ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

ছোট্ট শিশুটি এখন আর ছোট্ট নেই। হাটি হাটি পা পা করে হাটতে শিখেছে। লাল, কালো, সবুজ চিনতে পারে। বিশেষ করে লাল বা উজ্জ্বল কোন কিছু দেখলেই সে আকৃষ্ট হয়, ধরতে চায়, হাতে নিয়ে খেলতে চায়।

সে বোঝে না উজ্জ্বল ঐ আগুনের শিখাটি তার জন্য কতটা ক্ষতিকর, বিপদজনক! বোঝে তার মা, বোঝে তার বাবা, বোঝে তার গুরুজন যারা, তারা। বোঝেন বলেই তারা তাকে ঐ অগ্নিশিখাটি ধরতে দেন না। শিশুটির কাছে সেটা যত সুন্দর বলেই মনে হোক না কেন। তাকে ফিরিয়ে আনেন আগুনের পাশ থেকে। আর তখনই শিশুটি ভ্যা করে কেঁদে ফেলে। মনে মনে বলে, মা ভালো না, আমাকে অমন সুন্দর জিনিসটা ধরতে দিচ্ছে না।
এই শিশুটিই যখন আরো বড় হয় তখন সে ম্যাচের কাঠি জ্বালানো শিখে। বেশি বেশি কাঠি জ্বালিয়ে সে আনন্দ পেতে চায়।

আরো যখন বড় হয়, তখন সে খড়কুটো বা আরো বড় কিছুতে আগুন জ্বালিয়ে মজা পেতে চায়।

প্রতিটা ক্ষেত্রেই মায়ের বুক দুরু দুরু কাঁপে সন্তানের অমংগলের আশংকায়। কখনো বকাঝকা করেন, কখনো প্রহার। বিধিনিষেধের দেয়াল তুলে দেন কখনো কখনো। সব তার মংগলের জন্য।
কিন্তু ছেলেটা ভাবে উল্টো। আমার মা পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুর মহিলা। দয়া মায়া বলতে নেই। আনন্দ উল্লাস কিছু বুঝে না। একটু খানি আগুন নিয়ে খেললেই কি দুনিয়া পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায় নাকি? আমি কি বুঝি না? কিভাবে খেললে আগুন লাগবে আর কিভাবে খেললে লাগবে না? সেকেলে মহিলা। একদম সেকেলে। আমি আরো খেলবো, দেখি সে কি করতে পারে?

মহিলাটা সেকেলে, এটা ঠিক, কিন্তু তাঁর আশংকাটা সেকেলে নয়, অমূলক নয়, এটা তাকে কে বুঝাবে?
সঠিক ভাবে এটুকু বুঝার জন্য তাকে সে বয়স পর্য্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, যে বয়স তার মা’র হয়েছে।

ধর্মীয় বিধিনিষেধ গুলো সে রকমই আমাদের সুরক্ষার জন্য। আমাদের মংগলের জন্য। আমরা অনেক সময় তা বুঝতে পারি না, এই যা। সেগুলো মেনে চলার কারনে আমাদের ক্ষতি হয়েছে বা মানব সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একথা কেউ বলতে পারবে না। অথচ ধর্ম বিষয়ে কথা বললেই আজকাল কিছু কিছু লোক সেটাকে নেগেটিভ দৃষ্টিতে দেখে থাকেন। আমাদের এই দৃষ্টিভংগি পাল্টানো প্রয়োজন।
আল্লাহ তা’লা আমাদের সবাইকে শুভ বুদ্ধি দান করুন! আমিন!