ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

জাগো আর্গানাইজেশন কে ছোট করা আমার ইচ্ছা নয় ।আমার ইচ্ছা দেশ কে নিয়ে যারা খেলা করবে , কিংবা আমার দেশের নাম বেচে যে খাবে তাকে আমি কোন দিন তার সাফল্যের দুয়ারে যেতে দিবো না ।

জাগো ফাউন্ডেশন , গত Universal Children’s Day উপলক্ষে জাগো ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে একটি ইভেন্টের আয়োজন করেছেন, অবশ্যই ভাল কাজ করেছেন। কিন্তু আজ মানুষ জানতে চাচ্ছে আপনাদের কাজের সচ্ছতা নিয়ে। আমি বুঝতে পারলাম না কেন আপনারা মানুষ কে এড়িয়ে যাচ্ছেন!

কত বেশী অন্যায় কারী হলে মানুষ তার নিজের পাপ ঢাকতে চেষ্টা করে তা আমাদের বুঝানোর কোন দরকার নেই ।আপনাদের কর্মকান্ড দেখলেই সবাই তা বুঝে ফেলবে । কিছু দিন পুর্বে আপনাদের বিরুদ্ধে যখন কিছু ব্লগার বাধা হয়ে দাড়াল,( আমি বুঝাতে চাচ্ছি আপনাদের কাজের তীব্র ভাবে সমালোচনা করতে শুরু করল) তখন আপনাদের বিভিন্ন ধরনের অপরিকল্পিত ভূমিকা সবাই কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ছোট্ট করে উদহরন দিয়ে যাই ।….

ফেইসবুক ইউজার ” জাতি জানতে চায় ” আপনাদের ” জাগো ” ফেসবুক পেইজের ওয়ালে যখন কিছু প্রশ্ন আপনাদের জন্য ছুড়ে দিল , তখন সবার অজান্তে আপনারা তার সব কমেন্ট ডিলিট করে দিয়েছেন । এর দ্ব্রারা স্বাভাবিক মানুষ বুঝেই নিবে আপনারা কতটা নিজের দেষ কে ঢাকার চেষ্টা করছেন! নিচের ৩ টি ছবি তে খেয়াল করলেই বুঝা যায় আপনারা কত্ত বেশী চালাক মনে করেন নিজেদের !
ছবি ১ ও ২ ও ৩.- এইখানে দেখা যাচ্ছে ” জাতি জানতে চায় ” এর কমেন্টস্ টি এর নিচে kazi musfiq এর কমেন্টস্

1
2
2.5

ছবি ৪. এইখানে দেখা যাচ্ছে ” জাতি জানতে চায় এর কমেন্ট টি ডিলিট করা হয়েছে । কি আদ্ভুত আচরন !

3

4.5
আপনাদের বলতে চাই , এই ধরনের খারাম মানষিকতা নিয়ে আপনারা দেশের সেবা করতে নেমেছেন! আপনারা যদি সত্যি দেশ সেবা করেন চান ? এইভাবে চুরি করে ? এইভাবে জনগন কে ফাকি দিয়ে ? তাহলে দেশ প্রেমিকরা আত্বহত্যা করেবে আপনাদের কষ্টে । আফসোস আপনাদের জন্য। আপনাদের কর্যক্রমে বুঝা যায় আপনারা এখনো দেশ সেবার কাছেই যেতে পারেন নি! উল্টো দেশের নাম বেচে খাচ্ছেন।

ছবি ৫. এই ছবি তে দেখা যাচ্ছে ” জাতি জানতে চায় ” এর জন্য ফেসবুক পেইজ টি “জাগো” বন্ধ করে দিয়েছে ।…. ভাই আপনাদের কে বলি আপনারা খুব ভাল মানুষ যদি হয়ে থাকেন নিজেদের পাপ ঢাকার জন্য চেষ্টা করছেন কেন এইভাবে !??

4

ছবি ৬. অন্যদিকে অন্য ফেসবুক একাউন্ট থেকে অনায়াসে কমেন্ট করা যচ্ছে। এইটা কতটা হাস্যকর হতে পারে। জাগো এর কাছে জানতে চাই কয়জন মানুষ কে মুখবন্ধ করতে পারবেন আপনাদের পেইজ একসেস বন্ধ করে ?!

5

ছবি ৭. আর “Korvi Rakshand” জাগো এর ফউন্ডার নিজেই যদি প্রশ্নের উত্তর দেন মিথ্যচার এর মাধ্যমে তাহলে আমরা তাদের কাছ থেকে আর কি আশা করতে পারি? । তিনি ফেসবুকে বলেছেন ১০ তারিখে প্রেস নোট এর মাধ্যমে সবাই কে সব কিছু জানানো হবে । ” জাতি জানতে চায় তার এই কথার প্রসঙ্গে কিছু কথা বলেছিল এইভাবে
=> অবশ্যই সব ব্লগারদের প্রশ্নের উত্তর দিবেন
=> আপনারা আমার প্রদত্যকটি কমেন্ট ডিলিট করছেন কেন? নাকি আমাকে ভয় পাচ্ছেন ?

আর “Korvi Rakshand” এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এইভাবে ” জাগো টিম খুব ব্যস্ত তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে , তাদের হাতে কোন সময় নেই এই ধরনের কাজ করার ”

7

আমার প্রশ্ন তাহলে কে ডিলিট করে দিচ্ছে এই কমেন্ট গুলোকে?! আজব মানুষ তো ভাই আপনি ! আমার জানা মতে পেইজ এডমিন ছাড়া আর কেউ কমেন্ট ডিলিট করতে পারে না । এর ব্যতিক্রম কিছু থকলে কেউ কি আমাকে একটু বলবেন প্লিজ?

“একটা কথা ন বলে পারছি না । আপনাদের কাজে সচ্ছতার আভাব তা আপনাদের কর্মকান্ডে বুঝা যাচ্ছে। আপনারা জানেন কিনা আমি জানি না হলুদ রং টি কে আমার হলুদ সাংবাদিকতা কিংবা নোংরা সাংবাদিকতা এর প্রতিক বা চিহ্ন বলে থকি । আপনারা ঐ হলুদ এর মত নোংরা ভাবে আপনাদের কে উপস্হাপন করছেন ।”

***********************************************
আপনারা আজ দেশ সেবা করার জন্য ব্যবহার করছেন ছো্ট ছোট কিছু কিশোর কিশোরী কিংবা নব্য যৌবনে পা রাখা কিছু ছেলে/মেয় কে নিয়ে। একটা প্রশ্ন আপনাদের কাছে ……. দেশের এই সম্পদ গুলোকে কে কেন ন্ষ্ট করে দিচ্ছেন ? ওরা তো কোন পাপ করেনি! কেন তাদের দেশের বিরুদ্ধে কাজ করতে উদ্ভুদ্দ করছেন? হয়তবা আপনারা দেশকে ভালবাসেন না , কিংবা বিদেশী প্রভুদের মোটা অংকের ডোনেশন আসছে আপনাদের ঐ কলেজ পডুয়া ছাত্র/ছাত্রীদের ব্যবহার করার ফলে। কিন্তু আপনারা কেন ভাবছেন না যে আপনাদের ছোট ছোট ভূল সিদ্ধান্ত আমার দেশের একটা সমাজ কে ধ্বংশ করে দিতে পারে! কেন ভাবছেন না অপনাদের এই ভূল দেশ প্রেম আমাদের সমাজের ঐ মেধা গুলোকে দেশ প্রেম থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে? ওদের কেন দেশের শত্রু বানাচ্ছেন ? ওরা তো এখনো আপনাদের মত করে চুরি শিখে নাই ! নিজের ভাল টা বিচার করতে আজো শিখে উঠে নাই !

ভাবছেন আপনারা কিছু করেন না এইসবের …তাহলে বলি Rahat Rahman (রাহাত রহমান) নামে ফেইসবুক ইউজার ব্লগে প্রকাশিত ব্লগের প্রতিবাদ করেছে ফেসবুকে।

3.5

আমার প্রশ্ন , রাহাত ছোট্ট একটি ছেলে এখন পর্যন্ত কলেজ জীবন টা শেষ হয়নি তার , মাত্র ১৮ বছরে পা দিল , ও কি করি বুঝবে সমাজে আজ কি হচ্ছে? ও কি কররে বুঝবে দেশের বেকারত্ব এর মানে কি? ও কি করে বুঝবে সমাজের কিছু মানুষ লুটপাট করে দেশের বারোটা বাজাচ্ছে। কেনানা এখনো ও তো নিজের পায়ে ,নিজেই দড়াতে পারেনি। হয়তবা থোজ নিয়ে দেখেন একনো বাবার কাছ থেকে সকালে কলেজে যাবার পূর্বে টাকা নিয়ে কলেজে যায়। হয়তোবা আর্থিক টানাটানি এখনো দেখেনি চাখে ও।

আমার আপসোস হল আপনাদের নিয়ে , আপনারাও কি রকম মানুষ নিজেদের কোন ক্ষমতা নেই প্রতিবাদ করার একটা ছোট ছেলের একটা মন্তব্যকে আপনারা আপনাদের পেজে পাবলিস্ট করে দিয়েছেন। ধিক আপনাদের ! যদি সাহস থাকে ব্লগে আসুন না আমাদের সাথে একবার । প্রতিবাদ করে যান সবার কথার। কেন শুধু শধু যারা প্রতিবাদ করছে তাদের “Anti JAAGO” বলে আক্ষায়িত করছেন? । আর কেনই বা ছোট ছেলে মেয় গুলোকে ব্রেইন ওয়াস করে ওদের মাথায় ভূল দেশ প্রেম কে শিক্ষা দিচ্ছেন?

ওরা এখনো ভাল করে বুঝতে শিখেনি , যেদিন শিখে যাবে ঐ দিন হয়তো টেনেটুনে ছিড়ে খাবে আপনাদের ( যদি আপনারা অন্যায় কারী হন)।

কিছু প্রশ্ন জাগো ফাউন্ডেশন এর নিকট :

১.জাগোর ওয়েবসাইট অনুযায়ি তাদের রেজিসটার্ড মেম্বার হচ্ছে ৭০০০ এবং এদের প্রত্যেককে সদস্য হবার সময় ১০০০ টাকা করে দিতে হয়েছে যার মানে ৭০ লক্ষ্য টাকা!!!! আবার এদেরকে প্রতি মাসে ৫০০ করে চাদা দিতে হয় মানে আরো ৩৫ লক্ষ্য টাকা!!!! এই ছেলে-মেয়েদের থেকে তারা এই টাকাটা নিচ্ছে মানব সেবার কথা বলে অথচ আসলেই কি এত টাকার কাজ হচ্ছে????

২. জাগোর কর্পোরেট পার্টনার হচ্ছে কে এফ সি, ডি এইচ এল, ঢাকা ব্যাংক এর মতো বড়ো বড়ো কম্পানি,,তারাও নিশ্চয়ই কম টাকা দিচ্ছেনা,,,সেসব টাকা যাচ্ছে কোথায়????

৩. জাগোর প্রোফাইল এ দেখলাম তাদের স্কুলের শিক্ষার্থিদের স্কুল ব্যাগ, জুতো, শিক্ষার বিভিন্ন উপকরন ডোনেশন হিসেবে আগা খান স্কুল এর মত অনেকে দিচ্ছে। তাহলে তারা যে টাকা কালেক্ট করছে সেটা খরছ করছে কোথায়??

যারা এই কয়েকদিন যাবত জাগোর পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরছেন তাদের প্রতি আমার আবেদন আমাকে খালি এই কয়টা ব্যাপারে ক্লিয়ার করেন। বুকে হাত দিয়ে বলছি এই প্রশ্নগুলার সন্তোষজনক জবাব পেলে সবার আগে আমি জাগোর পাশে গিয়ে দাড়াবো,,,তাদের সাথে আমিও যুক্ত হবো কিন্তু তা না পেলে জাগোর প্রতি থাকবে আমার শুধুই ঘূনা। আমি মনে করি গরিবকে এক্সপ্লোয়েট করে কামানো টাকা দেহপসারিনির দালালের কামানো টাকার থেকেও নোংরা।

………………………………………………………………………………….
এখন আবার শুনছি যে আপনারা নাকি যরা ব্লগে ও ফেসবুকে আপনাদের নামে অপপ্রচার চালচ্ছে তাদের নামে নোটিশ করবেন । কতটা হস্যকর কথা শুনলাম !

ফেসবুকে কিছুক্ষণ আগে জাগোর ফেসবুক পেইজে জাগো ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার করভী’র একটা স্ট্যাটাস দেখলাম। স্ট্যাটাসে লেখা রয়েছে,

Some third parties have used pictures of our volunteers, specially female volunteers for their own publicity – a violation of human rights. JAAGO has collected names of such third parties and we hereby publicly request them to remove these pictures, IMMEDIATELY. If the respective parties do not take action we will send a legal notice to these individuals and their parents during Eid vacation, proclaiming the violation of privacy and intellectual property. In the event that this violation persists, we will be forced to file a lawsuit against these individuals under Eve Teasing, Section 298 (A) and (B) of the Penal Code amongst others.

যদিও ফেইসবুকের নীতিমালা বলছে , ‘When you publish content or information using the Public setting, it means that you are allowing everyone, including people off of Facebook, to access and use that information, and to associate it with you (i.e., your name and profile picture)’

এই কথাগুলো বলা হয়েছে এই জাগো ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার করভী’র মাধ্যমে, লিখিত আকারে। তাই করভীর কাছেই কিছু ব্যাপার জানার রয়েছে-

এই থার্ড পার্টি কারা? ব্লগার রা? যারা আপনাদের কার্যক্রমের অস্বচ্ছতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে? আর যেসব ছবির কথা বললেন, সেগুলো তো আপনাদের ওয়েব পেইজ থেকে নেয়া এবং এটা তো সবার জন্য উন্মুক্ত। আর যদি ব্যাপারটা এমন হয় যে, যেসব ছবি নেয়া হয়েছে তা সবার জন্য ওপেন ছিলো মানে “এভরিওয়ান” অপশনে ছিলো তখন তো আইনগত ভাবে এটি দেখার বা শেয়ার করবার একটা ট্যাসিট অনুমতি বা অনুমোদন থেকেই যায়।

আপনি বলেছেন, আপনি এসব থার্ড পার্টির অভিভাবক দের চিঠি, উকিল নোটিস ইত্যাদি পাঠাবেন। সেটা কিভাবে সম্ভব? আপনি কাদের কাদের অভিভাবকদের চেনেন? কয়জনকে চেনেন? আমি আসলে এই ব্যাপারে কৌতূহলী হয়েছি, তাই জানতে চাইলাম।

আর ইভটিজিং এর ব্যাপারটা ভালো উদ্যোগ। যেসব ইতর, অভদ্র আর কুরুচিপূর্ণ মানুষেরা কোনো ছেলে বা মেয়ের ছবি দিয়ে নোংরা সব কথা লেখে সেটি অবশ্যই আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। কিন্তু, যেসব ছবি আপ্নারা আপনাদের ওয়েব পেইজে দিয়েছেন এবং সেখান থেকে নিয়ে আপনাদের কার্যক্রমের বিভিন্ন সমালোচনা হয়েছে, সেটির ক্ষেত্রে কি হবে?

আইনের ব্যাবহার ও প্রয়োগ নিয়ে যখন কথা উঠলোই, সেক্ষেত্রে আপনাদের নামে জালিয়াতি, শিশু নির্যাতন আইনে অভিযোগ বা মামলা দায়ের করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেই না। কেননা আপনাদের কিছু ছবিতে দেখলাম একজন শিশুকে নিয়ে আপ্নারা খুবই অরক্ষিত ভাবে খেলাধুলা করছেন, যাকে শিশু নির্যাতন হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যায়।

আবার যেই ফান্ড উঠিয়েছেন সেটিরও কোনো স্বচ্ছতা নেই। উপরন্তু, যাদের যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তাদের কাউকে কি টাকার রশিদ দিয়েছেন? এই সংস্থাটি কি সরকার অনুমোদিত? এই সংস্থার চ্যারিটি নাম্বার কি? পরিচয় কি? এই সংস্থার মাধ্যমে উত্তোলিত টাকা কি কি খাত এবং কিভাবে ব্যয় হয় তার বিবরণ কোথায়?

বিভিন্ন ব্লগে বিভিন্ন সমালোচনার উপর অনেকেই দেখলাম কোনো কোনো নিরীহ সমালোচনাকে বেশ গালিগালাজ দিয়ে আপনাদের ওয়েব পেইজ ভর্তি করে ফেলছে। পেইজের মালিক হিসেবে জাগো এর কোনো প্রতিবাদ করেনি কিংবা মডারেট করেনি। আপনারা কি তাহলে জনতাকে আরেক অংশের জনতার দিকে উশকে দিচ্ছেন? এটা কি সমাজে নৈরাজ্য প্রমোট করা নয়? এটাও কিন্তু আইনগত কাঠামোর আওতায় পড়ে।
তারমানে জাগোর মামলা করার হবে মূর্খতা , যার আইনগত কোনো ভিত্তি তারা পাবে না । জাগোর উচিত হবে ভবিষ্যতে সতর্ক হয়ে picture পোস্ট করা। আর picture পোস্ট না করলেও, যে সব কাজে সমালোচনা হতে পারে, সে সব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত তাদের।

যাই হোক, জাগোর ‘ইভ টিজিং’ মামলা করার হুমকির পর জাগোর বিরুদ্ধে – ‘আর্থিক অস্বচ্ছতা, জালিয়াতি, শিশু শ্রম, শিশু নির্যাতন, শ্রেণী বৈষম্য, নৈরাজ্য প্রমোট করা, অসামাজিক কাজে জড়িত থাকা যেমন সীসা খাওয়া’ ইত্যাদি মামলা করার হুমকি এসেছে এন্টি-জাগো অনলাইন একটিভিস্টদের পক্ষ থেকে।

আর একটা ব্যপারে কিছু বলা উচিত, জাগোর কর্ণধার ও ভলান্টিয়ারদের ‘immaturity’। যারা জাগোর সমালোচনা করছে , জাগোর ভলান্টিয়াররা সেখানে গিয়া রীতিমত গালাগালি করছে। তাছাড়া বেশ কিছু মন্তব্য রীতিমত আশ্চর্য হবার মত । যেমন, বাংলা মিডিয়ামের স্টুডেন্টদের ‘narrow minded kids’ , ঢাকা ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টদের ‘sick নোংরা আবর্জনা’ বলা, আরো অশ্লীল শব্দ যা বলা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে অবশ্য এন্টি-জাগো একটিভিস্টরাও পিছিয়ে নেই। এন্টি-জাগো একটিভিস্টরাও কুরুচিপূর্ণ নামে পেইজ খুলেছে। এমনকি, একটা screen shot এ দেখলাম, জাগোর কর্ণধার করভি সমালোচনাকারীদের ‘গাধার বাচ্চা’ বলেছে।

একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, জাগো ইংলিশ মিডিয়াম আর বাংলা মিডিয়ামকে মুখোমুখি দাড় করিয়ে দিয়েছে। যাকে রীতিমত এক ধরণের ‘শ্রেণী বৈষম্য’ বলা যায়। যদিও জাগোতে অনেক বাংলা মিডিয়ামের স্টুডেন্ট আছে।

একটা প্রশ্ন , জাগোর ভলান্টিয়ার সবাই কি সেবার উদ্দেশ্যে এসেছে ? জাগোর ইভেন্টে অংশগ্রহন করলে একটা সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ । অনেকে শুধু এই সার্টিফিকেটের লোভেই একটা দিন কষ্ট করছে। জাগোর ভলান্টিয়ারদের অনেক ছবি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে । আপনি যদি ‘সমাজ সেবার’ নামে নেংটি পরে রাস্তায় নামেন , তবে বিতর্ক হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জোর দিয়ে বলব, ‘জাগোর কে কি পোষাক পড়লো ?’ ‘সীসা বা গাজা কোনটা খেল ?’ – তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তরুণেরা যেন কারো নির্দেশে ভুলপথে পরিচালিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।

জাগোর ফেইসবুকের Wall এ তাদের ভলান্টিয়ারদের মন্তব্য দেখলাম । সবগুলো মন্তব্য একই রকম , যেমন , We are rocking , We had a lot of fun ইত্যাদি । কিন্তু একটা মন্তব্য ও দেখতে পেলাম না যে , ‘আমরা গরিব শিশুদের জন্য কিছু করেছি’ , বা ‘It was so fun helping the poor children’ । জাগোর পেইজে আরো অনেক অনেক মন্তব্য দেখতে পেলাম , যেগুলোতে তারা বলেছে , ‘গুলশানের এই পয়েন্টের ছবি কোথায় ?’ ‘ধানমন্ডির এই পয়েন্টের ছবি কোথায় ?’ আপনারা যদি তাদের কমেন্ট গুলো পড়েন , তবে আপনার মনে হবে যেন তারা ছবি তুলতেই প্রোগ্রামে গিয়েছে। যা দেখে আমি মর্মাহত হলাম ।

জাগোর ভলান্টিয়াররাই বা জাগো সম্পর্কে কতটুকু জানে ? তাদের ওয়ার্ক শপে যা জানানো হয়, তারা তাই বলছে। জাগোর অনেক বড় বড় বিদেশী স্পন্সর আছে , এইটা কত জন জানেন ? জাগোকে মূলত সাপোর্ট দিচ্ছে US Embassy। তাছাড়াও বিদেশী স্পন্সররা একটা হিউজ পরিমান টাকা দেয়। এই সব স্পন্সরের টাকার পরেও বিভিন্ন দেশ থেকে, বিভিন্ন পরিবারের পক্ষ থেকেও টাকা আসে জাগোর কাছে। সেই টাকা দিয়ে খুব সহজেই ওদের স্কুলের ৬০০ বাচ্চাসহ তাদের পরিবারকে সাহায্য তো করাই যায়, অন্যদেরও করা যায়।

তাহলে তারপরেও কেন জাগো তার ৭০০০ ভলান্টিয়ারকে রাস্তায় নামাচ্ছে, একবার ভেবে দেখেছেন কি ? কারন এই যে টাকা আসছে তার সিংহভাগই খরচ হচ্ছে এই ৭০০০ ভলান্টিয়ারকে রাস্তায় নামাতে। জাগো সার্টিফিকেট দেবার জন্য যে প্রোগ্রাম করে তাতে তারা কত লক্ষ্ টাকা খরচ করে আপনার কোনো ধারণা আছে ? জাগোর বিশাল বাজেটের প্রোগ্রামের আয়োজনের পুরো album দেখতে পাবেন লিঙ্কে – http://on.fb.me/uzwCcK । আচ্ছা , এই টাকা কি দরিদ্র শিশুদের জন্য খরচ করা যেত না ? হ্যা যেত , কিন্তু জাগো ত়া না করে বিশাল অঙ্কের একটা টাকা দিয়ে কেন সিলিব্রেসন করছে ? কারণ পরদিন ত়া পত্রিকায় আসবে , মূল কারণ – পাবলিসিটি।

যারা বলছে , সারা দিন পথে হেটে জাগোর ভলান্টিয়াররা যে টাকা জমিয়েছে , জাগো তা মেরে দিবে। এই কথাটা নিতান্তই হাস্যকর। জাগো কোন টাকা মারবেনা, টাকার কোন দরকারও জাগোর নেই। কারণ ভলান্টিয়াররা সারাদিন পথে পথে ঘুরে যে টাকা পেয়েছ ত়া জাগোর স্পন্সরদের দেয়া টাকার তুলনায় নিতান্তই সিকি পরিমান।

এখন কথা হলো, ৭০০০ তরুনকে ভক্ত বানিয়ে US Embassy এর কি লাভ ? আচ্ছা , বলুন তো , দেশের তেল গ্যাস রক্ষার আন্দোলন কারা করেছে ? তরুনরা নাকি বুড়ো ভন্ড রাজনীতিবিদরা ? দেশের দুর্যোগে কারা প্রথম এগিয়ে আসে ? ‘৫২ , ‘৬৯ ,’৭১ এর ইতিহাস কি ভুলে গেছেন ? বলা হয় , ‘আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুর প্রয়োজন হয় না’। আচ্ছা বলুন তো , আমেরিকার যদি শিশুদের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকে তবে তারা কেন ইউনেস্ককে সাহায্য করা বন্ধ করে দিয়েছে ? ফিলিস্তিনকে সদস্য পদ দেওয়াতে কি পৃথিবীর লক্ষ্ লক্ষ্ বাচ্চাকে তারা সাহায্য বন্ধ করে দিবে ? লক্ষ্ লক্ষ্ শিশু না খেয়ে মারা যাবে ?

তাহলে এবার বলুন , আমেরিকা কিভাবে রায়ের বাজারের বস্তির একটা স্কুলের খোজ পেল ? আর একটা কথা হলো , বাংলাদেশে কাজ করলেও জাগোর বাংলাদেশের গভমেন্টের সাথে কোনো যোগাযোগ নাই । তাদের FAQ তে সে কথা লেখা আছে। US Embassy কোনো রকম স্বার্থ ছাড়া জাগো কে সাহায্য করছে এইটা বিশ্বাস করা বোকামির চূড়ান্ত। US Embassy আর কিছু না পারুক , অন্তত জাগো এর মাধ্যমে এই ৭০০০ তরুণকে ১ দিনের জন্য কাজের সুযোগ দিয়ে তার এক শ্রেণীর ‘অনুগত তরুণ সমাজ’ তৈরি করে রাখছে।

জাগোর সমর্থকদের অন্ধভাবে জাগোকে সমর্থন করে যাওয়া আমাকে অবাক করেছে । কেন ? কারণ তারা সমাজের সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণী । তারা স্কুলে – কলেজের ছাত্র , আগামী দিনের ভবিষ্যত । কেন সমালোচনা সহ্য করতে পারবে না ? অন্ধভাবে কোনো কিছু কেন তারা সমর্থন করে যাবে ? তারা কেন চিন্তা করার বিবেক হারিয়ে ফেলবে ? ‘ব্রেইন ওয়াশড’ হওয়া কিছু মানুষ যখন ধর্মের নামে বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে , তারা তো অন্ধ, বিবেক লোপ পাওয়া মানুষ। জাগোর সমর্থকরাও অন্ধভাবে , যুক্তিহীনভাবে জাগোর যে কোনো কাজকে সমর্থন করছে । জাগোর সমর্থকদের এইভাবে ‘ব্রেইন ওয়াশড’ হওয়া জাতির জন্য শংকা ।

আরেকটা জিনিস উল্লেখ না করলেই নয় , কিছুদিন আগে ঈদ উতযাপিত হলো । কিন্তু জাগোর পেইজে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে কোনো পোস্ট দেওয়া হয় নি, কোনো প্রোগ্রাম করা হয়নি । জানা গিয়েছে , পূজাতেও তারা কোনো শুভেচ্ছা জানায়নি, বা প্রোগ্রাম করেনি। কিন্তু তারা শিশুদের নিয়ে হেলুইন পার্টি করেছে । ‘হেলুইন পার্টিতে শয়তানের পূজা করা হয়’, এইটা নিয়ে অনেকে যুক্তি তুলে ধরেছেন , কিন্তু আমি সে দিকে যাচ্ছি না , আমি শুধু এত টুকু জানতে চাই , এইটা বাংলাদেশের সংস্কৃতি ? বাংলাদেশের ০.০১% মানুষ কি হেলুইন পার্টি করে ? আচ্ছা , যেই বাচ্চারা তিন বেলা খেতে পায় না , তাদের নিয়ে হেলুইন পার্টি করা কি কোনো মানে হয় ? পথ শিশুরা কি হেলুইন পার্টি কি জিনিস ত়া জানে ? এইটা কি তাদের সাথে নির্মম প্রতারণা করা নয় ?

অনেকেই বলবেন যে আপনি জাগোর ‘জন্মের ইতিহাস’ জানেন ? তাদের বলছি , জাগোর জন্মের ইতিহাস জানাতে আমি লিখছি না , বরং তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে লিখছি। রাজাকার নিজামির জন্মের ইতিহাসে কোথাও পাওয়া যাবেনা যে , সে জন্ম থেকে রাজাকার ছিল, কিন্তু তার লক্ষ্য কি ছিল সেটাকে বুঝতে হবে। জাগোর জন্মের ইতিহাস যা ছিল লক্ষ্য ত়া নাও থাকতে পারে।

একটা কথা খুব বলা হচ্ছে, ‘যারা সমালোচনা করছে তারা খালি ঘরে বসেই পারে,পারলে রাস্তায় নামুক, দেখাক।’

বন্ধুরা আমি তোমাদের (যারা সত্যি কিছু করতে চাও) প্রচেষ্টা কে সম্মান জানাই। তোমরাই তো পারবে, তোমাদের কেই দেশ এর একদিন লাগবে। কিন্তু ঠিক সেই একইভাবে এই তোমাদের মতো সত্যিকারের তরুণদের ও নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লাগবে, একটা দেশেকে ভুল পথে পরিচালনা করার জন্য। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিন্তু এই দেশকে ২০০ বছর শাসন করবে , এই কথা বলে তারা উপমহাদেশে আসেনি । তারা উপমহাদেশে প্রবেশ করেছিল , ব্যবসা করার কথা বলে। তারা এক শ্রেনীর মানুষে মাথা কিনে নিয়েছিল এবং ভূলুন্ঠিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য।

আমি তোমাদের ১ টা ছোট উপদেশ দেয়ার সাহস করবো, তোমরা যে ৭০০০ তরুণ রাস্তায় নামছ তারা কি বছরের বাকি দিনগুলায় মন থেকে কিছু করতে চাও? যদি সত্যি চেয়ে থাক তাহলে তুমি কেন জাগোর জন্য বসে থাক ? কেন নিজের সত্তাকে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছ ? কেন নিজেকে অন্যের পণ্যে পরিনত করছ ? তোমাদের মতো নিবেদিত তরুনের তো কাগজের সার্টিফিকেট দরকার নেই, তাহলে আর নিজেকে ব্যবহার করতে দিয়না। এখন তো ফেইসবুকে অনেকেই ইভেন্ট করে অনেকের সাহায্য করছে, তোমরাও বন্ধুরা নেমে পর, নিজেরা শুরু করো নিজেদের নিয়মে কাজ। হয়তো বলবে এত বড় স্পন্সর কই পাব? তুমি কাজ শুরু করো, ধরো এইবার শীতে উত্তরবঙ্গে ৫ টি পরিবারকে সাহায্যর জন্য কয়েকজন ১টি ইভেন্ট করল, তোমরা না হয় আর ১০ জন মিলে আর ১ টি ইভেন্ট করে ওদের সাথে যোগ দাও, তাহলেই তো সেই ৫ টি পরিবারের জায়গায় ১০ টি পরিবারকে সাহায্য করতে পারো।

আগে বলি এই কাজে তোমরা কি পাবেনা। পাবে না কোন সার্টিফিকেট, পাবে না কোন বিশাল আকারের পরিচিতি, পাবে না বড় বড় বিদেশি কোম্পানি, পাবে না কোন মিডিয়ার কভারেজ , যেটা এখন পাচ্ছ। সেটাই তোমাদের বিভ্রান্ত করছে আর এই বিভারান্তির সুযোগ নিচ্ছে তারা।

কিন্তু যেটা পাবে সেটা হল পাবে সম্পূর্ণ নিজের পরিচালনায় কাজ করে সাফল্যের প্রশান্তি। পাবে ভবিষ্যতে কাজের অনুপ্রেরণা। পাবে নেতৃতের গুনাবলি।

তরুণ এখনও অনেক সময়, নিজের সত্তাকে হারিয়ে ফেলনা। নিজের দেশকে বঞ্চিত করোনা, নিজেকে অন্যের চাবিতে পরিচালিত করোনা।

আমি জানি , জাগো স্কুল চালায়, তাদের স্কুলে কত জন পড়ে, কবে শুরু হয়, সেই ব্যাপারে খুব পরিষ্কার ভাবেই বলেছি, যারা লেখাটা পড়ার আগে থেকেই এমন ধারনা নিয়ে পড়া শুরু করেছেন যে ‘এইসব মূর্খ’ জাগোর মত মহৎ উদ্যোগের মূল্য কি বুঝবে , তারা দয়া করে গালাগালি থেকে বিরত থাকুন। আমি কাউকে জোর করে বুঝাতে চাইনা।

আপনাদের উদ্যোগ ভালো না মন্দ সেটি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অনেক কথা বলেছি। আপনাদের উদ্যোগের অনেক ফাঁক ফোঁকর রয়েছে এবং বড় আকারের অস্বচ্ছতা রয়েছে যা আলাদা আলোচ্য বিষয়। আপাতত এই প্রশ্ন বা কৌতূহল গুলোর উত্তর জানা দরকার।

………………………………………………………………………….

যদি সাহস থাকে ব্লগে প্রকাশিত বিভিন্ন ব্লগার এর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাবেন..জাগোর সুবিধার জন্য জানিয়ে রাখতে চাই দেশের মানুষ আনেক বেশী সচেতন , তরা বসে বসে কলা খায় না ।

————————————————
তথ্য ও ছবিসূত্র: ইন্টারনেট পত্র-পত্রিকা , বাংলা কমিউনিটি, ফেসবুক
কৃতজ্ঞতা : নিঝুম মজুমদার, নিশাচর বাদুড়, জাতি জানতে চায়, admin (সত্যের আলোকবর্তিকা !!! “অবিনাশী সত্য ও সুন্দরের প্রত্যয়ে অদম্য পথচলা”),