ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

child care centres

শিশুর কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে, একটি ভাল শিশু কল্যাণ কেন্দ্র জেনে-বুঝে খুঁজে পাওয়া সত্যি কঠিন ব্যাপার। বর্তমানে, আমাদের দেশের প্রায় পিতামাতা উভয়ই অফিস বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন। সঠিক শিশু কল্যাণ কেন্দ্র শিশুর শারীরিক ও মানসিক উন্নতির প্রতি খেয়াল রেখে থাকে। নিম্নে, কিছু পরামর্শ আপানাদের দিলাম যাতে করে আপনারা একটি ভালো শিশু কল্যাণ কেন্দ্র খুঁজে পেতে পারেনঃ

 

১. অফিসগামী পিতামাতার মধ্যে দুজনে একই সময়ে অনেক সময় ঘরে ফিরতে পারেন না। তাই, আপনার অফিস হতে না ফেরা পর্যন্ত যাতে আপনার শিশুকে যত্ন নেয়া হয় তা আপনি শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের প্রধানবৃন্দদের সাথে আলাপআলোচনা করে নিন। কারণ, অনেক সময় শিশু কল্যাণ কেন্দের পরিচর্যাকারীগণ সকলেই একই সময় শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে ছুটিতে চলে যেতে পারেন। তাই, খেয়াল রাখবেন আপনার শিশু যাতে একলা থেকে না যায়।

 

২. আপনি যখন শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে যাবেন তখন অবশ্যই তাদের অন্যান্য ঘর,বাথরুম এবং রান্নাঘরগুলো নিজ চোখে দেখবেন যেন তা যথেষ্ট পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন যাতে থাকে। সম্ভব হলে পানি এবং খাবার-দাবারের পাত্র কতোটুকু পরিস্কার তাও পরীক্ষা করে নিন। আরো খেয়াল রাখবেন, সেখানে ম্যাডিক্যাল বা জরুরী এইড রয়েছে কিনা। আপনি আপনার বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে এই অবস্থাগুলো বিবেচনা করে নিতে পারেন আপনার শিশুকে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দেয়ার পূর্বেই।

 

৩. আপনার শিশুকে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচর্যাকারীর সাথে বন্ধুসুলভ কথোপকথন করতে দিন এবং আপানার শিশুর কাছ থেকে তার পরিচর্যাকারীর এবং সহপাঠীদের সম্পর্কে খোঁজ নিন, কারণ, পরিবেশ এবং বন্ধুবান্ধব শিশুর মনে বিস্তর প্রভাব ফেলে থাকে।

 

৪. শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মচারীদের ব্যাপারে খোঁজ করে দেখুন, তাদের আচার-ব্যাবহার, তাদের কথাবাত্রা লক্ষ্য করুন। কারণ, যেহেতু আপানার শিশু তাদের সাথে বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত করবে তাই, তাদের মানসিক পরিবর্তন ঐ পরিবেশ হতে গৃহীত হবার সম্ভবনাই সর্বাধিক।

 

৫. শিশু কল্যাণ কেন্দ্র কি করে আপানার বাচ্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তা জেনে নিন।

 

৬. সারাদিন প্রতি সাপ্তাহ সময় তারা কি করে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কাটাবে তার রুটিনটি আপনি জেনে নিন এবং আপনার বাচ্চা থেকে এই রুটিনের ব্যাপারে হাসিখুশি ভাবে খোলাখুলি মতামত গ্রহণ করুন।

 

৭. শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বাচ্চাদের কথাবার্তার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখবেন, কারণ, শিশুরা পরিবেশ এবং আশেপাশের ব্যাক্তিদের কাছে থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।

 

৮. শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অন্যান্য বাচ্চাগুলোর মাতাপিতার সাথেও যোগাযোগ রাখতে পারেন। তাহলে, অনেক বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে সুবিধে হবে।

 

৯. আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন, শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কোন দুর্নাম রয়েছে কি না? সতর্ক থাকা ভালো। আর জেনে নিন শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আপনার বাচ্চাকে কি কি সুজোগসুবিধা এবং শিক্ষা প্রদান করবে প্রতি সাপ্তাহে।

 

উপরোক্ত, বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপানার কাজ আরো সহজ হবে আপানার শিশুর জন্য শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে। আমি আপনাদের উপকারের জন্য নিম্ন লিঙ্কটিতে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের (ডে কেয়ার সেন্টার) কিছু ঠিকানা উল্লেখ করলামঃ

http://www.exchangebangladesh.com/category-second.php?l=Child-Care-Centres

 

এবার, আশা করছি আপনি নিজের বিবেক ও বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনার মাধ্যমে আপানার শিশুর জন্য সঠিক শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি খুঁজে বের করতে পারবেন। আপনাদেরকে শুভকামনা জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আবার দেখা হবে।