ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

কারও সুন্দর হাসি সবসময়ই অপরজনের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। সুন্দর হাসি বাক্তির অভিব্যক্তিকে যেমনি সবার সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে তেমনি অন্যদের মনোযোগ সহজে আকর্ষণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আর এই সুন্দর হাসির অনেকাংশ নির্ভর করে আপনার সুন্দর দাঁতের উপর। মানুষের শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গই অত্যন্ত মূল্যবান, ঠিক তেমনি দাঁতও প্রতিটি মানুষের একটি অমূল্যবান অঙ্গ। কিন্তু দাঁত নিয়ে কখনো সমস্যা পড়েন নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই বর্তমানে দুস্কর। আর মানুষের চেহারার ভিন্নতা ও দাঁতের সমস্যার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে, সঠিক সমাধান প্রদান করা যেমনি চিকিৎসকের জন্য কষ্টকর, সঠিক সমাধান পাওয়া রোগীর জন্য তেমনি কষ্টকর। নানান ডাক্তারের নানান পরামর্শ শুনে, অনেকে ভয়ে দাঁতের চূড়ান্ত চিকিৎসাই করাতে চান না। সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য সর্বপ্রথম সঠিক সময়ে আপনার দাঁতের সমস্যা আপনার নিজেকেই নির্ধারণ করতে হবে।

 

Dental Service

আসুন জেনে নেই কিভাবে দাঁতের সমস্যা নির্ধারণ করবেনঃ

  • প্ল্যাকের অর্থাৎ আপনার দাঁতের গায়ে লেগে থাকা ব্যাকটিরিয়ার মসৃণ স্তরের কারনে দাঁত সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। খাবারের গুঁড়োর মাধ্যমে এই ব্যাকটিরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়, আর এই ব্যাকটিরিয়াগুলো শর্করাকে অম্লে পরিণত করে দাঁতের ইনামেলকে (দাঁতের শক্ত বহিরাবরণ) আক্রমণকরার মাধ্যমে দাঁতে ছিদ্র সৃষ্টি করে। পরিশেষে, ছিদ্র স্থানটা ভেঙে দাঁতে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায়, দাঁত ক্ষয় আরাম্ভ হয়। এই অবস্থায় আপনি প্রথমে কোনো অস্বস্তিবোধ করেন না কিন্তু আপনার দাঁতের আভ্যন্তরীণ তন্তু (সেন্ট্রাল পাল্প) যখন ক্ষয় পেতে শুরু করে, তখন আপনি হয়তো প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করেন।

প্রতিকারঃ উপরোক্ত কারনে আপনি যদি দাঁতের সমস্যায় পড়েন তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় প্রতিদিন একাধিকবার দাঁতব্রাশ করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কারন প্ল্যাককে যদি সাবধানে ব্রাশ করে সরিয়ে ফেলা হয় তাহলে তা সময় নিয়া দাঁতের ইনামেলকে (দাঁতের শক্ত বহিরাবরণ) আক্রমণ করতে পারে না, ফলে দাঁতের ক্ষয়রোধ সম্ভব হয়। আর যদি এই সমস্যায় আপনি ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে আর দেরি না করে আজই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • এরপর আরেকটি প্রধান দাঁতের সমস্যা হওয়ার কারন হচ্ছে, আপনার দাঁতে অথবা মাড়িতে লেগে থাকা খাবার। এই আটকে থাকা খাবার ব্যাকটিরিয়ার জন্য প্রচুর খাদ্য জোগায় আর এই ব্যাকটিরিয়া আপনার মাঢ়ীকে সংক্রামিত করে। তাই সঠিক সময়ে যদি এই বিষয়ের উপর মনোযোগ দেওয়া না হয়, তাহলে তা হলে আপনার দাঁতের চারপাশের কোষগুলো হয়তো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে যে, আপনার দাঁত বস্তুত পড়তে শুরু করবে। দন্তক্ষয়ের চেয়ে এভাবে দাঁত আরও বেশি পড়ে।তাই কোন খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া শুধু স্বাস্থ্যের জন্য নয়, দাঁতের জন্যও ক্ষতির কারন।

প্রতিকারঃ আপনার মুখের লালা দাঁতকে ব্যাকটিরিয়ার এই আক্রমণ থেকে কিছুটা সুরক্ষা জোগায়। আপনি ভরপেট খাবার খান বা একটা-দুটো বিস্কুট যাই খান না কেন, খাবারের গুঁড়োগুলোকে পরিষ্কার করতে এবং আপনার দাঁতের প্ল্যাকে থাকা অম্লভাবকে দূর করতে মুখের লালার সাধারনত ১৫ থেকে ৪৫ মিনিট সময় লেগে যায়। এই সময়টা নির্ভর করে যে, আপনার দাঁতে কতটা আঠালো চিনি বা খাবারের গুঁড়ো লেগে আছে তার ওপর। স্পষ্টত, এই সময়টাতেই আপনার দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। তাই, আপনার দাঁতের কতটা ক্ষতি হয়েছে তা আপনি কতখানি চিনি খেয়েছেন, তার ওপর নয়, বরং আপনি কত বার খাবার ও চিনি জাতীয় জলখাবার খাচ্ছেন, সেটার ওপর নির্ভর করে। স্বাভাবিক সময়ের চাইতে ঘুমিয়ে থাকার আপনার লালা প্রবাহ অনেক ধীরে ধীরে হয়ে থাকে। আর তাই আপনার দাঁতের সবচাইতে বেশি ক্ষতি সেই সময়টাই হয়ে থাকে। তাই অবশ্যই ঘুমানোর আগে দাঁতব্রাশ করতে ভুলবেন না। আর যদি অবস্থা ইতিমধ্যেই খারাপ হয়ে থাকে তাহলে দেরি না করে আজই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • “সেন্সিভিটি ডিসিস” নামে দাঁতের যে রোগটি রয়েছে তার সাথে সাধারনত সবাই কম বেশি পরিচিত। এই রোগের ফলে সাধারনত ঠাণ্ডা বা অধিক গরম কিছু খেলে অথবা পান করলে দাঁত কিংবা মাড়িতে শিরশির অনুভূতি হয়, যা সাধারনত দীর্ঘ সময় চলতে থাকে। কারও কারও শুধু ঠাণ্ডাজাতীয় খাদ্যদ্রব্যের কারনে হয় আবার কারও কারও শুধু গরমজাতীয় খাদ্যদ্রব্যের কারনে হয়। আবার কারও কারও উভয় প্রকার খাদ্যদ্রব্যের কারনেই কম বেশি সমস্যা হয়।

 

প্রতিকারঃ নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে একাধিকবার দাঁত ব্রাশ করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হয়। আর যদি প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ বুজতে পারেন তাহলে লবন দিয়ে দাঁতে নিয়মিত কুলি করতে পারেন।

  • এরপর যে রোগটি বেশি লক্ষ্য করা যায় তার বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে “গাম ডিসিস”। অতিরিক্ত চকলেট, চুইংগাম, পান বা মুখে দীর্ঘ সময় রাখার ফলে যে রোগগুলো হয়ে থাকে তাকেই “গাম ডিসিস” বলা হয়। আপনার সচেতনতাই এই রোগ থেকে আপনাকে মুক্ত রাখতে পারে।

 

  • “ড্রাই মাউথ” বা অতিরিক্ত শুষ্ক মুখের কারনে এই রোগ হয়ে থাকে। যা আপনার মাড়িতে ঘাঁ সৃষ্টি করে, দাঁত দ্রুত পড়তে সহায়তা করে। তাই পরিমিত পানি পান থেকে এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

 

উপরোক্ত বিভিন্ন রোগের কারনে যদি আপনি ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার আজই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক এর শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। কারন তিনি আপনার দাঁতের অবস্থার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ব্রিজিং, ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্টস, ইনভিসালিন, ক্রাওন্স, অরাল প্রপিলাক্সিস, ফিলিংস, রুট ক্যানেল ইত্যাদি কোনটির মাধ্যমে আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন তা নির্দেশ করবেন এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।

আপনার নিকটস্থ এবং সেরা দাঁতের চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠান খুঁজে নেওয়ার জন্য নিম্নোক্ত ঠিকানায় খুঁজে দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ রইলঃ http://www.exchangebangladesh.com/category-second.php?l=Dental-Technicians

আপনাদের সবার সুন্দর দাঁত এবং সুন্দর হাসির প্রত্যাশায় আজকের মত বিদায় নিচ্ছি।