ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

roti

শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের প্রিয় খাবার রুটি। আবার অনেকের ক্ষেত্রে রুটি পথ্য হিসেবে খাবারের রুটিন মেনু হয়ে গেছে।যা হাতে বানাতে কিছুটা কষ্টদায়ক।এ কষ্ট লাঘব করার জন্য রুটি তৈরিতে দেশে-বিদেশে আবিষ্কারের চেষ্টা করা হয়েছে ছোট বড় মেশিন।

কেউ রুটি খেতে ভালবাসে, কেউ পথ্য হিসেবে খায় আবার কেউ কেউ মনে করে এটা গরীবের খাবার। ইসলাম ধর্মে রুটি খাওয়ানো সুন্নত। শবেবরাত এর বরকতময় রাতে ইসলাম ধর্মের সবাই রুটি খায়।এছাড়াও আমিরুল মুমিনিন আলী(আ.) ঘরের কাজে ফাতিমা(সা.)-কে সহায়তা করতেন বলে বহু বর্ণনা রয়েছে। তিনি ঘরের চুলার জন্য লাকড়ি বয়ে আনতেন, ঘরের জন্য পানি আনতেন এবং ঘরে ঝাড়ু দিতেন। অন্যদিকে ফাতিমা (সা.) আটা বানাতেন,খামির করতেন ও রুটি তৈরি করতেন।

বাইবেলে রুটিকে পবিত্র রুটি বলা হয়েছে। বাইবেলে মথি, মার্ক, লুক, যোহন সবাই যিশুর ৫ হাজার লোক কে রুটি খাওয়ানোর সেই অলৌকিক ঘটনা বলেছেন। লুকঃ ৯:১৩-১৭..তে লেখা আছে…. কিন্তু যীশু তাঁদের বললেন,‘তোমরাই এদের খেতে দাও৷’কিন্তু তারা বললেন,‘আমাদের কাছে তো পাঁচখানা রুটি আর দুটো মাছ ছাড়া আর কিছুই নেই৷আমরা গিয়ে কি এই সব লোকদের জন্য খাবার কিনে আনব?’

14 সেখানে পুরুষ মানুষই ছিল প্রায় পাঁচ হাজার৷কিন্তু যীশু তাঁর শিষ্যদের বললেন,‘ওদেরকেএক একদলে পঞ্চাশ জন করে বসিয়ে দাও৷’ 15 তাঁরা সেই রকমই করলেন,তাদের সকলকেই বসিয়েদিলেন৷ 16 এরপর যীশু সেই পাঁচখানা রুটি ও দুটো মাছ নিয়ে সেগুলোর জন্য স্বর্গের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন৷ পরে তিনি সেগুলোকে টুকরো টুকরো করে তা পরিবেশন করার জন্য শিষ্যদের হাতে দিলেন৷ 17 সকলে বেশ তৃপ্তিকরেখেল,বাকি যা পড়ে রইল তা একসঙ্গে জড় করলে বারো টি টুকরি ভরে গেল৷

আমারা কাজী নজরুল ইসলামের সেই ছোটবেলার কাহিনী জানি, যখন তার ৯ বছর বয়সে বাবা মারা যায়, তখন তাকে রুটি বানানোর কাজ করতে হয়েছে সেই সাথে তা কে মসজিতের আযান দেয়ার কাজও করতে হয়েছে। তেমনই আর একজন মানুষ এর কথা বলছি……

প্রায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মূলকেন্দ্রবিন্দুতে যে লোকটি তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়িপ এরদোগান। ক্যারেশমেটিক লিডারশিপ বলতে যা বুঝায় সবই আছে এই মানুষটির মধ্যে। অসাধারণ বক্তব্য,অন্যকে নিজের প্রতিআকর্ষন করার প্রচন্ডক্ষমতা,অদম্য নেতৃত্বের গুনাবলী, দক্ষসংগঠক, চমৎকার কুরআন তেলওয়াতকারী, আবৃত্তিকার, গায়ক এমন কি জনপ্রিয় একজনফুটবলার ও তিনি। মুহুর্তেই লাখো মানুষকে মাতিয়ে দিতে পারেন। ঘন্টার পর ঘন্টা যাদুর মতই লাখো লাখো মানুষ পিনপতননিরবতায় মনোমুগ্ধকর ভাবে উনার বক্তব্য শুনেন। উনার নেইক্লান্তি। ছুটে চলছেনতো চলছেনই। অনেকটা একক ভাবেই চালান দল,দেশ ও জনগনকে। ১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী একনিন্ম-মধ্যবৃত্ত পরিবারে উনার জন্ম। উনার পিতা কোস্টগার্ডে চাকুরী করতেন। এরদোগানের জীবনের আরেকটি আশ্চর্যের বিষয়হল উনিএকজন মাদরাসার ছাত্র। ইস্তাম্বুলের  একটি মাদরাসা থেকে হাইস্কুল লেভেল শেষ করেন ১৯৭৩সাল।

স্কুল  কলেজ লেভেলে পড়া অবস্থায় পরিবারকেআর্থিকভাবে সহায়তা করতে উনি শহরের রাস্তায় লেবুর শরবত  

সিমিট (তুরস্কে জনপ্রিয় একধরনেররুটিবিক্রি করতেনরুটি খাওয়ার সাথে পবিত্রতার একটাসম্বন্ধ লুকিয়ে  আছে মনে হয়। এখন ডাক্তারের কাছে গেলেও ঘুরে ফিরে ঐ ২বেলা রুটি খেতে বলে। 

তাই মনে হয় অসলেই রুটি আমাদের জন্য আর্শিবাদ।

–জেমস্‌ মার্টিন অধিকারী