ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 
Toolbox Meeting

-” আমরা পরিশ্রম করে বিদেশে কাজ করি আর বউয়েরা আছে দেশে এই পরিশ্রমের টাকা কিভাবে উড়াবে সেই তালে। অনেকে আবার নষ্টামিও করে। আমার মনে হয় বউদের হাতে টাকা পয়সা একদমই না দেওয়া উচিত।”

-” না তোমার কথা ঠিক না। টাকা না দিলে সে খাবে কি? বাঁচবে কি করে? টাকা দিতে হবে, তবে হিসাব করে।”

-” টাকা হিসাব করে দাও আর না দাও, স্বর্ণালঙ্কার কখনই না। এটাই বউদের খারাপ করে। বোঁচকা বেঁধে পরে ভেগে যায় আরেক জনের সাথে।”

-” এই মিয়া গরু চিনো, গরু? তোমাদের বাড়িতে গরু আছে? হালচাষ কর? ঐ যে হালচাষের যে গরু, সেও দেখবে তুমি কি চাও তা বুঝতে পারে। কৃষকরা ডাইনে চাইলে ডাইনে যায় বাঁয়ে চাইলে বাঁয়ে। কিভাবে বুঝে? সে কি কথা বলতে পারে? সে কোন ভাষা বুঝে? বাংলা ইংলিশ না চাইনিজ? কোনটাই না।
তাহলে এবার ভেবে দেখ, একটা গরুও যদি তোমার মনের ভাষা বুঝতে পারে, একটা মানুষ হয়ে তোমার স্ত্রী তোমার মনের কথা বুঝতে পারবে না, তা কি করে হয়?

সে যদি উল্টা পাল্টা কোন কিছু করে থাকে, আমি বলবো সে তোমার কুৎসিত মনের গলিত পুঁজ। তুমি স্বীকার কর আর না কর তোমার মন যতটা কুৎসিত হবে, তাঁদের আচরণ ততটাই নেক্কার জনক হবে।”

টুলবক্স মিটিঙয়ের শুরুতে কয়েকজন শ্রমিকের আলাপচারীতা এগুলো। পাঠক মাইন্ড ইট!

আমাদের দেশে হলে এ ধরনের আলাপচারীতায় তুই তুকারী থেকে শুরু করে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু এখানে? কী সুন্দর আন্ডারস্ট্যান্ডিং! একজন আরেক জনকে বুঝার বা বুঝানোর কসরত!

ওরা আমার এক একটা রত্ন এই বিদেশের মাটিতে। I feel proud of them.

আমাদের আজকের টুলবক্স মিটিঙয়ের বিষয় ছিল, The sincerity and concentration at work. কর্মক্ষেত্রে কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও একাগ্রতা। যার ব্যাত্তায় হলে আপনার এই কাজ যে কোন সময় আপনার উপর প্রতিশোধ নিতে পারে। আপনি পড়ে যেতে পারেন দুর্ঘটনার মুখে।

আগের পর্বে যেতে এখানে ক্লিক করুন।