ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

মার্কেটে বেড়িয়েছিলাম, এসে দেখি দেশ থেকে কিছু উপহার এসেছে। প্রিয়তমা স্ত্রী পাঠিয়েছেন এক সহকর্মী মারফত। কিছু প্রশ্ন এসে গেল মনে। আর তাই এই পোষ্টের অবতারনা।

দুটো ছবি পাশাপাশি দেখুনঃ

দুটোই কিছু একটা বহন করার জন্য ব্যাবহৃত হয়েছে। সৌন্দর্য্যের বিষয়টা লক্ষ্য করুন। মানুষ সৌন্দর্য্য প্রিয়। সৃষ্টির সেই আদী থেকে অন্ত পর্য্যন্ত সে সৌন্দর্য্য খুঁজে বেড়াচ্ছে। আমি খুঁজবো না কেন?

আকর্ষনীয় না হোক, মানানসই একটা থলেতে করে আপনি যখন কোন কিছু নিয়ে যাবেন, তা সে কাঁচা বাজার হোক বা কারো জন্য কোন ঊপহার, আপনার মনটা প্রফুল্লতায় ছেয়ে তাকবে। আর তা না হয়ে সেটা যদি হয় ভিক্ষের থলে কিসিমের কোন একটা পোটলার মত, আপনার মনটা হয়ে থাকবে সংকুচিত।

যার জন্য নিয়ে যাবেন তিনিও আপনার দিকে তাকাবেন যেন কেমন কেমন এক দৃষ্টিতে।

অনেকে বলবেন পলিথিন ব্যাগ মাটিতে মেশে না, পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে .. ব্ল.. ব্লা.. ব্লা..।

মানলাম। এ অনস্বীকার্য্য।

কথা হলো এ পলিথিন বন্ধ করেও আমরা কতটুকু সফল হয়েছি বা হচ্ছি পরিবেশ রক্ষায়?
পুলিশের পকেটে যাচ্ছে ঘুষের টাকা। চুরে চুপে ঠিকই উৎপাদন হচ্ছে, ব্যাবহার হচ্ছে পলিথিন ব্যাগের। আপনি আমি ভদ্রলোকেরা ঝামেলার ভয়ে ওসব থেকে দূরে থাকছি। কি ব্যাবহার করছি?

এই দেখুনঃ

বুঝলেন কিছু?
এক সময়ের টেক্সটাইল মিলের বর্জ্ব্য হিসেবে পরিচিত সুতার রীল প্যাকিংয়ের কাজে ব্যাবহৃত হওয়া এই বস্তুটিও পলিথিনই বটে। বোনাস হিসেবে এর সাথে ভেতরে থাকা বিষাক্ত কিছু কেমিক্যাল চলে আসছে আপনার হাতে। যা সুতা বা কাপড় সুরক্ষায় ব্যাবহৃত হয়। অতঃপর যাবে আপনার পেটে।
অন্যান্য অঞ্চলের কথা জানি না, আমার এলাকা নরসিংদীর আনাচে কানাচে এর ব্যাবহার দেখেছি আমি। মাছ বাজার থেকে শুরু করে কাঁচা বাজার, গুড় ওয়ালা, ফলের দোকানে কোথায় ব্যাবহার হচ্ছে না এ জিনিস? শেষ পর্য্যন্ত দেখুন এখানে এই বিদেশেও চলে এলো!
একি মাটিতে মিশে? একি পরিবেশের ক্ষতি করছে না? নামে যেহেতু “পলিথিন ব্যাগ” নয়- আমার দেশে তাই এ বৈধ, পলিথিন ব্যাগ অবৈধ। সেই সাথে আছে সিমেন্টের বস্তা কাটা ব্যাগ।
মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে কনফেকশনারী, ক্রোকারীজ, ফুল ওয়ালা-সর্বত্র আরেকটা জিনিস চালু আছে- নেট। পলিথিন অবৈধ, নায়লনের নেট ব্যাগ বৈধ! হাহ্‌!
পাবলিককে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখাতে পারেন না, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কী বুঝাতে পারেন না, ঘুষখোর পুলিশের ক্যারেক্টার শুধরাতে পারেন না- পলিথিন বন্ধ করে দিয়েছেন!
মাথা ব্যাথার অষুধ সেবন না করে এ যেন মাথা কেটে ফেলার মত যুক্তি।

আমরা এখানে যখন বাজারে যাই, দশটা বারটা করে পলিথিন ব্যাগ চলে আসে আমাদের সাথে। প্রতিটা আইটেমের সাথে একটা করে। এগুলো ফ্রী! কিনতে হয় না। ব্যাগ ছাড়া কোন কিছু দোকান থেকে নিয়ে বের হলে আপনি বরং প্রশ্নের সন্মূখীন হতে পারেন- শপ লিফটার কিনা? তো এই যে এত এত পলিব্যাগ আসছে, এর কয়টা এখানকার রাস্তায় বা ড্রেনে যায়? একটাও না। কেন? আমাকে প্রশ্ন করবেন না। আমাদের নীতিনির্ধারকেরা যাঁরা ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমন করতে অতি উৎসাহী, তাঁদেরকে বলুন, প্রয়োজনে বাধ্য করুন, বাহিরে যা দেখছেন তা যেন দেশে এসে প্রয়োগ করেন, তাহলেই হবে।
সেই সাথে এও জানি, সাত মন ঘিও হবে না, রাধাও আর নাচবে না। ওদের আশায় বসে থাকলে চলবে না। আমাদেরই কিছু চিন্তা ভাবনা করতে হবে।
আমার একটা প্রস্তাবনা আছে, আপনারা বিবেচনা করে দেখতে পারেন।

পাবলিক পলিথিনের প্রতি আগ্রহী কেন? এ সহজলভ্য বলে। যতই অবৈধ ঘোষনা করা হোক, তিন টাকা হলে এখনো বাজারে পলিব্যাগ পাওয়া যায়। যেখানে চটের অর্থাৎ পাটের তৈরী ব্যাগগুলো কিনতে গেলে হয়তো বিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা লেগে যেতে পারে। উচ্চ মূল্যের কারনে জনসাধারন এর থেকে দূরে থাকেন। এবং এটাই স্বাভাবিক।
যে কোন উপায়ে চটের ব্যাগের মূল্যটাকে যদি সহনীয় পর্য্যায়ে নামিয়ে আনা যায়, অতি সহজেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হতে পারে বলে আমি মনে করি। এখন কথা হলো, কতটা সহনীয় এবং কিভাবে তা সম্ভব?
সহনীয় বলতে আমি এখানে সরাসরি ঐ তিন টাকা দামের পলিব্যাগের সাথে টক্কর দেয়ার কথা বলবো। যদি আমরা পাবলিকের সামনে তিন টাকা মূল্যমানের পাটের ব্যাগ রাখতে পারি, তারা কখনো পলিথিনের ব্যাগ কিনবেন না।

আবারো সেই প্রশ্ন, কিভাবে?

এইটুকুই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমি কিছুটা ধারনা দিতে পারি মাত্র।
অবশ্য অবশ্যই প্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে, আধুনিক প্রযুক্তি। মান্ধাতার আমলের পাটের ব্যাগের কথা আমি বলছি না। এ হবে খুবই পাতলা ধরনের, প্রায় স্বচ্ছ, যাতে পাটের ব্যাবহার হবে অতি অল্প পরিমানে। মূল্য সংকোচনের এটা হবে সবচেয়ে বড় পয়েন্ট। টেকসই হবে না। পলিব্যাগের মতই একবার বা দুইবার ব্যাবহারের পর ফেলে দিতে হবে।
আমার মাথায় যে আইডিয়া আছে, সেভাবে এগুতে পারলে শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বে হৈ চৈ ফেলে দেবার মত একটা ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ইন্ডিয়া আমাদের পাট নিতে চাচ্ছে না। ইন্ডিয়া তো ইন্ডিয়া এর চেয়ে আরো বাঘা বাঘা দেশ এই পাটের জন্য আবার বাংলাদেশে ধরনা দেবে।

কেহ একজন এগিয়ে আসুন, (কি ব্যাক্তিগত কি রাষ্ট্রীয় পর্য্যায়ে) আমি যথাসাধ্য সাথে থাকার চেষ্টা করবো।