ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

জামাত কেন ব্যান হবে, তা বলার আগে আমাদের জানতে হবে পিছনের কথা।

১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এদেশের আওয়ামী লীগ ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি সহ মোট ২৪টি দল। নির্বাচন হয় মোট ৩০০টি আসনের জন্য। ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ জয় পায় মোট ১৬০টি আসনে, পাকিস্তান পিপলস পার্টি পায় ৮১টি আসনে জয় পায়। জামাত-ই-ইসলামী পায় মাত্র ৪টি আসনে জয়। তাও পায় পশ্চিম পাকিস্তানে। এদেশে জামাত কোন আসন পায় নাই। ন্যশনাল এ্যাসেম্বলীতে আওয়ামী লীগ ১৬০ টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সাধারণ নির্বাচনের একই সাথে প্রাদেশিক নির্বাচনও হয়। এই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন পায়। জামাত এই প্রাদেশিক নির্বাচনে জয় পায় মাত্র ১টি।

নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী সরকার গঠন করার কথা কিন্তু পাকিস্তানের তখনকার ক্ষমতালোভীরা বাঙ্গালীদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে নারাজ। শুরু করে টাল বাহানা। এরই মধ্যে ২৫মার্চ দিবাগত রাতে ঘুমন্ত বঙ্গালীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে ক্ষমতালোভীদের নির্দেশে। শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে কারা যুদ্ধ শুরু করেছিল? নিশ্চয় বাঙ্গালীরা নয়। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠি তাদের সেনাদের নামিয়ে দেয় এবং নির্দেশ দেয় মাটি চাই মানুষ চাই না।
কি দোষ করেছিল এদেশের মানুষ? নির্বাচিত করেছিল এদেশেরই মানুষকে তাদের প্রতিনিধীত্ব করার জন্য, এটাই কি তাদের দোষ! ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল তারা। এই অধিকারের জন্যই শেষ পর্যন্ত এদেশের মানুষকে অস্ত্র ধরতে হয়েছিল। এবং দীর্ঘ্য ৯মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভ করে আমাদের বাংলাদেশ।

জামাত যে এতো বড় কথা বলে যে তারা ইসলামী দল, তারা ইসলামের খাতিরেই পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছে অখন্ডতা রক্ষার জন্য । আমাদের পবিত্র কোরআন কিন্তু তাদের যুক্তির বিপরীতে কথা বলে। আল-কুরআন এর সূরা আল-হুজরাত এর দু’টি আয়াত আপনাদের বোঝার সুবিধার জন্য নিম্নে উল্লেখ করলাম –

আয়াত নং ৬ : মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ণ করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও।

আয়াত নং ৯: যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মীমাংসা করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দিবে এবং ইনছাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনছাফকারীদেরকে পছন্দ করেন।

জামাত নিজেদেরকে ইসলামী দল দাবী করে কিন্তু তারা ইসলামের পথে থাকেনি সেদিন। ইসলামের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তারা পাকিস্তানী সেনাদের অনুসরণ করলো।
এখানে আক্রমনকারী কারা? নিশ্চয় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও শাসকগোষ্ঠি। জামাতের উচিত্ ছিল মিমাংসা করার ব্যবস্থা করা। না পারলে এদেশের পক্ষ নেওয়া । কিন্তু তারা ইসলামের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে পাকিস্তানীদের পক্ষ নেয়। আর তারা ঠুনকো যুক্তি দিয়ে বলে যে তারা পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার জন্য পাকিস্তানীদের পক্ষ নিয়েছিল। যে যুদ্ধে শহীদ হয়েছে আমাদের ৩০লক্ষ মানুষ শুধু তাদের পাকিস্তানী বাহিনীকে সহযোগীতার কারনে। এই শহীদদের জন্য আমাদের এই বাংলায় তাদের ঠাই নাই। ঠাই দিলে তাদের অমর্যাদা করা হবে।

উপরের পরিসংখ্যান (‘৭০এর নির্বাচন) অনুযায়ী জামাত-ই-ইসলামী সাধারণ নির্বাচনে এদেশে কোন আসনই পেলনা পশ্চিম পাকিস্তানে পেল ৪টি। আর প্রাদেশিক নির্বাচনে পেল মাএ ১টি। তাহলে কথা হল জামাত তো এদেশের কোন দল না। পাকিস্তানী দল। আর জামাত যেহেতু পাকিস্তানী দল তাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশে থাকার কোন অধিকার নাই।

এখন সময় এসেছে এবং জনতা জেগেছে, এখনই জামাতকে ব্যান করতে হবে। জামাত-ই-ইসলামী, এবং ছাত্র শিবির নামে কোন রাজনৈতিক দল স্বাধীন বাংলায় থাকতে পারে না। এমন করতে হবে যে এই নামে কোনদিন যাতে কোন দল না গঠিত হয়। এই দলটি যে বাংলার কলঙ্ক। সেই সাথে ফাঁসি দিতে হবে রাজাকারদের। কলঙ্ক মুক্ত করতে হবে বাংলাকে।

সেই সাথে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে চক্রান্তকারীদের সম্পর্কে। বিগত ৪০ বছরে অনেক চক্রান্ত হয়েছে এদের বাচানোর জন্য। এখনো হচ্ছে এবং হবে।

তাই আসুন তাদের বিচারের জন্য আমরা সবাই সোচ্চার হই।

সব রাজাকারের ফাঁসি চাই।
সবার স্লোগান হোক মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান “জয় বাংলা”।