ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

৪১ বছর পর, আমরা পেলাম একটি রায়; ফাঁসি। এর আগে আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার রায় দেখেছি ৩ যুগ পর। এই বাসি খাবার খেয়ে যদি সবাই আনন্দিত হয়, তবে আমি বলব সবাই খাবারের স্বাদ ভুলে গেছে। বেশি কথা বলার ইচ্ছে নেই একদম, তবু কিছু কথা বলব আজকে। বিশ্বজিৎ হত্যা অথবা সাগর-রুনী হত্যার রায় যদি আজ হতো তাহলে আমার মনে তৃপ্তি আসতো। প্রশ্ন একটাই, বিশ্বজিৎ, সাগর-রুনী অথবা আমিনুল হত্যার রায় কি হবে ৪১ বছর পর? নাকি বড় ইতিহাসের চাপে ধামাচাপা পড়ে যাবে।

দিন চলে যাবে। আমরাও চলে যাব। কিন্তু আমরা দেখে যাব একটি অন্য সমাজ, কারণ সমাজ পরিবর্তনশীল। দর্শকের কোন অভাব নেই এদেশে, হাত তালি দেবার মানুষেরও অভাব নেই, নির্বাচনে সমর্থন পাবার অভাবও নেই কিছু গোষ্ঠীর। মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করার বিক্রেতা এখানে বিদ্যমান, ধর্মকে বিক্রি করার বিক্রেতা এখানে বিদ্যমান এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাবসাও এখানে জমজমাট। আমরা সবাই ক্রেতা। আমরা যতই সওদা করি না কেনো “গনতন্ত্র” আমরা পাবো না। আমাদের মৌলিক অধিকারও আমরা পাব না। না খেয়ে অথবা শীতে কতজন মারা গেলো সেই কলামগুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়বে না কেউ, পড়লেও বলবে শীতে-তো মানুষ মরেই। অথবা টোকাই-দের লাথি দিয়ে কেউ আনন্দে আটখান হবে। এসব ভাবাকে কেউ কেউ মনে করে খুবই ছোট বিষয় অথবা কি দরকার ছিল এসব টানার। আসলে কি ঘটে চলে আমাদের সমাজে তা কি আমরা জানি। ধানের দাম কমে যাবার ফলে কতজন কৃষক ঋণে জড়িয়ে গেলো? এগুলো নিয়ে কেউ ভাববে না, ব্লগ-এ এরকম কিছু আসে না কারণ ব্লগার নিজেই সংশয়ে থাকে এটা পাঠক জনপ্রিয় হবে কিনা। আজ একটি ফাঁসি নিয়ে শত শত ব্লগ লেখা হচ্ছে যার কি দরকার ছিল? আমাদের কতজনের মেধা এই ফাঁসি গ্রাস করেছে। সবাই মনে রাখুন, আমরা সবাই ফাঁসির দড়িতে ঝুলে আছি। ঘুম থেকে উঠে দড়ি থেকে মুক্তির চেষ্টা করুন নতুবা ‘এক টানে!’ খতম।