডানার প্রান্তে যেমন দুটো চওড়া কালো ব্যাণ্ড আছে, তেমনি লেজের আগায় আছে কালচে একটি আড়াআড়ি ব্যাণ্ড। পা লালচে, ঠোঁট কালচে। ঠোঁটের গোড়ায় সাদা রং।

জানা গেছে, জালালি কবুতর স্বতন্ত্র প্রজাতির না হলেও এর আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। শাহজালাল (রঃ) নিয়ে দিল্লীর নিজামউদ্দীন আউলিয়ার কাছে তার এক শিষ্য কুৎসা রটনা করলে নিজামুদ্দীন আউলিয়া তাকে দরবার থেকে বিতাড়িত এবং শাহজালাল (রঃ) সালাম পাঠায়, তখন শাহজালাল (রঃ) একটি বাক্সে প্রজ্জলিত অঙ্গারের সাথে কিছু তুলা পাঠান যা ছিলো একটি আধ্যাত্মিকার নিদর্শন, তারপর তাদের সাক্ষাত হয় এবং শাহজালাল (রঃ) ফিরে আসার সময় ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ নিজামুদ্দীন আউলিয়া তাকে একজোড়া সুরমা রঙের কবুতর উপহার দেন, যা আজকের জালালী কবুতর বা জালালী কইতর নামে পরিচিত।

কিন্তু নিরাপদ আবাসস্থলের অভাবে আজ এই জালালি কইতর বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে, সাথে যোগ হয়েছে কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের এই কবুতর ধরে খাওয়ার লোভ। সিলেটের এই অনিন্দ্য সুন্দর  আধ্যাত্মিক নিদর্শন ধরে রাখতে সচেতনতার পাশাপাশি নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলা খুব বেশি জরুরি হয়ে গেছে।