ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমি ঢাকায় থাকি। ১৫ আগষ্টের দিন সকাল বেলা আমার গ্রামের দূর সম্পর্কের চাচার ফোনে ঘুম ভাঙল।ফোন রিসিভ করার পর চাচা আমাকে বললেনঃ “তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে যাবো।।” কথাটা শুনে থমকে গেলাম কারণ জীবদ্দশায় বুড়ো বাবাকে (৫ বছর হল মারা গেছে) যে খেতে দেয়নি, বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে আলাদা থেকেছে। এমনকি বাড়ির পাশে বাবার কবর একদিন জিয়ারত করতে গেছেন কিনা সন্দেহ!!বা বার কবর শনাক্ত করার জন্য যিনি একটা খুটি বা গাছ না লাগিয়ে ,টাকা বাঁচিয়েছেন! সেই লোক কিনা নিজের পকেটের ২০০ টাকা বাস ভাড়া দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে যাবেন ফুল দিতে বিশ্বাস হচ্ছিল না।।।তারপরও ভাল লাগছিলযে লোকটি একটি ভাল কাজ করতে যাচ্ছে।।কিন্তু ওনার পরের কথাগুলো আমাকে মাটিতে নামিয়ে আনল।। চাচা আমাকে সাথে ছবি তোলার ক্যামেরা নিতে বললেন। তিনি ছবি তুলে তা দিয়ে পোস্টার ছাপাবেন,যাতে আওয়ামী লীগার হিসেবে তার প্র্রচার, সুনাম ও কদর বৃদ্ধি পায়।।তার আসল উদ্দেশ্য কি ছিল-জাতির পিতাকে সম্মান জানানো নাকি জাতির পিতার নাম ভাঙ্গিয়ে ফায়দা লোটা?

মনে মনে ভাবি আমরা বঙ্গবন্ধু সাথে আর কত প্রতারনা করব! তাই আবারো আফসোস করে কবিগুরু রবিঠাকুরের সাথে কণ্ঠ মিলাতে হয়ঃ তুমি বাঙালিকে রেখেছ বাঙালি করে,,মানুষ করোনি।