ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

গতকলের ঘটনা। সন্ধার একটু পরে ট্যাক্সির জন্য লাইনে দাঁড়ানো ছিলাম। সিংগাপুরিয়ানরা যাকে ‘কিউআপ’ বলে। এই কিউ আপের জন্য ওদেরকে কখনো বলে দিতে হয়না। সেই প্রথম দিন থেকে দেখে আসছি, কোথাও ওরা দুজন যদি হয় তো পাশাপাশি। তিনজন হলেই লাইন। কাউকে বলে দিতে হবেনা। সুন্দর ভাবে একজনের পেছনে আরেক জন দাঁড়িয়ে যাবে। তার পর পেছনে যত জন হয় হোক।

সেরাংগুন প্লাজা ট্যাক্সি ষ্ট্যান্ডে শনি ও রবিবারে এমনিতেই ভিড় একটু বেশি থাকে। তদুপরি একটু বৃষ্টি হয়ে যাওয়াতে লাইনটা বেশ অনেকটা লম্বা ছিল। বলা বাহুল্য আমি সবার পিছনে এসে দাঁড়ালাম। এক মহিলা বাচ্চা কোলে, হাতে একটা ট্রলি নিয়ে এমন ভাবে দাঁড়ানো, বুঝা যাচ্ছিল না তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন কিনা। জানতে চাইলাম, “আর ইউ ইন কিউ?” ভদ্রমহিলা সচকিত হয়ে বললেন, “ও ইয়া!” তার পর ট্রলিটা টেনে নিয়ে লাইনের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন। আর আমি তাঁর পেছনে। ধীরে ধীরে এগুলাম আমরা। ট্যাক্সির কাছাকাছি একটু দুরে চার পাঁচজনের পর থেকে লাইনে প্রায় ৯০ ডিগ্রী একটা বাঁক। সেখানে পৌঁছে পেছনে তাকিয়ে দেখি প্রায় ৩০/৩৫ জন আমার পেছনে দাঁড়িয়ে। অর্থাৎ আমি প্রায় এসে গেছি।

আমার এক ‘দেশী ভাই’ এই বাঁকটার সদ্ব্যাবহারের কসরত করছিলেন। অর্থাৎ কিউ ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করছিলেন। আমার পেছনে দুজন ভদ্রলোক। তেমন সুবিধা করতে পারলেন না। আরেক ভদ্রমহিলা দাঁড়ানো ছিলেন লাইনে, সামনে কিছুটা ফাঁকা রেখে। ভাই সাহেব আস্তে করে ঢুকে গেলেন সেখানে। মহিলা কেমন যেন হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন লোকটার পিঠের দিকে। মহিলা ফরেইনার, সিংগাপুরিয়ান নন। তা না হলে খবর ছিল এই ‘দেশীর’। ফরেইনারও যে কোন সময় পুলিশ কল করতে পারেন এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঝামেলা বেঁধে গেলে। কিন্তু এই মহিলা সে ধরনের কিছু করলেনও না কিছু বললেনও না।

একটু পরেই আমি টেক্সি পেয়ে গিয়েছিলাম। হাতের বোঝাগুলো রেখে আরাম করে বসলাম সিটে। তবে আরাম করে বসলেও আরাম পাচ্ছিলাম না। বয়স্কা ঐ মহিলার ঘৃনা মেশানো হতভম্ব ঐ দৃষ্টি লাইন ভাঙ্গা সেই লোকটার নয় যেন আমার পিঠে এসে বিঁধছিলো বার বার।

আমরা কী কোন দিনও সভ্য হতে পারবো না? দেশে আমরা অসভ্য জানোয়ারের মত চলাফেরা করি। সভ্যতা শেখানোর মত দেখানোর মত কেউ কোথাও নেই বলেই হয়তোবা। লাইন ভাঙ্গার সংস্কৃতি আইন আদালত থেকে শুরু করে প্রশাসন পর্য্যন্ত সর্বত্র। কিন্তু এখানে তো সেই পরিস্থিতি নেই। এখানে এসেও কী আমরা আমাদের সেই ক্যারেক্টার একটু বদলাতে পারি না?