ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

ধার করা নয়, নিজের হাতে তোলা ছবি।
প্রবাসের কিছু কিছু ঘটনা আমার মনে এতটাই দাগ কেটে আছে, এতটাই দাগ কেটে আছে যে ভুলতে পারি না সহজে। তেমনি একটি ঘটনা। সিঙ্গাপুরের। এরিয়া হওগাং।
.
তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। ঘড়িতে রাত প্রায় আটটা বাজে। বাস থেকে নেমে বাসার দিকে হাঁটছিলাম। মেইন রোড থেকে অনেকটা পায়ে হেঁটে ডেফু এ্যভিন্যু ওয়ান হয়ে আমাকে আমার বাসায় আসতে হয়।

আমার থেকে কিছুটা সামনে আরো দুটো বাঙালী ছেলে কথা বলতে বলতে হাঁটছিল। আর তাদের থেকেও কয়েক মিটার এগিয়ে থেকে একটা কুকুর হেলে দুলে চলছিল।

এক সময় হাতের বাঁ পাশে রাস্তার বিপরীত দিকে দেখা গেল কয়েকটা নেড়ী কুকুর হুটোপুটি করছে। তাই দেখে এপাশের কুকুরটার মাঝে বেশ চাঞ্চল্য দেখা গেল। মনে হলো সে ওপাশে যেতে চায়।

রাস্তার মাঝ বরাবর রেলিং দেয়া। তার দুপাশের রাস্তা ধরে মাঝে মধ্যে দু’একটা গাড়ি আসা যাওয়া করছে।

কুকুরটা সামনে পিছে- সামনে পিছে- এভাবে কিছুটা দৌড়াদৌড়ি করে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলো। ওদিকে একটা ট্রাফিক লাইট ক্রসিং পয়েন্ট। সেখানে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রইলো সে। রেড লাইট জ্বলছে।

ছেলে দুটোও ওখানে গিয়ে দাঁড়ালো। ডাইনে বাঁয়ে একবার তাকালো, তারপর দৌড়। রাস্তার মাঝ বরাবর গিয়ে একটু বিরতি। দুটো কার চলে গেল ওদের সামনে দিয়ে। এবার আরেক দৌড়ে বাকী রাস্তাটুকু পেরিয়ে গেল ওরা। তারপর হাঁটতে থাকলো সামনের দিকে।

কুকুরটা তখনো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে, রাস্তার পাশে।

আরো কয়েকটা গাড়ি আসা যাওয়া করলো।

এক পর্য্যায়ে গ্রীন বাতি জ্বললো। হেলেদুলে রাস্তা পার হলো এবার সে। ওপারে গিয়েই ভোঁ দৌড়! যেখানে অন্য কুকুর গুলো হুটোপুটি করছিল।

আমি রাস্তা পার হলাম না। আমার গন্তব্য আরো সামনে। মাথাটা নীচু করে হাঁটছিলাম আর কয়েকটা কঠিন প্রশ্ন করেছিলাম তখন নিজেকে। যেগুলোর জবাব ততোধিক কঠিন হয়ে ফিরে এসেছিল আমার কাছে।