ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

‌আগষ্ট মাসে আডিইবির প্রেসিডেন্ট আমাদের সাথে প্রবীন বিজ্ঞান প্রেমিক মিঃ মজিদ এর পরিচয় করিয়ে দেন।আমরা জানতে পারলাম তিনি ১৬ বৎসর আগে ভোট কাষ্টিং এন্ড কাউন্টিং মেশিন তৈরী করেন এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও যাদুঘর এর পুরূষ্কার লাভ করেন।মেশিনটি ইলেকশন কমিশনকে দেখানো হয়।কমিশন থেকে তাকে আগষ্ট মাসে একটি চিঠি দেওয়া হয় এই মর্মে যে, তিনি যদি মেশিনটির মেমরী ধারন ক্ষমতা বাড়াতে পারেন এবং ডাটা কোন চিপে প্রেরন করে ৫ বছর তা সংরক্ষণের ব্যাবস্থা করতে পারেন, তবে কমিশন এই মেশিন গ্রহন করতে পারে।

মজিদ সাহেব অনেক প্রবীন ব্যাক্তি, তিনি ইলেক্ট্রনিক্স এ অভিজ্ঞ কিন্তু ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স এ বা কম্পিউটারে তার কোন দখল না থাকায় তিনি সাহায্যের জন্য ঘুরতে ঘুরতে এক পর্যায়ে আডিইবির সরণাপন্ন হন। আডিইবি থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, আমরা মজিদ সাহেবকে ও তার উদ্দ্যোগকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এগিয়ে আসি।সময়টা সেপ্টেম্বর মাস ২০১১ সন। বুঝতেই পারছেন, হাতে সময় নেই । কমিশন চলে যাবে চার মাস পরে।তার আগেই কাজ শেষ করতে হবে।সেপ্টেম্বর গেল ইভিএম এর উপর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে।আমি ও মজিদ সাহেব সহ ৫ জনের একটি টিম তৈরী করলাম অক্টোবর থেকে শুরু হল মেশিন তৈরীর কাজ।আমি জেমস্‌ মার্টিন অধিকারী এখানকার নির্বাহী পরিচালক ও ইভিএম প্রজেক্টের চিপ কোর্ডিনেটর এবং প্রায় ১৮ বৎসর যাবত বাংলাদেশে বিভিন্ন মেশিন ডিজাইন ও মেনুফেকচারিং কাজে আমার অবদান রয়েছে।তাই আমার নেতৃত্বে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একটি প্রটোটাইপ মেশিন তৈরী শেষ হয়, যার ম্যাকানিক্যল ও ইলেক্ট্রনিকস সকল ডিজাইন আমি নিজে করেছি।আমাদের দ্বিতীয় মডেলটি আগামি ২সপ্তাহ পর শেষ হবে।

আমরা ডিসেম্বর থেকে কমিশনে চিঠি দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কমিশন বর্তমানে এত ব্যাস্ত যে আমাদের মেশিনটি তাদের দেখাতে পারছি না।আমাদের দ্বিতীয় মডেলটি শেষ করে আমরা একটি কনফারেন্স করবো।আমাদের মেশিনটি ইউনিভার্সাল।এটি সব ধরনের ভোট কার্যে ব্যাবহার উপযোগী।এর প্রধান ফিচার হল, মেশিন ভোটার কে প্রিন্ট দেবার পরিবর্তে ডিজিটাল স্ক্রিনে কিছুক্ষণের জন্য প্রিন্ট দেখিয়ে দেবে।এছাড়াও আরো নতুন ফিচার রয়েছে, যা এ মুহুর্তে বলা যাবে না, কিন্তু পরে অবশ্যই জানতে পারবেন।আমাদের মেশিনের মূল্য ঐ মেশিনের থেকে ১৫হাজার টাকা কম পরবে।এছাড়া মেশিনের রক্ষণাবেক্ষণ এর জন্য একটি অটোমেটিক প্রকল্প ডিজাইন করার বিষয় আমাদের পরিকল্পনায় আছে।যা ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যায় হ্রাস করবে।আমরা ষ্টোরেজ রেকিং সিষ্টেম মেনুফেকচারিং করি, তাই এর সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে সমস্ত সিষ্টেম আমাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে হলে খরচ অনেক কম পরবে।

বুয়েট ও সেনাবাহিনী এমন দুটি প্রতিষ্ঠান, যারা এদেশে খুবই বিশ্বাস যোগ্য দুটি প্রতিষ্ঠান।সরকারের উচিত এই সুনাম যাতে প্রশ্নের সম্মুখীন না হয় সে ভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া।বিরোধীদল যে ভাবে মুখোস্থ কথা বলে বিরোধীতা করছে আমি তাদের সাথে একেবারে একমত না।